রোববার রাতে পল থমাস অ্যান্ডারসনের ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ চলচ্চিত্রে কর্নেল লকজাও চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ক্যারিয়ারের তৃতীয় অস্কার জিতেছেন শন পেন। তবে জমকালো এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার এই স্বীকৃতি গ্রহণের চেয়ে অভিনেতা ও অ্যাক্টিভিস্ট শন পেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। খবর ভ্যারাইটি।
শন পেনের এই সাহসী পদক্ষেপের পর ইউক্রেনীয় নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাদের একত্রে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি এই অভিনেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, ‘শন, তোমার মাধ্যমেই আমরা জানতে পেরেছি ইউক্রেনের প্রকৃত বন্ধু কে। যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই তুমি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছ এবং আজও তা অব্যাহত আছে। আমরা জানি তুমি আমাদের দেশ ও মানুষের পাশে এভাবেই থাকবে।‘
অস্কারের মঞ্চে গত বছরের পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার বিজয়ী কিরান কালকিন যখন শন পেনের নাম ঘোষণা করেন, তখন তিনি খানিকটা রসিকতা করে বলেন, ‘শন পেন আজ রাতে এখানে থাকতে পারেননি, অথবা থাকতে চাননি। তাই তার পক্ষ থেকে আমিই পুরস্কারটি গ্রহণ করছি।‘ উল্লেখ্য, এ বছর গোল্ডেন গ্লোবে স্টেলান স্কার্সগার্ডের কাছে পরাজিত হলেও বাফটা এবং অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন পেন। তবে সেই অনুষ্ঠানগুলোতেও তিনি অংশ নেননি।
সিনেমার পর্দার বাইরেও শন পেন তার রাজনৈতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। গত বছর লুমিয়ের চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি তার নির্মিত তথ্যচিত্র ‘সুপারপাওয়ার’ এবং জেলেনস্কির সঙ্গে তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
শন পেনের মতে, অভিনয়, চলচ্চিত্র নির্মাণ কিংবা কাঠের আসবাব তৈরি— সবকিছুই একই তাড়না থেকে আসে। তিনি মনে করেন, প্রতিটি কাজের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অন্যের জীবনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। তিনি বলেন, প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় ঝুঁকি ও লাভ—দুটিই বিবেচনা করতে হয়। তবে নিজের জন্য নয়, বরং পরিস্থিতি ও মানুষের জন্যই সেই হিসাব করা প্রয়োজন।