১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সমবেত জনসমুদ্রে জাতির উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার এ ভাষণে বাঙালি জাতি অনুপ্রাণিত হয়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের জন্য স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এ ঐতিহাসিক ভাষণকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাঙালি জাতির ইতিহাসের একটি গুরুত্বপুর্ণ অংশ এ ভাষণ। প্রতি বছরই বিশেষ দিনটি ঘিরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিশেষ আয়োজন থাকে। এবারো ৭ মার্চ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনে সেজেছে বিটিভির অনুষ্ঠানমালা। রয়েছে ‘মার্চের উত্তাল দিনগুলি’, বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত গান ও ৭ মার্চের ভাষণ, বীরাঙ্গনার সাতকাহন, বিশেষ আলোচনানুষ্ঠান, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানে দেশ-বিদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিব্যক্তি নিয়ে অনুষ্ঠান, স্বরচিত কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি, শিশুতোষ আলেখ্যানুষ্ঠান ‘মহাকালের অমরকাব্য’, বিশেষ অনুষ্ঠান ‘টুঙ্গিপাড়া থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান’, ভাষণের ওপর বিশেষ আলেখ্যানুষ্ঠান ‘প্রতিধ্বনি’।
বিটিভির পরিচালক (অনুষ্ঠান ও পরিকল্পনা) জগদীশ চন্দ্র এষ বলেন, ‘৭ মার্চ বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু প্রথমবারের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামের রূপরেখা দেন। এ ভাষণে জাতিকে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বানের পাশাপাশি ছিল দিকনির্দেশনাও। বঙ্গবন্ধুর সে ভাষণ বাঙালি জাতির কাছে সবসময়ই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।’
জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ ১৮ মিনিটের হলেও আমাদের জাতীয় জীবনে এর ব্যাপকতা অনেক। সেই দিন তার ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়েছিল বাংলার মানুষেরা। এ ভাষণ জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছিল স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। জাপানের বাংলাদেশ দূতাবাস ২০১৯ সালের জুনে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণটি জাপানি ভাষায় অনুবাদ করেছে। পূর্বে ভাষণটি ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হলেও বিদেশী ভাষা হিসেবে জাপানি ভাষায় প্রথম অনূদিত হয়।