২০৩১ সালে বিধ্বস্ত হতে পারে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন

২০৩১ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) পৃথিবীতে ভেঙে পড়বে বলে ধারণা করছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। ২০৩০ সাল পর্যন্ত মহাকাশ স্টেশনটি এর নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এরপরই স্টেশনটি বিধ্বস্ত হবে। খবর সিএনএন।

২০৩১ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) পৃথিবীতে ভেঙে পড়বে বলে ধারণা করছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। ২০৩০ সাল পর্যন্ত মহাকাশ স্টেশনটি এর নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এরপরই স্টেশনটি বিধ্বস্ত হবে। খবর সিএনএন।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নাসা জানিয়েছে, আইএসএসের কার্যক্রম বন্ধ করার রোডম্যাপ হিসেবে ২০৩১ সালের জানুয়ারিতে এর কক্ষপথ থেকে সরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের প্রান্তিক অঞ্চল পয়েন্ট নিমো নামক জলজ কবরে মহাকাশ স্টেশনটিকে বিধ্বস্ত করা হবে। এর আগেও অসংখ্য পুরোনো কৃত্রিম উপগ্রহ এবং মহাকাশের অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পয়েন্ট নিমোতে ভেঙে পড়েছে। ২০০১ সালে রুশ মহাকাশ স্টেশন মির সেখানেই বিধ্বস্ত হয়।

১৯৯৮ সালে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে মহাকাশ স্টেশনটি স্থাপন করা হয়। তখন থেকেই এই প্রজেক্টটিতে বিনিয়োগের জন্য বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে নাসা। তবে  ২০১৬ সালে বিজলো অ্যারোস্পেস নামে একটি বেসরকারি কোম্পানির তৈরি একটি মডিউল মহাকাশ স্টেশনের মাঝখানে বসানো হয়েছিল। বিম নামে মডিউলটির প্রাথমিক কাজ ছিল মহাকাশে বায়ুভর্তি স্ট্রাকচার কতক্ষণ টিকতে পারে তা পর্যবেক্ষণ করা। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মহাশূন্যে বাণিজ্যিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২০ সালে বিজলো দেউলিয়া ঘোষিত হলে মডিউলটির মালিকানা পায় নাসা।

তবে এখন মহাকাশ স্টেশনটি পুরনো হয়ে পড়ছে, এর বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। মহাকাশ থেকে উড়ে আসা গ্রহাণুর আঘাতে পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির মহাকাশ স্টেশনের অংশীদার রাশিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব সবসময় লেগেই রয়েছে। সব মিলিয়ে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ থেকে মহাকাশ স্টেশনটিকে নামিয়ে আনার পর মহাশূন্য বাণিজ্যের ভবিষ্যত কেমন হবে তা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বিজলোর অ্যারোস্পেসের পতনের পর মহাকাশে বিনিয়োগ আদৌ লাভজনক কিনা এই প্রশ্নটিও সামনে চলে এসেছে।

তবে, নিকট ভবিষ্যতে বেসরকারিত খাতের মহাশূন্য বাণিজ্যের নেতৃত্ব থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে নাসা। এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণা ও অভিযানে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

আইএসএসে সংযুক্ত করার জন্য একটি বাসযোগ্য মডিউল তৈরিতে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সিওম স্পেসের সঙ্গে চুক্তি করেছে নাসা। একই সঙ্গে মহাকাশ স্টেশনসহ পৃথিবীর কক্ষপথে বিভিন্ন বাণিজ্যিক গন্তব্যের নকশা প্রণয়নে আরো তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

পাশাপাশি বাণিজ্যিক কোম্পানিওগুলোও নতুন যুগের মহাশূন্য বাণিজ্যকে নেতৃত্ব দিতে তারা আগ্রহী। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণরত হোটেল, মুভি স্টুডিও, গবেষণাগার এবং কারখানা স্পাপন করার সম্ভবানার কথা জানিয়েছেন তারা।

আইএসএস হলো যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাপান, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঁচটি মহাকাশ সংস্থার যৌথ প্রকল্প। ২০২৪ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে আইএসএসের। তবে পাঁচটি মহাকাশ সংস্থা এই স্টেশনের কার্যক্রম ২০৩০ সাল পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এর অভিকর্ষহীন পরীক্ষাগারে তিন হাজারের বেশি গবেষণা অনুসন্ধান হয়েছে।

আরও