যেকোনো সৃষ্টিশীল কাজ ভীষণ উপভোগ করি

থিয়েটারে নির্দেশনার অভিজ্ঞতা থাকলেও চলচ্চিত্র নির্মাণে এবারই প্রথম নাম লেখালেন অভিনয়শিল্পী ।

আইএফএম ও গ্রিন ফিল্মসের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ‘সোমেশ্বরী’ সিনেমায় পরিচালনা ও অভিনয় করছেন তিনি। এ সিনেমা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে অভিনেত্রী কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

নির্মাতা হিসেবে আপনার প্রথম যাত্রা সোমেশ্বরী চলচ্চিত্র দিয়ে...

নির্মাতা হিসেবে আমার প্রথম যাত্রা থিয়েটারে। সেটির নাম ‘মুক্তি আলোয় আলোয়’। এরপর ২০১৮ সাল থেকে প্রতি বছরই থিয়েটারে একটা করে ডিরেকশন দিয়েছি আমাদের দল টুগেদার উই ক্যান থেকে। যেখানে আমরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সোমেশ্বরী সিনেমাটির পরিচালক আমি একা নই। আমরা বন্ধুরা অনেকে মিলে সম্মিলিতভাবে কাজটি করছি। এ কাজ আইএফএম ও গ্রিন ফিল্মসের যৌথ উদ্যোগে নির্মাণ হচ্ছে।

সিনেমাটি নিয়ে আপনাদের প্রত্যাশা ও মুক্তির পরিকল্পনা কী?

আমরা একেবারেই সীমিত সময়ের মধ্যে বন্ধুরা মিলে কাজটা করেছি, আমরা চাই সিনেমাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাক এবং পাশাপাশি বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবেও যাক। আমরা সিনেমার গল্পটি যেভাবে বানাতে চেয়েছি, ঠিক সেভাবেই বানিয়েছি। পুরো কাজটি আমাদের দলীয় সিদ্ধান্তেই হয়েছে। মুক্তির সিদ্ধান্তও সবকিছু ঠিক করে জানানো হবে।

সিনেমার চিত্রনাট্য বা নিজের চরিত্র নিয়ে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই আপনারা মধ্যনগরে শুটিংয়ে গিয়েছিলেন। এ প্রস্তুতি ছাড়া শুটে যাওয়ার পেছনে কারণ কী ছিল?

এটা মূলত আইএফএমের মডিউলের একটি অংশ ছিল, আমরা আগে থেকে কোনোভাবেই কোনো স্ক্রিপ্ট বা চিত্রনাট্য তৈরি করতে পারব না। নিয়ম অনুযায়ী আমাদের সবাইকে প্রথমে সেখানে যেতে হয়েছে। সেখানকার জলবায়ু, মানুষ ও তাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর পর স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত গল্পগুলো থেকেই সিনেমার গল্পটি দাঁড় করাতে হয়েছে। অভিনয়ের ব্যাপারে আমাদের ইচ্ছে ছিল পুরো টিমটিই যেন মধ্যনগরের স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে কাস্টিং করা হয়। কিন্তু যে চরিত্র শেষ পর্যন্ত আমাকে করতে হয়েছে, সে চরিত্রের জন্য ওই অল্প সময়ের মধ্যে আমরা স্থানীয় কাউকে মেলাতে পারিনি। তখনই আমাদের টিম দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে চরিত্রটি আমিই করব। যে কারণে আগে থেকে কোনো প্রস্তুতির বিষয় ছিল না।

গ্রামীণ একটি চরিত্রে নিজেকে ফুটিয়ে তোলার অভিজ্ঞতা এবং মধ্যনগরের স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা আপনাকে কতটা সহজ করেছে?

সোমেশ্বরী টিমের সবার মধ্যে এত সহজ ও শিশুসুলভ একটা স্পিরিট ছিল যে আমাদের মনে হচ্ছিল, আমরা সবাই মিলে দারুণ কোনো এক অভিযানে এসেছি।

এ অভিযানে এসে আমি নতুন করে বুঝলাম, একটি নতুন দলের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করতে যাওয়া এবং একেবারেই অচেনা একটা জায়গায় (মধ্যনগর) যাওয়ার অনুভূতিটা কেমন। ওই জায়গাটি সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে আমার বা আমাদের অনেকেরই পূর্বধারণা তেমন ছিল না। তবে সেখানে আমাদের সবারই একটা বিষয়ে দারুণ আগ্রহ ছিল, তা হলো মানুষকে কাছ থেকে দেখার ও জানার চেষ্টা।

শুটিংয়ের প্রতিটি মুহূর্তে আমি আমার বাবা-মাকে স্মরণ করেছি। ছোটবেলা থেকে তারা আমাকে এত ভিন্ন ভিন্ন জায়গা ও পরিস্থিতিতে নিয়ে গেছেন যে কোনো পরিবেশই আমার কাছে অসম্ভব বা কঠিন মনে হয়নি। খুব সহজেই আমি স্থানীয় মানুষ আর তাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে যেতে পেরেছি। ওখানকার প্রতিটি পরিবার ও মানুষ আমাদের ভীষণ সহযোগিতা করেছে। তাই নিজের শৈশব, পিতা-মাতা ও চারপাশ পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতাই এ চরিত্রে কাজ করার প্রক্রিয়াটি আমার জন্য সহজ করে দিয়েছে। এটি পুরোপুরি একটি টিমওয়ার্ক ছিল।

সোমেশ্বরীর গল্পে আপনারা কী বার্তা তুলে ধরতে চেয়েছেন?

সোমেশ্বরী মূলত প্রকৃতির কথাই বলে। প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির গল্প বলাটাই এর মূল বিষয়। তবে এ নিয়ে এ মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না। বাকি কাজ অর্থাৎ এডিটিং প্যানেলের কাজগুলো শেষ হোক। আমরা বন্ধুরা একযোগে কাজটি করছি। পুরো এডিটিং শেষ হওয়ার পর যখন দর্শক পর্দায় এটি দেখবে, আশা করি আমাদের আসল বার্তাটি তাদের কাছে পৌঁছে যাবে।

এ সিনেমায় আপনি একই সঙ্গে পরিচালনা ও অভিনয় দুটো ভূমিকায় আছেন। এ দ্বৈত দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আমি যেকোনো সৃষ্টিশীল কাজ ভীষণ উপভোগ করি। যখন কোনো সিনেমায় কাজ করি, আমি চেষ্টা করি দলের অংশ হয়ে কাজটা করার। থিয়েটারের ক্ষেত্রে এ চর্চা আমার আগে থেকেই ছিল এবং নিজের দল টুগেদার উই ক্যানে নির্দেশনা বা অভিনয় করার কারণে এ অভ্যাস আমার মাঝে দারুণভাবে রয়েছে। চলচ্চিত্র আসলে একার কাজ নয়, এটি একটি টিমওয়ার্ক। সবার সহযোগিতা ছিল বলেই একই সঙ্গে দুটি দায়িত্ব আমি পালন করতে পেরেছি।

সোমেশ্বরী ছাড়াও এ মুহূর্তে আপনার হাতে আর কী কী কাজ আছে?

সোমেশ্বরী ছাড়া সম্প্রতি আমি ‘ঠাণ্ডা গোশত ২.০’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করেছি, যেটি শাহ নেওয়াজ খান সিজু ও সুমাইয়া আরজু মুহু পরিচালনা করেছেন। সাদাত হাসান মান্টোর গল্প অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমার বিষয়বস্তু ভীষণ সময়োপযোগী। এছাড়া আরো দুটি সিনেমার শুটিং শেষ হয়েছে, যেগুলোর ডাবিংয়ের কাজ এখন চলছে। পাশাপাশি নতুন আরেকটি সিনেমা বানানোর জন্য আমাদের স্ক্রিপ্টিংয়ের কাজ চলছে। আরো কয়েকটি সিনেমার ব্যাপারে কথা চলছে, তবে সেগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

আরও