আনন্দঘন এ আবহে নিজের নতুন সিনেমা ‘মালিক’-এর প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকের সঙ্গে সরাসরি ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি নিজের দীর্ঘ অভিনয় জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও বক্স অফিসের সমীকরণ নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। শুভর মতে, সিনেমার জয়-পরাজয় নিয়ে আগে থেকে নিশ্চিত করে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা অসম্ভব।
নিজের অভিনয় জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করে গণমাধ্যমকে শুভ বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে কাজ করেছি, এমন সিনেমা হয়তো অতটা দর্শকনন্দিত হয়নি। আবার অনেক দুশ্চিন্তা করেছি যেটা নিয়ে, সে সিনেমাই দেখা গেছে দর্শকনন্দিত হয়ে গেছে। আপনি যতই বিপণন বা প্রচারণা করুন না কেন, সিনেমা আসলে অনিশ্চিত। এটা দেখার পর ভালো লাগা বা না লাগার শেষ সিদ্ধান্তটা কেবল দর্শকই ঠিক করতে পারেন।’
সিনেমা যে কতটা অনিশ্চিত, তা বোঝাতে গিয়ে এ তারকা অভিনেতা ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাস সৃষ্টিকারী সিনেমা ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র উদাহরণ দেন। তিনি জানান, অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের মুখ থেকেই শোনা, শুটিংয়ের সময় অনেকেই নাকি তাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, গাজীপুরে গিয়ে সাপের খেলা দেখাচ্ছেন, তিনি পাগল হয়ে গেছেন নাকি? কিন্তু মুক্তির পর সে সিনেমা যা ইতিহাস তৈরি করল, তা সবারই জানা।
২০০৪ সালে ফ্যাশন শো দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা আরিফিন শুভ রোম্যান্টিক ঘরানার ‘ছুঁয়ে দিলে মন’, অ্যাকশন ধাঁচের ‘ঢাকা অ্যাটাক’ কিংবা ‘মিশন এক্সট্রিম’-এর মতো সিনেমায় বিভিন্ন চরিত্র ও লুকে অভিনয় করে নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন। এমনকি ভারতের ‘জ্যাজ সিটি’র মতো ভিন্ন ভাষার সিরিজেও কাজ করেছেন তিনি। নিজের কাজের পরিধি ও যোগ্যতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভ বলেন, ‘আমি কী পারি সেটা ইন্ডাস্ট্রি জানে। নিজেকে নতুন করে প্রমাণ দেয়ার মতো কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। এখন ইন্ডাস্ট্রি যদি আমার কাছে আসে ভালো, আমি ইন্ডাস্ট্রির কাছে যেতে পারব না।’
অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের পর ‘মালিক’ সিনেমাটি দর্শকের সামনে এসেছে জানিয়ে এ নায়ক বলেন, সব সমীকরণ পেরিয়ে তার এখন একটাই চাওয়া, সিনেমাটি যেন দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়।
আরিফিন শুভর এ খোলামেলা বক্তব্য মূলত চলচ্চিত্র জগতের বাস্তব সত্যকে তুলে ধরেছেন। তার মানে সিনেমার আসল মালিক বা ভাগ্যবিধাতা হলেন দর্শক। শতভাগ বিপণন বা প্রচারণাও একটি সিনেমার সাফল্য নিশ্চিত করতে পারে না, যদি না তাতে দর্শকের হৃদস্পন্দন মিশে থাকে।’ ক্যারিয়ারের নানা চড়াই-উতরাই পার করা শুভ বক্স অফিসের জটিল সমীকরণের চেয়ে দর্শকের ভালোবাসাকেই তিনি সবচেয়ে বড় করে দেখছেন।