ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ভারতের অনেক সিনেমাই সংস্কার ও পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। সে কর্মযজ্ঞে যুক্ত হয়েছিল পাকিজাও। আগামী অক্টোবরে ফ্রান্সের লিয়নে অনুষ্ঠিতব্য ফেস্টিভ্যাল লুমিয়েরে সংস্কারকৃত প্রিন্টে পাকিজার প্রিমিয়ার হবে। এরপর ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও হবে বিশেষ প্রদর্শনী।
প্রিন্ট সংস্কার প্রসঙ্গে ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক শিবেন্দ্র সিং দুঙ্গারপুর বলেন, ‘মূল ক্যামেরা নেগেটিভটি পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখলাম, সেটি প্রায় গলে যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিল। অন্য যেসব ফিল্ম উপাদান নিয়ে কাজ করতে হয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও ভালো ছিল না। রঙ বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল, ছিল আঁচড় ও ছত্রাকের দাগ। গবেষণার সময় আমরা ছবিটির কিছু আসল স্টিল ছবি খুঁজে পাই, যা আমাদের অনেক সাহায্য করেছে।’
পুনরুদ্ধারকারী দল রামনর্ড ল্যাবে সংরক্ষিত একটি ইন্টারপজিটিভ (আইপি) ও সিনেমাস্কোপ প্রিন্ট সংগ্রহ করে। পাশাপাশি ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (এনএফডিসি) ও ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অব ইন্ডিয়ার কাছে সংরক্ষিত একটি কালার রিভার্সাল ইন্টারনেগেটিভ ব্যবহারের সুযোগও তারা পায়।
এসব উপাদানের সহায়তায় ১৫৩ মিনিটের পাকিজা পুনরুদ্ধার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পুরো কাজে অবশ্য আমরোহি পরিবারের সহযোগিতাও ছিল।
কমল তার স্ত্রী মীনা কুমারীকে একটি ট্রিবিউট দিতে চেয়েছিলেন। সে সূত্রেই সিনেমাটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। লক্ষ্ণৌয়ের নবাবী যুগের শেষ সময়ের মনোরম পটভূমিতে নির্মিত হয় পাকিজা। পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি কাজ শুরু হয়। তবে নানা কারিগরি ও ব্যক্তিগত জটিলতার পাশাপাশি বাজেট সংকটের কারণে সিনেমাটির নির্মাণ শেষ হতে সময় লাগে ১৫ বছর।
১৯৫৬ সালে সাদাকালোয় শুটিং শুরু হয়। ১৯৫৮ সালে তা ইস্টম্যান কালারে পরিবর্তিত হয়। অভিনয়শিল্পী পরিবর্তন, চিত্রনাট্যে একাধিক সংশোধন এবং আমরোহির নিখুঁত কাজের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ—সব মিলিয়ে নির্মাণ ব্যয় ও সময় দুটিই বাড়তে থাকে।
১৯৬৪ সালে ব্যক্তিগত মতবিরোধের কারণে আমরোহি ও মীনা কুমারীর সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। এর প্রভাব পড়ে ছবির নির্মাণেও। ১৯৬৮ সালে মীনা কুমারীর লিভার সিরোসিস ধরা পড়লে প্রকল্পটি আরো বড় সংকটে পড়ে। এক বছর পর আবার কাজ শুরু হয়। ১৯৬৮ সালে সিনেমার বিখ্যাত গানগুলোর সুরকার গোলাম মোহাম্মদ মারা যান। পরে কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক নওশাদকে চূড়ান্ত ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়।
অবশেষে ১৯৭২ সালে পাকিজা মুক্তি পায়। কিন্তু মুক্তির মাত্র ৫৫ দিন পর ৩১ মার্চ ১৯৭২ সালে মারা যান মীনা কুমারী। সিনেমাটি বক্স অফিসের পাশাপাশি সমালোচকদেরও প্রশংসা পায়। আর এখন তো কাল্ট ক্ল্যাসিক।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস