বাংলার মাঠ-খেতে উত্তপ্ত রোদে পরিশ্রম করে ঘরে ফেরা কৃষক থেকে শুরু
করে ঘর সামলানো গৃহবধূ, পুঁজিবাদী শহরের শ্রমিক কিংবা অট্টালিকায় থাকা শহুরে মালিক-মেমসাহেব-বাবু,
ছোট-বড় সব বয়সের, পেশার মানুষের মুখে হাসি এনে দেয়ার সহজাত দক্ষতা যার ছিল, তিনি আর কেউ নন
আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রের গুণী, চৌকস অভিনেতা দিলদার।
আজ শনিবার (১৩ জুলাই) এই নন্দিত কৌতুক অভিনেতা দিলদারের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী।
সিনেমা দেখতে দেখতে মন যখন বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ত তখনই তিনি হাজির হতেন প্রাণখোলা হাসির অভিনয় নিয়ে। মানুষ তাকে দেখে, তার নামে হলে আসত।
দিলদার জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরে। ১৯৭২ সালে
‘কেন এমন হয়’ চলচ্চিত্র দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু। ধীরে ধীরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী কৌতুক অভিনেতার
আসন দখল করে নেন এবং তাকে নায়ক করেই নির্মাণ করা হয় ‘আব্দুল্লাহ (১৯৯৮)’। তার অভিনীত
অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘কন্যাদান’,
‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘সুন্দর আলী জীবন সংসার’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘শান্ত
কেন মাস্তান’, ‘গাড়িয়াল ভাই’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
২০০৩ সালে তিনি সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ‘তুমি শুধু আমার’ চলচ্চিত্রের
জন্য ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ লাভ করেন এবং সে বছরের ১৩ জুলাই ভক্তদের শোকে ভাসিয়ে
চিরবিদায় নেন হাসির জাদুকর দিলদার। তার মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্রের হাস্যরসাত্মক জায়গাটি
এখনো সংকটময়, তার শূন্যতা অপূরণীয়।