আমাদের দেশে শিল্পীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নাই

টিভি নাটকের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান। বর্তমানে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় বসবাসরত রিচি স্বামী ও সন্তান নিয়ে সংসার করছেন।

টিভি নাটকের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান। বর্তমানে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় বসবাসরত রিচি স্বামী ও সন্তান নিয়ে সংসার করছেন। তবে মাঝে মাঝেই তিনি দেশে বেড়াতে আসেন। তেমনি সম্প্রতি আবার ঢাকায় এসেছেন।

দেশে এলেই তাকে ঘিরে শোবিজ অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়, ‘তিনি কি কাজে ফিরছেন?’ ঢাকায় ফিরে এমন প্রশ্নই আবার ঘুরপাক খাচ্ছে।

কিন্তু রিচি সোলায়মান একেবারেই ভিন্ন সুরে বললেন, ‘আমি কাজে ফিরতে চাই, এমন কোনো কথা কাউকে বলিনি। কেন এমন নিউজ হলো, সেটাও আমি জানি না। ঢাকায় ফেরার পর কাউকেই ইন্টারভিউ দিইনি। তাই ‘‘কাজে ফিরছেন রিচি’’ এ ধরনের খবর আমার কাছে আসলে অপদস্থ হওয়ার মতো এবং বিব্রতকর।’

তবে কাজ থেকে পুরোপুরি সরে যাননি তিনি। দেশে ফিরে টুকটাক কিছু কাজ করেছেন। রিচি বলেন, ‘কোকাকোলার বিজ্ঞাপন করেছি, প্রাণ টোস্টের বিজ্ঞাপন করেছি, কয়েকটা নাটকে অভিনয় করেছি। এমনকি একটি ওটিটির কাজ করেছি, যেটার শুটিং হয়েছে কলকাতায়।’

নিয়মিত নয়, শখের জায়গা থেকে কাজ করা

বর্তমানে কাজ করার ব্যাপারে তার স্পষ্ট জবাব, ‘আমি নিয়মিত কাজ করতে চাই না, আর করবও না। তাছাড়া কেউ সেভাবে প্রস্তাবও দেবে না, কারণ আমি ওই ট্র্যাকে নেই। তবে আমার হাজব্যান্ড, ভাইবোন, পরিবার বলে, ‘‘যেহেতু তুমি দেশে আছ, তাই সুযোগটা কাজে লাগাও। সুযোগ তো সবসময় আসে না।’’ তখন এক-দুইটা কাজ করি। তবে এটা প্রফেশনাল কিছু নয়, বরং শখের মতো।’

ভিন্নধর্মী চরিত্রে আগ্রহ

ভালো কোনো প্রস্তাব এলে কোন ধরনের চরিত্র বেছে নেবেন? রিচি বললেন, ‘আমি যে ধরনের চরিত্রে আগে অভিনয় করিনি, সে ধরনের গল্পকে অবশ্যই প্রাধান্য দেব। চাইব, যে গল্পে আমি কাজ করব, সেটায় দর্শকের জন্য কিছু অনুপ্রেরণার দিক থাকুক। যেন মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারি। একই ধরনের গল্প বা চরিত্র আমাকে টানে না। আমি চাই, কাজটা যেন আমাকে ভেতর থেকে নাড়া দেয়। চরিত্রটা যদি নতুন কিছু শেখায় বা আমাকে অন্যভাবে উপস্থাপন করে, তবেই সেটা করতে আগ্রহী হব।’

শিল্পীদের নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশা

বর্তমান শিল্পীজীবনের বাস্তবতা নিয়ে হতাশ রিচি সোলায়মান। ‘আমাদের দেশের শিল্পীদের কোনো সামাজিক নিরাপত্তা নেই, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও নেই। একসময় মনে হতো, অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেয়া যায়। কিন্তু এখন পর্যাপ্ত সম্মানও নেই, নিরাপত্তাও নেই। আজ আমাকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কেউ অপমান করলে তার প্রতিবাদ করার মতো কেউ থাকবে না। শিল্পীরা যে পরিমাণ কাজ করে, সে অনুযায়ী প্রাপ্য সম্মান পায় না, গুটিকয়েক শিল্পী ছাড়া।’

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘একসময় ফজলুর রহমান বাবু ভাই ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে অভিনয়ে এসেছেন। তৌকীর ভাই আর্কিটেক্ট প্রফেশন ছেড়ে পুরোপুরি মিডিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। এখনকার বাস্তবতায় অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তার মতে, প্রতিটি শিল্পীর অভিনয়কে শখের জায়গায় রেখে পাশাপাশি একটি স্থায়ী আয়ের উৎস থাকা জরুরি।

নাটকের মান নিয়ে হতাশা

বাংলাদেশী নাটকের বর্তমান মান নিয়েও কথা বললেন রিচি সোলায়মান। ‘আমরা এক দুর্ভাগা জাতি। কাউকে বোঝাতে পারিনি যে একটি দেশের সংস্কৃতি একটি জাতির মেরুদণ্ড। সংস্কৃতির জায়গাটা সবসময় অবহেলিত থেকেছে। সংস্কৃতি ভালো না হলে দেশও পিছিয়ে যাবে। কিন্তু আমরা সামনে এগোইনি, বরং পিছিয়েছি। এর জন্য সবাই দায়ী।’

নাটকের মান নিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘বাংলা নাটক নিয়ে যদি বলি, বর্তমানে চ্যানেলগুলো বাক্স হয়ে গেছে। আগের নাটকে বাবা-মা থাকত, কতগুলো চরিত্র থাকত। এখনকার নাটকে শুধু নায়ক-নায়িকা থাকে। বাজেটের কারণে বাবা-মায়ের চরিত্রও রাখা যায় না। আগের মতো ভালো নাটক এখন কম তৈরি হয়।

আরও