হলিউড বক্স অফিস

স্টার ওয়ার্সের শুভ সূচনা, চার দিনে ১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে আয়

‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’-এর বাজেট তুলনামূলকভাবে কম। ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ছবিটি ইতিবাচক দর্শক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। সিনেমাস্কোর এক্সিট পোল অনুযায়ী এটি ‘এ-’ গ্রেড পেয়েছে

সাত বছর পর ‘স্টার ওয়ার্স’ ভক্তদের সিনেমা হলে যাওয়ার বড় কারণ তৈরি হয়েছে। আর সেই সুযোগে ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’ চলচ্চিত্রটি উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে উত্তর আমেরিকায় ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছে। আর সোমবারের মেমরিয়াল ডে ছুটি পর্যন্ত আনুমানিক আয় দাঁড়াবে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার। খবর ভ্যারাইটি।

অবশ্য এ ফলাফল নিয়ে বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া মিশ্র। মহামারী-পূর্ব সময়ে যেকোনো সিনেমার জন্য ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ডলারের বেশী উদ্বোধনী আয় একটি বড় অর্জন। অন্যদিকে হলিউডের অন্যতম শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে ‘স্টার ওয়ার্স’ আরো বড় ওপেনিং প্রত্যাশা করে। সে দিক থেকে ২০১২ সালে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ডিজনি কিনে নেয়ার পর থেকে এটি সবচেয়ে দুর্বল সূচনা।

এর আগে ২০১৮ সালের স্পিন-অফ ‘সোলো: আ স্টার ওয়ার্স স্টোরি’ উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং মেমরিয়াল ডে পর্যন্ত ১০ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় করে রেকর্ড গড়ে। তবে তীব্র সমালোচনা ও দর্শক প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে ব্যর্থ হয় ‘সোলো’ এবং থিয়েটার রানে প্রথমবারের মতো লোকসানের মুখে পড়ে কোনো ‘স্টার ওয়ার্স’ চলচ্চিত্র। ৩০ কোটি ডলার বাজেটের বিপরীতে বিশ্বব্যাপী আয় করে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার।

‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’-এর বাজেট তুলনামূলকভাবে কম। ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ছবিটি ইতিবাচক দর্শক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। সিনেমাস্কোর এক্সিট পোল অনুযায়ী এটি ‘এ-’ গ্রেড পেয়েছে।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন জোন ফ্যাভরু। গল্পটি ডিজনি প্লাস সিরিজ ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’-এর তৃতীয় সিজনের পরবর্তী সময়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত। সিনেমাটি আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটি ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করেছে, ফলে বৈশ্বিক ওপেনিং দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আর চার দিনে পৌঁছাতে পারে ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, ‘স্টার ওয়ার্স’ ঐতিহ্যগতভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলকভাবে দুর্বল পারফর্ম করে।

২০১৯ সালের ‘দ্য রাইজ অব স্কাইওয়াকার’-এর পর এটি প্রথম ‘স্টার ওয়ার্স’ চলচ্চিত্র। ওই চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল এবং সমাপ্তি টেনেছিল নয়-পর্বের ‘স্কাইওয়াকার সাগা’র। এরপর দীর্ঘ সময় বড় পর্দায় কোনো নতুন ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমা আসেনি। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ডিজনি প্লাস সিরিজের দিকে মনোযোগ দেয়। এসময় রিলিজ হয়েছে দ্য বুক অব বোবা ফেট, আসোকা, অ্যান্ডর ও স্কেলেটন ক্রু।

ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে আবার বড়পর্দায় শক্তভাবে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে ডিজনি। ২০২৭ সালের মেমরিয়াল ডে’তে মুক্তি পাবে ‘স্টার ওয়ার্স: স্টারফাইটার’। শান লেভি পরিচালনায় অভিনয় করবেন রায়ান গসলিং, যাকে স্টুডিও একটি নতুন সূচনা হিসেবে দেখছে।

বক্স অফিস বিশ্লেষক ডেভিড এ গ্রস বলেন, দীর্ঘদিন স্ট্রিমিংয়ে মনোযোগ দেয়ার পরও ‘স্টার ওয়ার্স’ ফ্র্যাঞ্চাইজি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি। এটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।

এদিকে মেমরিয়াল ডে’র চার দিনে ছুটিতে হলিউডে মোট বক্স অফিস আয় দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা প্রাক-মহামারীর কাছাকাছি হলেও গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম।

বক্স অফিসে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ‘অবসেশন’ দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছে। ছবিটির মোট আয় ৫ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।

এপ্রিলে মুক্তি পাওয়া ‘মাইকেল’ রয়েছে তৃতীয় স্থানে। লায়নসগেট প্রযোজিত মাইকেল জ্যাকসন বায়োপিকটি সপ্তাহান্তে ২ কোটি ডলার আয় করেছে এবং সোমবার পর্যন্ত আনুমানিক আয় দাঁড়াবে ২ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। পঞ্চম সপ্তাহে হিসেবে এটি বড় অংক।

এখন পর্যন্ত ‘মাইকেল’ উত্তর আমেরিকায় ৩১ কোটি ৯০ লাখ এবং বিশ্বব্যাপী ৭৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার আয় করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই এটি ২০১৮ সালের ‘বোহেমিয়ান র‌্যাপসোডি’-কে ছাড়িয়ে গিয়ে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা মিউজিকাল বায়োপিক হয়ে উঠবে। ‘বোহেমিয়ান র‌্যাপসোডি’র আয় ৯১ কোটি ১০ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, ডিজনির ‘দ্য ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা টু’ চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে। ছবিটি সপ্তাহান্তে ১ কোটি ২৬ লাখ ডলার এবং সোমবার পর্যন্ত আনুমানিক আয় দাঁড়াবে ১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। বড় পর্দায় চার সপ্তাহ চলার পর নস্টালজিক সিক্যুয়েলটি এখন পর্যন্ত উত্তর আমেরিকায় ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ৬০ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করেছে।

আরও