ক্ষমতা ও অভিজাত সমাজের গল্প নিয়ে ‘গুলশানের চামেলী’

রাজনীতি ও অভিজাত সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মাণ হচ্ছে মো. ইকবাল পরিচালিত সিনেমা গুলশানের চামেলী।

গল্পের কেন্দ্রে থাকবেন একজন যৌনকর্মী, যিনি কোনো অপরাধ না করেও ক্ষমতার নির্মম খেলায় বারবার শিকার হন। আব্দুল্লাহ জহির বাবুর চিত্রনাট্যে নির্মিত এ সিনেমা আগামী বছরের কোনো এক ঈদে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। সিনেমায় থাকছেন ওপার বাংলার মধুমিতা সরকারসহ দেশের নতুন-পুরনো একঝাঁক তারকা।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের পদ্মা হলে গত শনিবার অনুষ্ঠিত হয় সিনেমাটির জমকালো মহরত। উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রটির কলাকুশলী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

চলচ্চিত্রটির গল্প প্রসঙ্গে পরিচালক মো. ইকবাল বলেন, ‘গুলশানের চামেলী একটি ব্যতিক্রম গল্পনির্ভর চলচ্চিত্র। গল্প, অভিনয় ও নির্মাণশৈলীতে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়েছে। শিগগিরই সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে।’ সিনেমাটি নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মো. ইকবাল আরো বলেন, ‘বর্তমানে সিনেমাটির প্রি-প্রডাকশনের কাজ চলছে এবং শিগগিরই শুটিং শুরু হবে। পাঁচ বছর আগে সিনেমাটির ঘোষণা দেয়া হলে নানা কারণে তখন কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।’

প্রায় আট বছর পর এ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় ফিরছেন আমিন খান। দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে, অনেক দিন পর সিনেমায় কাজ করছি। আমি বলব, সুযোগ হয়েছে। মাঝে অনেকটা সময় গ্যাপ দিয়েছি। কেন জানি না ব্যাটে-বলে মিলছিল না। নির্মাতা ইকবাল যখন প্রস্তাব দিল, তখন মনে হলো সিনেমাটি করা যায়।’

এছাড়া এ সিনেমায় গুণী অনেক শিল্পী কাজ করছেন। সবার চেষ্টা থাকবে একটি সুন্দর সিনেমা উপহার দেয়ার।’

চলচ্চিত্রটির অন্যতম অভিনেত্রী কলকাতার জনপ্রিয় তারকা মধুমিতা সরকার। এই প্রথমবার বাংলাদেশে এসেছেন তিনি।

মধুমিতা বলেন, ‘বাংলাদেশে এসে কোনো সিনেমায় কাজ করব, এ নিয়ে এর আগে অনেকবার কথা হয়েছিল। নানা কারণে আসা হয়নি। এই প্রথমবার বাংলাদেশ আসা। এসে অনেক আন্তরিকতা পেলাম। মনেই হচ্ছে না, প্রথমবার এলাম। ইকবাল ভাইকে ধন্যবাদ আমাকে এ সুযোগ দেয়ার জন্য যে আমি সিনেমাটা করতে পারছি। সিনেমার গল্পটাও অন্য রকম, খুবই ইউনিক। এর আগে এ ধরনের চরিত্রে কখনো অভিনয় করিনি। চরিত্রটি আমার জন্য একেবারেই নতুন ও চ্যালেঞ্জিং। আমি সিনেমাটা করার জন্য প্রচণ্ড এক্সাইটেড। প্রচণ্ড আপ্লুত যে এত সুন্দর একটা টিমের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছি। সবার এত উৎসাহ দেখেও আমার খুব ভালো লাগছে। আশা করছি, দর্শক আমাকে নতুন রূপে দেখতে পাবে।’

গল্প ও চরিত্র দুটোই ভীষণ পছন্দ হয়েছে বলে জানান মধুমিতা। চরিত্রটিতে একাধিক স্তর থাকায় অভিনয়ের সুযোগও অনেক বলে মনে করেন তিনি। মহরত শেষে শিগগিরই সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে জানিয়ে মধুমিতা বলেন, ‘পুরো টিম অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে এবং আমি আশাবাদী, সিনেমাটি দর্শকের ভালো লাগবে।’

এ সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনও।

তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করেছে, তুমি এ সিনেমায় কেন। আমি আসলে নতুন একটা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে চাই। আমি চাই না যে আমাকে বলা হোক, আমি শুধু রেহানা মরিয়ম নূরই করতে পারি। আমি চাই, এমন একজন শিল্পী হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ আমাকে মনে রাখবে, যে সব ধরনের সিনেমা করতে পারে বা করতে জানে। এ সিনেমায় যারা আছেন, তাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা বিশাল ব্যাপার। সিনেমায় মিশা ভাই, রোজিনা আপা, আমিন ভাই, মধুমিতাসহ আমাদের নতুন আরেকজন অভিনেত্রী আছেন, সবাই মিলে আমরা একটা ভালো কাজ উপহার দেয়ার চেষ্টা করব।’

মহরত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক আমিন খান, অভিনেতা ওমর সানী, চিত্রনায়িকা রোজিনা, অভিনেতা মিশা সওদাগর, বরেণ্য নির্মাতা কাজী হায়াতসহ, অভিনেতা অনন্ত জলিলসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরো অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

আরও