বিজ্ঞাপন দিয়ে অভিনয়ে পা রাখেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। তারপর ‘অ্যাট এইটিন অলটাইম দৌড়ের ওপর’ নাটকে অভিনয় করে পেয়েছেন দর্শকপ্রিয়তা। তার পর থেকে একে একে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক উপহার দিয়েছেন তিনি। তার বর্তমান কাজ ও নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদ রহমান
গত ঈদে আপনার বেশ কয়েকটি নাটক এসেছে। নাটকগুলোয় প্রত্যাশা অনুযায়ী কেমন সাড়া পেয়েছেন?
আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। নাটকগুলো ভালো ভিউ পেয়েছে এবং মানুষজন অনেক পছন্দ করেছে। এবার আমি অধিকাংশ রোমান্টিক ঘরানার কাজ করেছি। দর্শক আমাকে রোমান্টিক নাটকে দেখতে চান। সেখান থেকে তাদের জন্য রোমান্টিক গল্পে কাজ করেছি। আমার লাস্ট ‘গুডবাই’ নাটকটি এসেছে। এটি একটু ভিন্ন ধারার গল্প ছিল, রোমান্টিক ছিল না। এটা একটা ট্র্যাজেডি নাটক ছিল। একটা মেয়ের জীবনের গল্প। চিন্তা করেছিলাম, দর্শক এটা পছন্দ করবে কিনা। কিন্তু পরে দেখলাম খুব পছন্দ করেছে এবং নাটকটির জন্য অনেক প্রশংসা পাচ্ছি।
বর্তমানে কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
এবার আমি যে কাজগুলো করেছি সব এখনো অনইয়ার হয়নি, সেগুলোর জন্য অপেক্ষা করছি। এছাড়া আমি একটা ব্র্যান্ডের সঙ্গে সাইনআপ করেছি। লাস্ট দুদিন ওটার টিবিসি শেষ করলাম। আমি আসলে মেয়েদের উৎসাহিত করতে অথবা মেয়েদের জীবনের গল্প বলতে এবং কাজ করতে পছন্দ করি। বাংলাদেশের একটা প্রথা আছে, বাইক মানেই ছেলেরা চালাবে, কিন্তু মেয়েরাও যে বাইক চালাতে পারে এ নিয়ে আমি তাদের উৎসাহিত করেছি। অফিস, স্কুল, কলেজ যেখানেই হোক না কেন মেয়েরাও স্কুটি ব্যবহার করতে পারে, সুজুকিতে এমন একটা টিবিসিতে কাজ করেছি। এতে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।
রোমান্টিক, ইমোশনাল, ট্র্যাজেডি কোন ধরনের গল্পে আপনি কাজ করতে পছন্দ কিংবা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?
আমি সব গল্পেই কাজ করতে পছন্দ করি। আমাদের জনরা আছেইবা কয়টা। তার মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি মজা লাগে থ্রিলার গল্প করতে। এছাড়া রোমান্টিক কাজ তো আমার সবসময়েরই পছন্দ। রোমান্টিক ও থ্রিলার এ দুটো করতেই বেশি পছন্দ করি।
আপনি ওটিটি প্লাটফর্মে কাজ করেছেন। এ প্লাটফর্মে কাজ করার অভিজ্ঞতা যদি শেয়ার করতেন।
অবশ্যই ওটিটিতে কাজ করতে ভালো লাগে। আসলে সব জায়গায়ই কাজ করতে ভালো লাগে। টিভি নাটক, সিনেমা বা ওটিটি প্লাটফর্ম বলে কিছু না। যেখানে আমরা সুন্দর একটা গল্প পাই, সুন্দর একটা টিম পাই, সেখানেই কাজ করার শক্তিটা বেড়ে যায়। গত ঈদে এটা প্রমাণ হয়েছে যে টিভি নাটক কোনো অংশে ওটিটি থেকে কম নয়। কারণ এখন নাটক অনেক বড় পরিসরে কাজ হচ্ছে। বড় বাজেটে কাজ হচ্ছে। অনেক প্ল্যান করে কাজ হচ্ছে। অনেকদিন পরিকল্পনা করে সময় নিয়ে কাজ করছে। বলা যেতে পারে, এখন নাটকের সুন্দর একটা সময় চলছে, পাশাপাশি সিনেমায়ও এখন সুন্দর সময় যাচ্ছে।
আর ওটিটির ব্যাপারটা আমি বলব ভিন্ন। ওখানে অনেক বড় টিম, বড় গল্প। সেখানে কাজ করার অভিজ্ঞতাটাই ভিন্ন। আমি বলব নাটক, ওটিটি, সিনেমা প্রত্যেকটিই নিজের জায়গা থেকে ভালো করছে।
কিছুদিন আগে আপনার মা আরটিভির ‘স্বপ্নজয়ী মা’ পুরস্কার পেয়েছে। আপনার অনুভূতি কেমন ছিল তখন?
এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামে খুব কম অংশগ্রহণ করি। এ বছর মা দিবস উপলক্ষে আমার মাকে স্বপ্নজয়ী মা উপহার দেয়া হলো, এমনকি বাবা দিবসে আমার বাবাকে গর্বিত অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়েছে। এ বছরের দুটো মুহূর্ত আমার জন্য অনেক বেশি স্পেশাল ছিল। কারণ সন্তানরা তো চায় সবসময় মা-বাবাকে খুশি দেখতে। আমার কাজের কারণে সবার সামনে তারা এমন একটি সম্মাননা পেয়েছে, এটা আমার জন্য অনেক খুশির ব্যাপার। আমি গর্বিত যে মা-বাবাকে খুশি করতে পেরেছি।
আমার পরিশ্রমের জন্য এখন কিছু একটা হয়তো হয়েছে, যার কারণে মা-বাবাকে হয়তো অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়েছে। সে জায়গা থেকে আমার পরিবার অনেক খুশি। আমিও অনেক খুশি।
দীর্ঘদিন মিডিয়ায় কাজ করেছেন। এখন নিজেকে কতটা সার্থক মনে করছেন?
আমার কাছে মনে হয়, সার্থকতা বলতে মা-বাবা যে অ্যাওয়ার্ড পেল এটাই অনেক বড় আমার জীবনে। না খেয়ে রাত্রী জেগে কাজ করেছি, সব সার্থক মনে হচ্ছে। আমার বাবা-মা অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পর আমার কাছে মনে হয়েছে, আমার এখানে কাজ করাটা আসলেই সার্থক।
আপনার ক্যারিয়ারে কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো স্মৃতি আছে কি?
এমন স্মৃতি তো অনেক আছে। তবে নির্ধারণ করে কোনো স্মৃতি না বলে সার্বিকভাবে যদি বলি, এ জায়গায় এসে একজন মানুষ হিসেবে আমি অনেক পরিবর্তন হয়েছি। একটা সময় আমি অনেক চুপচাপ ছিলাম। খুব বেশি লাজুক প্রকৃতির ছিলাম। কিন্তু এখন অনেকের সঙ্গেই স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পারি।
আপনার সুন্দর গেটআপ, পোশাক, গর্জিয়াস সাজসজ্জা, অন্যদের থেকে নিজেকে সুন্দর করে রাখার রহস্যটা কী?
রহস্য কিছু নেই। এটা একেকজনের ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে। আমি একটু আপডেটেড ফ্যাশন পছন্দ করি। ফ্যাশনের সঙ্গে চলতে পছন্দ করি। আমার কাছে নতুন ফ্যাশন খুব ভালো লাগে। নতুন যেটা মার্কেটে চলে, যেমন এখন কী কালার মার্কেটে চলছে, কী কাপড়ের প্যাটার্ন চলছে বা সামনে কী চলতে পারে, সামনে কোন মেকআপ আসতে পারে, কোন হেয়ার স্টাইল হতে পারে, এগুলোর খোঁজখবর রাখি এবং আমি আপডেটেড হতে পছন্দ করি। এজন্য হয়তো আমাকে একটু আলাদা বা সময়োপযোগী মনে হতে পারে।
সাফা কবিরকে বড় পর্দায় কবে দেখা যাবে?
একজন আর্টিস্ট হিসেবে আমার অবশ্যই সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছা আছে। সিনেমার জন্য আমি ভালো গল্প ও ডিরেক্টরের অপেক্ষায় আছি। আমার শুরুটা কোনো সুন্দরী প্রতিযোগিতার প্লাটফর্ম বা অন্য কোনো প্রোগ্রাম থেকে হয়নি। একটি টেলিফিল্ম দিয়ে আমি শুরু করেছি। প্রথম যে টেলিফিল্ম করেছিলাম, এটি দীর্ঘদিন মানুষ মনে রেখেছিল। এখনো এ নাটকের নাম সবাই জানে। তাই আমি চাই, আমার সিনেমাও এমন হোক। দীর্ঘদিন মানুষের মনে রাখার মতো। এমন একটা গল্পের জন্য অনেকদিন থেকেই অপেক্ষা করছি। যখন পাওয়া হবে, তখনই সিনেমা করা হবে।