রূপকথা, প্রেম আর যুদ্ধের গল্পে নওশাবা

অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ বরাবরই ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজ করতে ভালোবাসেন।

অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ বরাবরই ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজ করতে ভালোবাসেন। নাটক থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমেই তিনি নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন। এবার তাকে দেখা যাবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমা ‘‌সাত ভাই চম্পা’তে। দীর্ঘদিন আগে শুটিং শেষ হলেও নানা কারণে এটি মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে, গতকাল বড় পর্দায় মুক্তি পায় সিনেমাটি।

২০১৭ সালের দিকে বড় বাজেট ও বিশাল সেট নির্মাণের কারণে আলোচনায় আসে ‘‌সাত ভাই চম্পা’। শুরুতে এটি ধারাবাহিক নাটক হিসেবে শুট হয়েছিল, পরে গল্পের আকার ও নির্মাণের বিশালতা দেখে সেটি ওয়েব ফিল্মে রূপ নেয়। শোনা যায়, শুধু সেট নির্মাণেই খরচ হয়েছিল কোটি টাকা।

দীর্ঘ সময়ের এ প্রকল্পটি অবশেষে রূপ নেয় পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রে। গত বছর ওয়েব ফিল্ম হিসেবে সার্টিফিকেশন পায় সিনেমাটি, যার দুটি পর্বের নাম রাখা হয় সাত ভাই চম্পা আদি পর্ব-১ ও সাত ভাই চম্পা আদি পর্ব-২। প্রথম পর্ব মুক্তি পেলেও দ্বিতীয়টি আটকে ছিল। এবার দুটি পর্ব একত্রে বড় পর্দায় মুক্তি পায়।

বঙ্গের রাজপুত্র বিজয়বাহু ও রাজজামাতা তাতার খাঁর রাজ্যজয়ের কাহিনীকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। এতে রূপকথার সঙ্গে ইতিহাসের মিশেল পাওয়া যাবে। ৫২টি লোকেশনে প্রায় ২০০ শিল্পী অভিনয় করেছেন এতে। অন্যান্য চরিত্রে আছেন মুনমুন আহমেদ, আহমেদ শরীফ, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিত সিনহা, শানারেই দেবী শানু, কেয়া পায়েলসহ অনেকে। চিত্রনাট্য করেছেন রিপন নাগ, নাজাকাত খান ও ইমতিয়াজ সজিব। প্রযোজনায় রয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। অভিনেত্রী কাজী নওশাবা বলেন, ‘‌“সাত ভাই চম্পা” সিনেমার বড় পরিসরে শুটিং শুরু হয় ২০১৭ সালে। প্রথমে এটি সিরিয়াল আকারে ধারণ করা হয়েছিল। পরে যখন এটি জনপ্রিয়তা পায় এবং ঢাকার বাইরের দর্শকদের কাছেও পরিচিতি লাভ করে, তখন আমরা ভাবি—এটিকে নতুনভাবে সম্পাদনা করে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হিসেবে মুক্তি দেয়া উচিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌বাংলাদেশে “‍বেদের মেয়ে জোসনা”র পর থেকে তেমন পোশাকি সিনেমা দেখা যায়নি। “‍সাত ভাই চম্পা” এমন একটি চলচ্চিত্র, যেখানে আছে গান, রূপকথার গল্প, প্রেম-ভালোবাসা, বিচ্ছেদ ও যুদ্ধ। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও কল্পনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ সিনেমাটি স্বল্প বাজেট ও পরিসরে হলেও পরিচালক যে স্বপ্ন দেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’ নওশাবা জানান, বড় বড় অভিনয়শিল্পীদের একত্রে নিয়ে পরিচালক দারুণ কিছু করেছেন। সিনেমাটি হঠাৎই মুক্তি পাচ্ছে, তবে সঠিকভাবে প্রচার পেলে এটি দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে এক ভালো উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে আমি বিশ্বাস করি। নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌এ সিনেমায় আমার চরিত্রের নাম দেবযানী। সে একজন রাজকন্যা, তবে প্রচলিত ধারণার রাজকন্যা নয়। কেমন সেই ভিন্নধর্মী রাজকন্যা—তা জানতে হলে দেখতে হবে “‍সাত ভাই চম্পা”।’

আরও