‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’ উৎসবমুখর সিনেমা —দেবাশীষ বিশ্বাস

২০২০ সালে করোনার আগেই মুক্তি চূড়ান্ত ছিল দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত অপু বিশ্বাস ও বাপ্পি চৌধুরী জুটির সিনেমা ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’। মাঝখানে নভেল করোনাভাইরাস হানা দেয়ায় সিনেমাটি দর্শকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

২০২০ সালে করোনার আগেই মুক্তি চূড়ান্ত ছিল দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত অপু বিশ্বাস ও বাপ্পি চৌধুরী জুটির সিনেমা ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’। মাঝখানে নভেল করোনাভাইরাস হানা দেয়ায় সিনেমাটি দর্শকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে এবার কভিড পরিস্থিতির মধ্যেই মুক্তির নতুন তারিখ ঘোষণা করলেন নির্মাতা।

দেবাশীষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘শ্বশুড়বাড়ি জিন্দাবাদ ২’ একটি উৎসবের সিনেমা। ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুনকে কেন্দ্র করে ১১ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাবে সিনেমাটি।

মহামারীর এ সময়ে সিনেমা মুক্তি প্রসঙ্গে দেবাশীষ বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মাহামারী আজীবন চলবে। মহামারীর কারণে কোনো কিছুই থেমে থাকবে না। দু-তিন বছর তো অপেক্ষা করা হলো। মহামারীকে ভেবে চলতে গেলে জীবন চলবে না। বইমেলা হচ্ছে, বাণিজ্য মেলা হচ্ছে, নির্বাচন হচ্ছে। সিনেমা হলে নিষেধাজ্ঞা আসেনি। ফলে মুক্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তার পরও সুরক্ষাবিধি মেনে সিনেমাটি মুক্তি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া কিছু করার নেই।’

প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বইমেলায় ভিড় হয়। প্রচুর মানুষ আসে। তাই বলে যারা বইপ্রেমী তারা ভিড় দেখে ঘরে বসে থাকে না। ঠিকই মেলায় যায়। আমি মনে করি, যারা সিনেমাপ্রেমী তারা হলে আসবে এবং সিনেমাটা দেখবে। এছাড়া বেশির ভাগ মানুষ ভ্যাকসিনের আওতায় চলে এসেছে। মানুষের সাহস বেড়েছে। দীর্ঘদিন কিন্তু এ ধরনের সিনেমা রিলিজ হয়নি। দর্শক হলে যাওয়ার মতো উপভোগ্য সিনেমা পায়নি। “শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২” একটা উৎসবমুখর সিনেমা। প্রযোজকদের কাছে আমার দাবি ছিল উৎসবে যেন মুক্তি দেয়া হয়। এখন উৎসবের সময়। সেদিক দিয়ে আমি মনে করি, মন্দের ভালো সময়ে রিলিজ হচ্ছে। দর্শক অবশ্যই সিনেমাটি দেখবে।’

বাপ্পি চৌধুরী-অপু বিশ্বাসের রসায়ন কেমন জমেছে জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, ‘বাপ্পি-অপুর রসায়নে বয়সের বিষয়টা অসম ছিল। এখানে আমাকে অনেকটা কষ্ট করতে হয়েছে। বাপ্পির লুক পরিবর্তন করতে হয়েছে। অপুর মাতৃত্বকাল ছিল বিধায় অপু লুক পরিবর্তন করতে পারেনি খুব একটা। ফলে কাজটা বাপ্পিকেই করতে হয়েছে। বাকিটা অভিনয় দিয়ে তারা পুষিয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ পর্দায় দেখে যা মনে হয়েছে, বাপ্পি-অপুর রসায়ন প্রশংসিত হবে।’ 

 বাপ্পির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এর আগে অনেকে বাপ্পির অভিনয় নিয়ে নাক সিটকাত। এ ছবি দেখলে কেউ নাক সিটকাতে পারবে না। আমি জোরগলায় বলতে পারি, বাপ্পিকে দেখলে সবাই অবাক হবে। এখন বাপ্পি নিজেকে ভাঙছে। ব্যতিক্রমী সব সিনেমা করছে। কিন্তু বাপ্পির নিজেকে ভাঙার এ শুরুটা আমার হাত দিয়েই হয়েছে। তিন বছর আগে আমি বাপ্পিকে ভেঙেছি। এখন বাপ্পি নিজেকে ভাঙছে। ওর ভবিষ্যৎ খুবই ভালো।’

দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০০১ সালে। এটি ছিল গল্প, গান, কমেডি, অভিনয়, নির্মাণসহ সবকিছু মিলিয়ে বাণিজ্যিক সিনেমার দুর্দান্ত এক প্যাকেজ। ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’ সিনেমাটি আরেকটি দুর্দান্ত প্যাকেজ বলে জানান এ নির্মাতা। তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে সিনেমাটি ৭০০-৮০০ হলে মুক্তি পেয়েছিল। এখন সর্বোচ্চ ৫০টা হলে মুক্তি দেয়া যাবে। ফলে ওই সিনেমার মতো এটি হয়তো গ্রামবাংলায় ছড়াবে না। তবে এ ছবিও নাচ, গান, অভিনয়, কমেডি, নির্মাণ...সব মিলিয়ে দুর্দান্ত একটা প্যাকেজই হয়েছে।’

অনেকদিন পর ভালো কিছু সিনেমার গান আসছে জানিয়ে দেবাশীষ বলেন, ‘ভারতের প্লেব্যাক কিং কুমার শানু ১২ বছর পর বাংলাদেশী কোনো সিনেমায় গান করেছেন। সিনেমার গানগুলো খুবই শ্রুতিমধুর। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের খুব জনপ্রিয় “তোমায় দেখলে মনে হয়/ হাজার বছর তোমার সাথে ছিল পরিচয়...” গানটা সিনেমার প্রয়োজনে নতুন করে সংগীতায়োজন করা হয়েছে। সব গানই দুর্দান্ত।’

প্রয়াত অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর জীবনের শেষ ছবি এটি। সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন তিনি। এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি যদ্দূর জানি, এটাই সাদেক বাচ্চু সাহেবের শেষ সিনেমা। পুরো সিনেমাটা তাকে কেন্দ্র করে। সাদেক বাচ্চু এ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

এ সিনেমার প্রধান শক্তি কমেডি এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খেয়াল করলে দেখবেন, বহু বছর আমাদের দেশে কমেডি সিনেমা হয় না। হাতে গোনা দু-একটি কমেডি সিনেমা হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কমেডি এমন সিনেমা মানুষ আগেও পছন্দ করেছে। এখনো করবে। বাংলা সিনেমার অ্যাক্টিভ কমেডিয়ান যারা আছেন আফজাল শরীফ, কাবিলা, শাহিন, চিকন আলীসহ সব কমেডিয়ান একত্র হয়েছেন।’  

তিনি আরো বলেন, শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ নামটা দেশের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে ব্র্যান্ড। এজন্য তিনি তার নির্মিত আগের ছবির নামটা ব্যবহার করেছেন। ছবিটিতে বাপ্পি-অপু ছাড়াও অভিনয় করেছেন সাদেক বাচ্চু, এনায়েত চৌধুরী, আফজাল শরীফ, রেবেকা, রাজন, চিকন আলী, কাবিলা, শাহীন খান, সুব্রত, বিএম আজাদসহ অনেকে। ছবির গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কুমার শানু, ইমরান, লিজা ও আকাশ সেন।

আরও