বিরতি শেষে রাজকীয়ভাবে ফিরছে বিশ্বসেরা ব্যান্ড বিটিএস

দীর্ঘবিরতির পর রাজকীয়ভাবে ফিরে আসছে কে-পপ বা দক্ষিণ কোরীয় পপ সংগীতের বিশ্বজয়ী দল ‘বিটিএস’। প্রায় চার বছর পর নতুন অ্যালবাম ও ওয়ার্ল্ড ট্যুর বা বিশ্বজুড়ে কনসার্টের প্রস্তুতি নিচ্ছে জনপ্রিয় ব্যান্ডটি। খবর বিবিসি।

২০২২ সালে বিটিএস যখন বিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেয়, তখন বিশ্বজুড়ে তাদের অগণিত ভক্ত বা আর্মিদের মধ্যে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, সাত সদস্যের প্রত্যেকেরই বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা সম্পন্ন করার প্রয়োজন ছিল। সে অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি নাগাদ একে একে সব সদস্য তা সম্পন্ন করে ফিরে আসেন। তাই ২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে বিটিএস-এর রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের বছর।

বিরতির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিটিএস-এর জনপ্রিয়তা খানিকটা কমেছে। স্পটিফাই-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তাদের গানের স্ট্রিমিং যথাক্রমে ২৪ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ কমেছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনপ্রিয়তা কমলেও টিকে থাকার জন্য এটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।

সাউথ কোরিয়ান কালচার বিশেষজ্ঞ ড. ফেলিসিটি ডেভিসের মতে, সামরিক পরিষেবার সময়টিকে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন বিটিএস সদস্যরা। সাত সদস্য একসঙ্গে না গিয়ে ধাপে ধাপে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন, যাতে কোনো না কোনোভাবে ভক্তদের জন্য নতুন কিছু পরিবেশন করা যায়। এ বিরতির সময়েও সদস্যরা এককভাবে গান প্রকাশ করেছেন।

বিটিএস ভক্তদের মতে, এ ব্যান্ডের বিশেষত্ব কেবল তাদের গানে নয়, বরং সদস্যদের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্ব ও ভক্তদের সঙ্গে তাদের আত্মিক সম্পর্কের মধ্যে। বাকিংহামের ২২ বছর বয়সী ভক্ত লরিন আদেনে বলেন, তাদের কঠোর পরিশ্রম আমাকে অনুপ্রাণিত করে। তাদের একক প্রজেক্টগুলো চমৎকার হলেও, সাতজন যখন একসঙ্গে থাকে, তখন যেন পাজলের সব টুকরো মিলে গিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।

২০২৬ সালটি হতে যাচ্ছে বিটিএস-এর বছর। নতুন অ্যালবামের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে কনসার্টের পরিকল্পনা করছে তারা। এর আগে ২০২১-২২ সালেও বিশ্ব ভ্রমণে বের হয়েছিল ব্যান্ডটি। তবে সেসময়কার ‘পারমিশন টু ড্যান্স’ ট্যুরটি ছিল মাত্র ১২টি শো-এর। কিন্তু এবারের আসন্ন ওয়ার্ল্ড ট্যুরটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি আয়োজন। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে প্রথম কে-পপ ব্যান্ড হিসেবে ইতিহাস গড়া এ দলটি এবার আরো বড় কোনো চমক নিয়ে ফিরছে। ভক্তরাও টিকিট পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে অপেক্ষা করছেন।

আরও