বাংলা একাডেমিতে লালন শাহের ভাবুকতা ও দর্শন নিয়ে আলোচনা

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আমরা লালনের গান শুনে মুগ্ধ হই, কিন্তু তার দর্শন নিয়ে আমাদের আলোচনা সীমিত। অনেক সময় আমরা ভাবি না, বাংলার নিজস্ব দর্শনও রয়েছে। আজকের এ আলোচনা সেই প্রেক্ষাপট থেকে গুরুত্বপূর্ণ। লালন ও বাউল দর্শন নিয়ে সঠিক ধারণা আমাদের চিন্তার মুক্তির জন্য জরুরি।’

বাংলা একাডেমিতে শনিবার বিকেলে ‘নদীয়ার ভাবুকতার ইতিহাসে ফকির লালন শাহ’ শীর্ষক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আয়োজন করেছে ‘নবপ্রাণ আন্দোলন’। একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন কবি ও দার্শনিক ফরহাদ মজহার। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

আলোচনায় অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। সূচনা বক্তব্য দেন একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

এ সময় ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আমরা লালনের গান শুনে মুগ্ধ হই, কিন্তু তার দর্শন নিয়ে আমাদের আলোচনা সীমিত। অনেক সময় আমরা ভাবি না, বাংলার নিজস্ব দর্শনও রয়েছে। আজকের এ আলোচনা সেই প্রেক্ষাপট থেকে গুরুত্বপূর্ণ। লালন ও বাউল দর্শন নিয়ে সঠিক ধারণা আমাদের চিন্তার মুক্তির জন্য জরুরি।’

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘লালন ও বাউল নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ অনেক। বাংলার চিন্তাচর্চার জায়গা থেকে লালনের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা লালনের ভাবনাকে সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।’

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘লালন ও বাউল দর্শন অনুধাবন করা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য প্রয়োজন। আজকের অনুষ্ঠান ভবিষ্যতে বিশদভাবে কাজ করার পথ খুলে দিতে পারে।’

মোহাম্মদ রোমেল বলেন, ‘বাংলার মাটিতে মিশে থাকা নিজস্ব দর্শনের সন্ধান আমরা লালনের মধ্যে পাই। নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনে আমাদের নিজস্ব ভাবরসের দিকে ফিরতে হবে।’

ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘লালনের চিন্তা বাংলার দর্শনের একটি কেন্দ্রীয় স্থান দখল করে আছে। এই বিষয়ে তত্ত্বালোচনা ও প্রয়োগিক উপায় অনুসন্ধান জরুরি।’

আলোচনা সভার দ্বিতীয় পর্বে ছিল তাত্ত্বিক আলোচনা ও সংগীত পরিবেশনা। এ পর্বে বক্তব্য দেন ফরহাদ মজহার ও ফরিদা আখতার। সংগীত পরিবেশন করেন নবপ্রাণ আন্দোলনের শিল্পীরা।

আরও