ইচ্ছে আছে ফিল্ম নিয়ে পড়াশোনা করার

এ প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত কাজলরেখা সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন তিনি।

এ প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত কাজলরেখা সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন তিনি। গত কোরবানির ঈদে মুক্তি পাওয়া তানিম নূর পরিচালিত ‘উৎসব’ সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক প্রশংসা পান এ অভিনেত্রী। এবার আসছেন নতুন চমক নিয়ে

আসছে ভিন্ন ধরনের গল্প

সম্প্রতি একটি ওয়েব ফিল্মের কাজে শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন সাদিয়া। জানালেন, এরই মধ্যে ফিল্মটির কাজও শেষ হয়েছে। ‘ওটিটি প্লাটফর্ম চরকির জন্য একটি ওয়েব ফিল্মের কাজ শেষ করেছি। কাজটি সম্পর্কে এখন খুব বেশি কিছু বলতে পারছি না, কারণ টিম এখনো প্রকাশের অনুমতি দেয়নি। তাই কাজটির নাম বা কবে মুক্তি পাবে, এ মুহূর্তে কিছুই জানাতে পারছি না।’

তবে সাদিয়া ফিল্মটি নিয়ে ধারণা দিলেন, ‘শুধু বলতে পারি, এটি খুবই ভিন্ন ধরনের একটি গল্প। এতদিন যেসব কাজ করেছি, তার সবকিছু থেকে এটি আলাদা। এমন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পুরো গল্পটি এগিয়েছে, যা বাংলাদেশে আগে এভাবে দেখা যায়নি। অন্তত আমার চোখে এমন মনস্তাত্ত্বিক গল্প আগে পাইনি। মানুষ যখন গল্পটি জানবে, তখন অনেকেই অবাক হবে। তারা ভাববে, এটা নিয়ে আবার গল্প হতে পারে? পুরো ফিল্মে খুব সুন্দর একটি বার্তা আছে, বিশেষ করে শেষ অংশ সবাইকে ছুঁয়ে যাবে। কাজটির প্রতি আমার ব্যক্তিগত আবেগও আছে। সব মিলিয়ে এটি খুব ভালো হয়েছে।’

নাটক ও বিজ্ঞাপনে ব্যস্ততা

শুধু ওটিটি ফিল্মেই সীমাবদ্ধ নন সাদিয়া। তিনি বলেন, ‘ইয়াস রোহানের সঙ্গে গত মাসে একটি নাটকের কাজ শেষ করেছি। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের কাজ করছি। আরো কিছু বিজ্ঞাপন নিয়ে কথাবার্তা চলছে।’

নির্বাচনের আবহে কাজের প্রভাব

দুই মাস পর নির্বাচন। শুটিং প্রক্রিয়ায় কি এটি কোনো প্রভাব ফেলেছে? সাদিয়া জানান, এ মুহূর্তে কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলছে। সামনে নির্বাচন থাকায় শেষ মুহূর্তে হয়তো কাজের গতি একটু কমে যেতে পারে। এখন অনেক ব্র্যান্ডের কাজ চলছে, ভ্যালেন্টাইন ঈদসহ বিভিন্ন উপলক্ষ সামনে রেখে সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই এখনই আমার কাজে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমার সহশিল্পীরাও নিয়মিত শুটিং করছেন। সবকিছু এখন পর্যন্ত ঠিক আছে।

চলচ্চিত্র ও নাটকের সঙ্গে পথচলা

নিজের ক্যারিয়ারকে এক মাধ্যমে সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে নন সাদিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি শুরু করেছিলাম বিজ্ঞাপন দিয়ে। তারপর বড় পর্দার সিনেমায় অভিনয় করি। এরপর ওটিটিতে কাজ শুরু করি, তারও পরে নাটকে নিয়মিত হই। পাশাপাশি বিভিন্ন ওটিটি প্লাটফর্মে সিরিজও করেছি। শুরু থেকেই সব মাধ্যমে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমি একজন অভিনেত্রী, আমার কাজ অভিনয়। তাই নিজেকে একটি মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করতে চাই না। তবে বড় পর্দায় নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করতে চান সাদিয়া। ‘প্রতিটি শিল্পীই বড় পর্দায় কাজ করতে চান। আমিও চাই ভালো গল্পে ও পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে, যেন দর্শককে নতুন কিছু দিতে পারি।’

নতুন সিনেমার অফার

উৎসব সিনেমায় দর্শক প্রশংসার পর নতুন বেশ কয়েকটি সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছেন সাদিয়া। তিনি বলেন, ‘উৎসবের পর বেশ কয়েকটি সিনেমার অফার পেয়েছি। দুই-তিনটি কাজের গল্প ভালো লাগেনি বা টিমের প্রতি আস্থা পাইনি, তাই এগোইনি। কিছু কাজ এখন পাইপলাইনে আছে, দুই-তিনটি সিনেমা নিয়ে কথা হচ্ছে। ভালো চরিত্র না হলে আমি সিনেমা করতে চাই না। কাজলরেখা ও উৎসবে যেমন আমার শক্তিশালী চরিত্র ছিল যার ইমপ্যাক্ট পুরো সিনেমায় ছিল, আমি সে রকমই ইমপ্যাক্টফুল চরিত্র করতে চাই। নায়িকা হয়েই কাজ করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’

চরিত্র নির্বাচন ও ইমপ্যাক্ট

অভিনয়ের ক্ষেত্রে গল্পের ভেতর চরিত্রের গুরুত্বের প্রতি নজর থাকে সাদিয়ার। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে চরিত্রের ইমপ্যাক্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চরিত্রটি কতটা শক্তিশালী, তার উত্থান-পতন কোথায়, কী ধরনের পরিবারে বড় হয়েছে, তার মনস্তাত্ত্বিক বা দার্শনিক জায়গাগুলো কোথায়, এসব নিয়ে আমি ভাবি। চরিত্রের গ্রাফ কেমন, তা বুঝে নিই। গল্প নির্বাচন করার সময় অবশ্যই গল্প দেখি, পরিচালক দেখি। সবকিছু ঠিক থাকলে তবেই কাজ সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই।’

শুরুর সময়কার কাজ বনাম বর্তমান

সাদিয়ার মতে, ‘শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমার কাজের ধরন বদলায়নি। প্রতিদিন বরং নতুন কিছু শিখছি। ডে বাই ডে আরো ভালো করার চেষ্টা করছি। আমি খুব ভাগ্যবান যে খুব ভালো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। আমার মনে হয়, আমার কাজের ধারাবাহিকতা ভালোর দিকেই এগোচ্ছে।’

অভিনয়ে বৈচিত্র্য বজায় রাখা

সাদিয়া বিশ্বাস করেন বিরতি নিয়ে কাজ করায়। কারণ একনাগাড়ে কাজ করলে গল্প ও চরিত্র নিয়ে ভাবার খুব একটা সময় পাওয়া যায় না। তার ভাষায়, ‘রোমান্টিক গল্পে আসলে খুব বেশি পরিবর্তন আনা যায় না—প্রেম, ভালোবাসার এক্সপ্রেশন তো একই। তবে যদি একটু বিরতি নিয়ে কাজ করা যায়, তখন প্রতিটি চরিত্র আলাদাভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। কারণ তখন চিন্তা করার সময় থাকে, রিসার্চ করার সুযোগ থাকে। তখন একটি কাজও অনন্য হয়ে ওঠে। কিন্তু যদি নিয়মিত শুটিং করতে হয়, তখন ভিন্নতা আনা একটু কঠিন। তাই যখন মনে হয় বিরতি দরকার, তখন বিরতি নিই। এক মাসে একটি কাজ করি। ভালো কাজ না পেলে করি না। একটি ভালো কাজ দর্শকের কাছে পৌঁছলে সেটাই আমার জন্য যথেষ্ট।’

অভিনয়ের বাইরে সময় কাটানো

অভিনয় ছাড়াও সাদিয়া তার ব্যক্তিগত জীবনকে সমান গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘অভিনয়ের বাইরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে খুব ভালো লাগে। আমার তিনটি বিড়াল আছে, দুটো আমার সন্তান, আরেকটি আমার সন্তানের সন্তান। ওদের নিয়ে সময় কাটাই। রান্না করতে পছন্দ করি। বারান্দায় কিছু গাছ আছে, সেগুলোর যত্ন নিই। সেখানে জন্মানো মরিচ, পুঁইশাক তুলে রান্না করি। গাছ লাগাই। ফ্রি সময়ে গান শুনি, সিনেমা দেখি। লেখালেখি করি, মাঝে মাঝে কবিতাও লিখি। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাই। এভাবেই দিন কেটে যায়।’

উৎসব সিনেমা ও তার স্বীকৃতি

উৎসব সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পেয়েছেন সাদিয়া। তিনি বলেন, ‘উৎসব করে আমি অনেক প্রশংসা পেয়েছি। ইন্ডাস্ট্রির অনেক গুণী শিল্পী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে শুভকামনা জানিয়েছেন। তাদের ভালোবাসা আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। আমরা কেন উৎসব করেছি, কারণ গল্পটি যখন পরিচালক আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেন, তখনই বুঝেছিলাম এ ধরনের সিনেমা সচরাচর হয় না। ভিন্ন কিছু দর্শকের সামনে রাখার সুযোগ ছিল বলেই আমরা কাজটি করেছি। সিনেমাটি নিয়ে এত বড় প্রত্যাশা করিনি। কিন্তু দর্শক যে এত সাড়া দেবে, তা সত্যিই আনন্দের।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের ব্যালান্স করে চলেন সাদিয়া। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আগামীতে ভালো গল্পে ভালো কাজ করতে চাই। আমার ইচ্ছে আছে ফিল্ম নিয়ে পড়াশোনা করার। অভিনয়ের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির জন্যও কিছু ভালো কাজ করতে চাই।

কাজের বাইরে পরিবারকে সময় দিতে পছন্দ করি। আমি খুবই পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ, পরিবার ও আমার বিড়ালগুলো আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাজের বাইরে ওদের সময় দিতে চাই। ক্যারিয়ার, পরিবার, পড়াশোনা সমানভাবে ব্যালেন্স করে এগোতে চাই।’

আরও