গাজা যুদ্ধকে ঘিরে পাঁচ দেশের বয়কটের মাঝে অনুষ্ঠিত ইউরোভিশন সং কনটেস্টে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে বুলগেরিয়া। গতকালের এ আয়োজনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো রানারআপ হলো ইসরায়েল। খবর রয়টার্স।
ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের পপ শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য এ প্রতিযোগিতা এবার ৭০তম বছরে এসে বড় ধরনের বিতর্কে পড়ে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে এ সংকট তৈরি হয়।
ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে স্পেন, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্লোভেনিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম প্রতিযোগিতায় অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। গত মঙ্গলবারের সেমিফাইনালে ব্যাপক বিক্ষোভ হলেও ফাইনালে ইসরায়েলের পরিবেশনা দৃশ্যমানভাবে বাধাগ্রস্ত হয়নি।
এবার জমকালো ড্যান্স নাম্বার ‘বাঙ্গারাঙ্গা’ গেয়ে জয়ী হয়েছেন বুলগেরিয়ার প্রতিনিধি দারা। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। এখন কী হচ্ছে, সেটাই বুঝতে পারছি না।’
ক্ষমতায়ন ও রাতের আবহে নিজেকে সঁপে দেয়ার বিষয় গানটি তৈরি হয়েছে। তবে এর অর্থ নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত ছিলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দারা বলেন, ‘বাঙ্গারাঙ্গা’ হলো এমন এক অনুভূতি, যা প্রত্যেকের ভেতরেই থাকে। এটা সেই মুহূর্ত, যখন আপনি ভয় নয় ভালোবাসাকে বেছে নেন।
ইসরায়েলের প্রতিযোগিতার গান ‘মিচেল’ ছিল তিন ভাষার প্রেমের গান। গত বছরের মতো এত বিতর্ক না থাকলেও গানটি আলোচনায় ছিল। গত বছর ইসরায়েলের হয়ে গান গেয়েছিলেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলা থেকে বেঁচে ফেরা এক ব্যক্তি।
দর্শক ভোটে বিপুল পয়েন্ট পেয়ে ইসরায়েল অষ্টম স্থান থেকে হঠাৎ ওপরে উঠে এলে কিছু দুয়োধ্বনি শোনা যায়। ২০২৫ সালেও একইভাবে দ্বিতীয় হয়েছিল দেশটি, যদিও তখন বিজয়ীর সঙ্গে ব্যবধান ছিল অনেক কম।
এক সপ্তাহ আগে অনলাইনে প্রকাশিত কিছু ভিডিও নিয়ে আয়োজকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা পায় ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কেএএন। অভিযোগ ছিল, ইসরায়েলি প্রতিনিধি বেত্তান ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আগ্রাসী প্রচারণা চালিয়েছেন। গত বছরও একই ধরনের বিতর্ক হয়েছিল।
ধারণা করা হয়েছিল, এবারের প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে ফিনল্যান্ডের গান ‘লিইকিনহেইতিন’। ফিনিশ ভাষার এ প্রেমের গানে জ্বলন্ত মঞ্চের আবহে পারফর্ম করেন বেহালাবাদক লিন্ডা ল্যাম্পেনিয়ুস ও পপশিল্পী পিটে পার্ককোনেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ‘এক্লিপস’ গানটিও ছিল আলোচনায়, যা গেয়েছেন দেশটির জনপ্রিয় পপ তারকা ডেল্টা গুডরেম। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ ও ফিনল্যান্ড ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে।
বয়কটের কারণে এবারের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা নেমে আসে ৩৫-এ, যা ২০০৩ সালের পর সর্বনিম্ন। এতে বৈশ্বিক টেলিভিশন দর্শকসংখ্যাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত বছর এই আয়োজনের দর্শক ছিল আনুমানিক ১৬ কোটি ৬০ লাখ, যা সুপার বোলের ১২ কোটি ৮০ লাখ দর্শকের চেয়েও বেশি।
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় পুরো আয়োজনজুড়ে পরিবেশ ছিল কিছুটা ম্লান। গতকাল ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে লোকসমাগমও ছিল সীমিত। ‘অবরোধ ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা’ হতে পারে বলে পুলিশ আশঙ্কা করলেও তা বাস্তবে ঘটেনি।
তবে মঙ্গলবারের সেমিফাইনালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। তখন এক বিক্ষোভকারী টেলিভিশন মাইক্রোফোনের আওতার মধ্যে ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ ও ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন। পরে আরো তিনজনের সঙ্গে তাকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেয়া হয়।