‘নিজেকে আরও বেশি দায়িত্বশীলভাবে প্রস্তুত করতে হবে’

এই পুরস্কার আমাকে মানসিকভাবে শক্ত করার পাশাপাশি কিছুটা দুর্বলও করেছে। পুরস্কার অবশ্যই অনুপ্রেরণাদায়ক, তবে একই সঙ্গে দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়। মনে হয়, একটি ধাপ পার করেছি—এবার সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। নিজেকে আরও বেশি দায়িত্বশীলভাবে প্রস্তুত করতে হবে

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ গতকাল ঘোষিত হয়েছে । ‘ওরা সাত জন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন নাজিয়া হক অর্ষা। পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে ২৯ তারিখ যখন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ঘোষণা হয় তখন বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। আমি তখন অন্য একটি কাজে ব্যস্ত ছিলাম—পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে একটি গেট-টুগেদারে ছিলাম। সেখানে কয়েকজন কলিগও উপস্থিত ছিলেন। আমার সহকর্মী শ্যামল মাওলা হঠাৎ এসে আমাকে বললেন, ‘দোস্ত, কনগ্র্যাচুলেশনস।’ আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করি—‘‘কিসের?’’ তখন তিনি বলেন, ‘‘তুই ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছিস’।

প্রথমে বিষয়টিকে একেবারেই বিশ্বাস করতে পারিনি। ভেবেছিলাম, আড্ডার মধ্যে হয়তো মজা করছে। পরে তিনি যখন নামের তালিকাটি দেখান, তালিকায় নিজের নাম দেখে বিষয়টি উপলব্ধি করি। এরপর একে একে সবাই জানালো, শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করলো।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তি নিঃসন্দেহে একটি দারুণ ব্যাপার। এটি তো দেশের চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা। সত্যি বলতে, এটি শব্দ দিয়ে প্রকাশ করার মতো অনুভূতি নয়। আমি কখনো ভাবিনি এত তাড়াতাড়ি এমন একটি স্বীকৃতি পাব। এই প্রাপ্তি আমাকে বিস্মিত করেছে, ভালোলাগা কাজ করছে। ’

অর্ষা তার ক্যারিয়ারে নাটক, সিনেমা, ওটিটির সিরিজ ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। ক্যারিয়ারে তার মায়েল ভূমিকাই বেশি বলে জানান অর্ষা। তিনি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমার মায়ের। শুরু থেকেই তিনি আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। এই অর্জনের সঙ্গে একটি আফসোসও জড়িয়ে আছে—আমার মা যদি এটি দেখে যেতে পারতেন, তাহলে হয়তো আনন্দটা আরও পূর্ণ হতো। এত বড় সম্মাননা পাওয়ার যোগ্য আমি কিনা জানিনা, তবে আমার কাজকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’

পুরস্কার তার দায়িত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করেন অর্ষা। তিনি বলেন, ‘এ পুরস্কার আমাকে মানসিকভাবে শক্ত করার পাশাপাশি কিছুটা দুর্বলও করেছে। পুরস্কার অবশ্যই অনুপ্রেরণাদায়ক, তবে একই সঙ্গে দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়। মনে হয়, একটি ধাপ পার করেছি—এবার সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। নিজেকে আরও বেশি দায়িত্বশীলভাবে প্রস্তুত করতে হবে।

একদিকে যেমন এই অর্জন গভীর আনন্দ দেয়, অন্যদিকে এক ধরনের নার্ভাসনেসও কাজ করে—আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার চাপ। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আমার জন্য নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সম্মানের ও আনন্দের।’

আরও