‘দুদিনের শুটিংয়ে ফিকশন হয় না হয় প্রহসন’

বর্তমান সময়ের আলোচিত ও জনপ্রিয় তরুণ অভিনেতা মিশু সাব্বির। নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে পেয়েছেন তারকা খ্যাতি। তবে তারকা খ্যাতিতে কিছুটা জোয়ার-ভাটাও রয়েছে। সেই জায়গা থেকে নির্মাতা কাজল আরেফিন অমির ধারাবাহিক নাটক ব্যাচেলর পয়েন্টের মাধ্যমে অভিনয়ে কিছুটা প্রাণ ফিরলেও কাজ করে এখনো খুব একটা স্বস্তিতে নেই বলে বণিক বার্তাকে জানালেন এ অভিনেতা।

বর্তমান সময়ের আলোচিত ও জনপ্রিয় তরুণ অভিনেতা মিশু সাব্বির। নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে পেয়েছেন তারকা খ্যাতি। তবে তারকা খ্যাতিতে কিছুটা জোয়ার-ভাটাও রয়েছে। সেই জায়গা থেকে নির্মাতা কাজল আরেফিন অমির ধারাবাহিক নাটক ব্যাচেলর পয়েন্টের মাধ্যমে অভিনয়ে কিছুটা প্রাণ ফিরলেও কাজ করে এখনো খুব একটা স্বস্তিতে নেই বলে বণিক বার্তাকে জানালেন এ অভিনেতা।

স্বস্তিতে কেন নেই জানতে চাওয়া হলে মিশু সাব্বির বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে এখন নাটকের যা অবস্থা তাতে করে ভালো গল্পের চরিত্রে অভিনয় করা ছাড়া আর অভিনয়ে নিয়মিত হব না। করোনাকালীন এই সময়টাতে এসে এখন আসলে এভাবেই ভাবতে হচ্ছে। কোনো উপায় নেই। কারো দোষও নেই। দোষটা আসলে আমাদের সিস্টেমের। আমাদের নির্মাতারা যথেষ্ট মেধাবী, কিন্তু সিস্টেমের নানা জটিলতার কারণে অনেক ভালো কাজই ঠিকঠাক হচ্ছে না। ভালো কোনো বাজেট নেই নাটকে।’

মিশু চান ভক্তরা যেন তাকে ভালো গল্প ও চরিত্রের কাজে দেখতে পান। ‘আমি চাই ভালো কাজে আমার ভক্তরা আমাকে দেখুক। শুধু শুধু একগাদা সিস্টেম লসের গল্পে নিজেকে জড়িয়ে দর্শকের চোখ এড়িয়ে যেতে পারব না।’ তার মানে অভিনয় থেকে বিরতি নিচ্ছেন? এমন প্রশ্ন রাখলে মিশু বললেন, ‘না, সে রকম কিছু এখনো ঘটেনি। ৫০ দিন ধরে কাজ বন্ধ করে রেখেছি। শুধু সস্তার তিন অবস্থা দেখে। এসব কাজ করে লাভটা কী? লাভ নেই কোনো। তার চেয়ে কম কাজ করে মানুষকে ভালো কাজ উপহার দেয়াই হচ্ছে আমার এখন প্রধান লক্ষ্য। এই ৫০ দিন ধরে মাত্র একটি ওটিটির জন্য বড় পরিসরে ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করেছি। কারণ একটাই ছিল ভালো গল্প। চরিত্রটা বেশ দারুণ লেগেছে আমার। তাই অভিনয় করেছি। এ রকম চরিত্রে অভিনয় করলে আত্মতৃপ্তি ঘটে, ভালো লাগে, দর্শকদের কাছে শেয়ার করা যায়।’

ওয়েব ফিল্মে তার চরিত্রটা কী জানতে চাইলে মিশু অপারগতার কথা বললেন। ‘এটা নিয়ে আর বলতে চাচ্ছি না। কারণ ফিল্মটা এখনো মুক্তি পায়নি। মুক্তি পেলে বলতে পারতাম। তবে এতটুকুই বলতে পারি ভালো কিছু আসছে সামনে।’ তাহলে নিয়মিত হচ্ছেন না অভিনয়ে? মিশুর সোজাসাপ্টা জবাব, ‘সহজ ভাষায় যদি বলি তাহলে হচ্ছে, অভিনয়টা আসলে ভালোবেসে করি।’

মিশু পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বললেন, ‘আমি মার্কেটিং চাই না। যদি ভালো চরিত্র, নতুন ভিন্ন কোনো গল্প আসে তাহলে আমার অভিনয় করতে কোনো আপত্তি নেই। আমার আপত্তি হচ্ছে গতানুগতিক এই সিস্টেমের বিরুদ্ধে। ভালো চিন্তাধারার গল্পে নিজেকে দেখতে চাই। আমার দর্শকদেরও দেখাতে চাই। সবকিছুই বদলানো দরকার, সময় তো বদলে গেছে, এটা ইন্ডাস্ট্রির মানুষের বোঝা উচিত। নয়তো আমরা সামনে এগোতে পারব না।’

কথায় কথায় আক্ষেপ করে মিশু বললেন, ‘ভুরি ভুরি কাজ দিয়ে কী হবে যদি সেটা মানুষ না দেখে। এখন থেকে এমন কাজেই অভিনয় করব যেটা দর্শক দেখবে। আলোচনা-সমালোচনা করবে। অভিনয় দেখে হাসাহাসি করা এক ব্যাপার, আর অভিনীত চরিত্র নিয়ে বাজে বলা সেটা তো ভিন্ন ব্যাপার। এই ভিন্ন বাজে কাজের মধ্যে আমি নেই। গঠনমূলক সমালোচনাও কিন্তু আমার কাজকে ভালোর দিকেই নিয়ে যেতে পারে। শুধু আমার কাজকে না, পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে বদলে দিতে পারে। একটা সুন্দর সিস্টেমের মধ্যে সবাই আসুক। এটা আমি মন থেকেই চাই।’ তাহলে বলতে চাচ্ছেন আপনি ঘাটতি দেখছেন বাজেটে? ‘ঠিক তাই। বাজেট অল্প এটা একটা ব্যাপার তো রয়েছেই। তার সঙ্গে যোগ হয়ে গেছে সিঙ্গেল নাটক মানেই দুদিন শুটিং হবে। তড়িঘড়ি করে ধুমধাম সিনের পর সিন শুটিং হবে। ব্যস হয়ে গেছে শুটিং, দ্রুত সম্পাদনা করে বাজারে ছেড়ে দিলাম। এসব করে তো আসলে ভিউ ঠিকঠাক হচ্ছেই না, বরং দর্শক এখন আগের চেয়ে স্মার্ট হয়ে গেছে। তারা নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন, জি ফাইভ, হইচইয়ের মতো ওটিটি প্লাটফর্মে দেখছে। দর্শকরা ওটিটি প্লাটফর্মে আমাদের কাজও দেখছে। সেটা টাকা দিয়ে। তো টাকা দিয়ে যখন দেখবে তখন তো আমাকে ভালো অভিনয়টাই দিতে হবে। এখন তো ইউটিউবের যে বাহার, ধর মার কাট কাট ব্যাপার।’

মিশু সাব্বির মনে করেন এ ব্যাপারগুলো থেকে প্রযোজক, নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পী এমনকি একজন স্ক্রিপ্ট রাইটারকেও বের হয়ে আসতে হবে। নয়তো সেই ইউটিউবের ভিউ দিয়ে তো কোনো ফজিলত নেই যে নির্মাতারা অভিনয়শিল্পীর পেছনে ঘুরে দুদিনে শুটিং শেষ করে ছেড়ে দিলেন বাজারে। সেই সুযোগ কিন্তু আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। কারণ দর্শক যখন স্মার্ট হয়ে যায়, তখন সিস্টেম না বদলালে তো সবাই ধরা খাবে। বাজে কথা বলবে। এটা কেন আমি একজন অভিনেতা হিসেবে করব। সবাই যখন বদলে যাচ্ছে তখন আমি কেন পেছনে থাকব। আমাদের অভিনয়, নির্মাণ কিংবা লেখনী এখন তো আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যাচ্ছে। ভিন্ন দেশের মানুষ আমাদের কাজ দেখছে। এই সময়টাতে এসে কেন আমি ভুল করব। কোনোভাবেই না। তার চেয়ে বরং কাজ কম হোক। অল্প কাজে ভালো গল্প হোক। আলোচনা-সমালোচনা যাই বলেন না কেন সেটা ভালো কাজ নিয়েই হোক। এটাই চাচ্ছি। অনেক বাজে গল্পের চাপে একটা ভালো গল্পেরও কিন্তু অপমৃত্যু হয়। সেটা আর চাই না। দুদিনের শুটিংয়ে ফিকশন হয় না, হয় প্রহসন।

আরও