ঈদকে কেন্দ্র করেই সিনেমা মুক্তির জন্য মুখিয়ে থাকেন নির্মাতারা। সারা বছর হাতে গোনা কয়েকটা সিনেমা দেখা গেলেও মুক্তির জন্য ঈদকেই ভরসা করা হয়। ঢাকাই সিনেমার সে ধারা ভেঙে দিয়ে ১৫ নভেম্বর শুক্রবার অনন্য মামুন পরিচালিত ও শাকিব খান অভিনীত ‘দরদ’ মুক্তি পায়।
সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে দেশের ৮৩ টি হলে। মুক্তি দেয়া হয়েছে দেশের বাইরেও। ঈদ ছাড়া এমন সিনেমা দেশের প্রেক্ষাগৃহে এর আগে কবে এসেছে, তা বলা মুশকিল। তাই ‘দরদ’ যেমন ঘুমিয়ে পড়া সিনেমা হলগুলোয় আলো দিয়েছে, তেমনি প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উৎসব ফিরিয়ে এনেছে। দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এ সিনেমার দর্শক চাহিদা নিয়ে কথা বলেছেন নির্মাতা অনন্য মামুন।
তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দরদের অবস্থা এ মুহূর্তে অনেক ভালো যাচ্ছে। মাল্টিপ্লেক্সগুলো হাউজফুল যাচ্ছে। সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোর অবস্থাও অনেক ভালো। বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের যেখানে দরদ মুক্তি পেয়েছে, সেখানেই হাউজফুল যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য জেলায়ও এটি ভালো যাচ্ছে।’
সিনেমাটি বাংলাদেশ ছাড়া বাইরের কতটি দেশে চলছে, এমন প্রশ্নের জবাবে নির্মাতা বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার কাছে বাংলাদেশের বাইরে আটটি দেশের তথ্য আছে। আমরা সিনেমাটি একটি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিয়েছি, তারা দেশের বাইরে তাদের মতো করে ডিস্ট্রিবিউশন করছে। ’
দরদ নিয়ে মণিহারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোল্লা ফারুক বলেন, ‘এ সিনেমা প্রচারের জন্য সেভাবে সময় পাইনি আমরা। তার পরও প্রথম দিন দর্শক চাহিদা সকাল থেকেই চোখে পড়ার মতো। দুপুর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শক উপস্থিতি আরো বাড়তে থাকে। প্রথম দিন আমরা হলে চারটি শো ও সিনেপ্লেক্সে পাঁচটি শো চালিয়েছি। এছাড়া সবাইকে জানিয়ে রাখছি, দরদ দিয়ে আমাদের মণিহার সিনেপ্লেক্সের যাত্রা হয়েছে। কোনো উৎসব ছাড়া হলে দর্শকের এমন উপস্থিতি আমাদের আনন্দিত করেছে।’ বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় রোমান্টিক সাইকো থ্রিলার ঘরানার সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন অনন্য মামুন। এর কাহিনী ও চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি নিজেই। সিনেমাটির প্রযোজক হিসেবে আছেন অশোক ধানুকা, হিমাংশু ধানুকা, কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া ও অনন্য মামুন। সহপ্রযোজক (হিন্দি) হিসেবে আছেন করণ শাহ (ওয়ান ওয়ার্ল্ড মুভিজ)। বিশ্বজুড়ে পরিবেশন করছে অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট। শাকিব খান ও সোনাল চৌহান ছাড়াও এতে অভিনয় করেছেন পায়েল সরকার, রাহুল দেব, অলোক জৈন, রাজেশ শর্মা, সাফা মারুয়া, ইমতু রাতিশ, তানভীর তারেক, জাকির হোসাইন, ফারহান খান রিও ও বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী।