লিসা গাজীর ‘শাস্তি’তে প্রথমবার জুটি বাঁধলেন চঞ্চল-পরীমণি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প শাস্তি অবলম্বনে নির্মিত হতে যাচ্ছে নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র শাস্তি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প শাস্তি অবলম্বনে নির্মিত হতে যাচ্ছে নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র শাস্তি। লিসা গাজীর পরিচালনায় এ সিনেমায় প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধছেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও চিত্রনায়িকা পরীমণি। চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয় গতকাল রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

নির্মাতারা জানিয়েছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূল গল্পকে ভিত্তি করে কাজ করা হলেও এটি সরাসরি বা হুবহু পুনর্নির্মাণ নয়। বরং বর্তমান সময়, সমসাময়িক সমাজ ব্যবস্থা ও ভাষার আলোকে গল্পটিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে দর্শক পরিচিত গল্পের ভেতরেই দেখতে পাবে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও আধুনিক বাস্তবতার প্রতিফলন।

পরিচালক লিসা গাজী বলেন, শাস্তি গল্প নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা অনেক দিনের। আজকের দিনে রবীন্দ্রনাথের শাস্তি কীভাবে দেখা যেতে পারে, সে প্রশ্ন থেকেই সিনেমাটির ভাবনার জন্ম। রবীন্দ্রনাথের গল্পে যে শাস্তির বীজ রয়েছে, সেটিকে নতুন বাস্তবতায় রোপণ করাই এ চলচ্চিত্রের মূল লক্ষ্য।

সিনেমার মহরত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীও। তিনি বলেন, ‘‌সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সিনেমা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক দূর এগিয়েছে এবং এ অগ্রযাত্রা সবার জন্যই গর্বের।’ তিনি মনে করেন, ভালো কাজের মাধ্যমেই দেশের সিনেমা বিশ্বমঞ্চে আলাদা পরিচিতি পেতে পারে। সে লক্ষ্য নিয়েই তিনি কাজ করে যেতে চান। রবীন্দ্রনাথের গল্পে কাজ করার সুযোগকে তিনি নিজের জন্য বড় এক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন। এর আগে রবীন্দ্রনাথের গল্পে তার কাজ করা হয়নি বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি নির্মাতার ভাবনা ও গল্পের গভীরতাই তাকে এ সিনেমায় যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাস্তি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী ও মানবিক গল্প হিসেবে বিবেচিত। সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক টানাপড়েন, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং নারীর নীরব আত্মত্যাগের বিষয়গুলো গল্পটিকে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে। মূল গল্পে দুই ভাই চিদাম ও দুখিরামের সংসারজীবনের মধ্য দিয়ে কাহিনী এগোয়। এক তুচ্ছ ঘটনার জেরে দুখিরামের স্ত্রী নিহত হন এবং নিজের অপরাধ আড়াল করতে চিদাম হত্যার দায় চাপিয়ে দেন স্ত্রী চন্দরার ওপর। নির্দোষ হয়েও চন্দরা সে দায় স্বীকার করে নেন। মৃত্যুদণ্ডের আগে সত্য বলার সুযোগ পেলেও তিনি নীরব থাকেন। এ নীরবতাই হয়ে ওঠে আত্মসম্মান, বিশ্বাসভঙ্গ ও অবিচারের বিরুদ্ধে এক গভীর প্রতিবাদ।

চলচ্চিত্রটির প্রযোজনায় যুক্ত রয়েছে একাধিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। পরিচালক ও শিল্পীদের ধারণা, শাস্তি শুধু একটি সাহিত্যকর্মের চলচ্চিত্র রূপ নয়; বরং এটি সমকালীন সমাজে নারীর অবস্থান, নৈতিক সংকট ও মূল্যবোধের প্রশ্ন নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে দর্শককে। এ কারণে সিনেমাটি দর্শকমহলে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করবে বলে তারা আশাবাদী।

আরও