পুরনো দিনের গ্রামের জীবনযাপন দেখা যাবে আজিরনে

ছোটপর্দার পরিচিত মুখ অভিনেত্রী সুমাইয়া অর্পা। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘আজিরন’। অভিনয়ের নানা অভিজ্ঞতা ও বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

অভিনয়ে আসার শুরুর গল্পটা জানতে চাই...

২০২২ সালের শেষের দিকে উচ্চ মাধ্যমিকের পর অভিনয় শুরু করি। শখ থেকেই কাজ শুরু করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে নাটকের অফার আসতে থাকে। প্রথমে প্রধান চরিত্রের বন্ধুর চরিত্র দিয়ে শুরু করেছি। এভাবেই আমার অভিনয়যাত্রা শুরু হয়।

বর্তমানে আর কী কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত?

এখন নিয়মিত সিঙ্গেল নাটক করছি। এছাড়া দুটি ধারাবাহিক নাটকের সঙ্গে যুক্ত আছি—বৈশাখী টিভিতে ‘গৃহযুদ্ধ’ এবং আরটিভিতে ‘ম্যারেজ মাস্টার’। ইউটিউবেও একটি ধারাবাহিক করছি, ‘কিসফাট ফ্যামিলি’।

সম্প্রতি আমার একটি নাটক প্রচার হয়েছে। নাটকটি প্রচারের পর দর্শকের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পেয়েছি।

মুক্তির অপেক্ষায় থাকা আজিরন চলচ্চিত্রটি নিয়ে জানতে চাই।

আজিরন সরকারি অনুদানের একটি সিনেমা। আমরা গত বছর এর কাজ করেছি। এটি পরিচালনা করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক ভাই। তার সঙ্গে কাজ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়েছে। আমাদের সঙ্গে আরো ছিলেন গোলাম কিবরিয়া তানভীর ভাই, কায়েস আরজু ভাইসহ আরো অনেকে।

সিনেমার গল্পটাও খুব ভালো। অনেক বছর আগে গ্রামের মানুষের জীবনযাপন দেখা যাবে আজিরনে।

নাটকে অল্প দিনের ক্যারিয়ারে এসেই সিনেমায় কাজ করা কতটা চ্যালেঞ্জ ছিল?

চ্যালেঞ্জ তো ছিলই। আমি খুব নার্ভাসও ছিলাম। সবাইকে বলেছিলাম, নাটকেও আমি খুব নতুন। সেখানে সিনেমা তো আরো বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সবাই আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। পরিচালকের মনে হয়েছে, আমি চরিত্রটি করতে পারব।

শেখার মধ্য দিয়ে আমি যতটুকু অভিনয় দেখাতে পেরেছি, সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এখন বাকিটা দর্শকই বলবে, আমার অভিনয় কেমন লেগেছে।

এখন অভিনয়ে নিজেকে কতটা পরিণত মনে হয়?

নিজেকে কখনই পুরোপুরি পরিণত মনে হয়নি। যত চরিত্রেই অভিনয় করি, ততবারই মনে হয়, আরো ভালোভাবে করা দরকার ছিল, আরো ভালো করা উচিত ছিল। অভিনয়ের ক্ষুধাটা আমার কখনই মেটেনি। এখন পর্যন্ত এমন মনে হয়নি যে আমি খুব ভালো অভিনয় করেছি। কারণ অভিনয় করা অনেক কঠিন ব্যাপার।

কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা আছে?

আমার ইচ্ছা পারিবারিক গল্পে কাজ করার। আমার বয়স অনুযায়ী পরিচালকরা আমাকে এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা স্কুলে পড়ুয়া মেয়ের চরিত্র দিয়েছেন। তবে আমার ইচ্ছা ভালো গল্প, বিশেষ করে পারিবারিক গল্পে কাজ করার। এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই, যেখানে আমি আমার অভিনয়টা ভালোভাবে তুলে ধরতে পারব।

কাজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত কোন চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছেন?

কাজ করতে গেলে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে। কারণ সব চরিত্র এক রকম নয়। কখনো দেখা যায়, একটি দৃশ্যের মধ্যে আমি এমনভাবে আটকে গেছি যে একটি সংলাপও ঠিকভাবে বলতে পারছি না।

মোশাররফ ভাইয়ের সঙ্গে একটি নাটকে কাজ করেছিলাম। ওই নাটকে আমার কিছু সংলাপ ছিল, যেগুলো নিয়ে আমি বারবার নার্ভাস হয়ে যাচ্ছিলাম। আমার মনে হয়েছে, ওই চরিত্রই আমার জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল।

আমার বয়সের তুলনায়ও চরিত্রটি অনেক ভারী ছিল। বয়সের তুলনায় যখন কোনো ভারী চরিত্র আসে, তখন সেটা আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়।

ওয়েব কনটেন্ট বা সিনেমায় কাজ করার পরিকল্পনা আছে?

ওটিটিতে কাজ করার ইচ্ছা আছে। এটি অনেক বড় একটি প্লাটফর্ম। কেউ যদি আমাকে নিয়ে চিন্তা করেন, তাহলে অবশ্যই কাজ করা হবে। তবে সেটি অনেকটাই নির্ভর করছে পরিচালকদের ওপর। তারা যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করে কোনো কাজের জন্য ভাবেন, তাহলে অবশ্যই কাজ করতে চাই।

যারা নতুন করে অভিনয়ে আসতে চান, তাদের জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন?

যারা অভিনয়ে আসতে চান, তাদের অবশ্যই স্বাগত জানাব। নতুনরা যার সঙ্গেই কাজ শুরু করুন, জেনে-বুঝে এবং বেছে কাজ করলেই ভালো।

কোন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করছেন, সেটাও দেখতে হবে। এখন অনেক সিন্ডিকেট আছে। একজনের সঙ্গে কাজ করলে বলা হয়, তিনি অমুকের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাকে নেয়া যাবে না। আমিও এর শিকার হয়েছি। এমনও বলা হয়েছে, সে গ্রামের চরিত্রে কাজ করে, তাকে নিয়ে ঢাকার গল্প করা যাবে না।

কিন্তু একজন শিল্পী তো অভিনয় করছে। একজন শিল্পী তার দক্ষতা প্রকাশ করার চেষ্টা করছে। পরিচালক অনেক, কাজও অনেক ধরনের। জেনে-বুঝে বেছে কাজ করাই বুদ্ধির কাজ।

নাটকের বর্তমান সময়কে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

এখন অনেক ভালো মানের কাজ হচ্ছে। মাঝখানে নাটকের একটা খারাপ সময় ছিল। তবে এখন ভালো নির্মাণ হচ্ছে, ভালো গল্প নিয়ে কাজ হচ্ছে।

তবে কিছু সিন্ডিকেট এখনো আছে। সেগুলো ভেঙে দেয়া উচিত। একজন শিল্পী গ্রামের দৃশ্যে কাজ করে বলে তাকে শহরের গল্পের কাজে নেয়া যাবে না—এ ধরনের বিষয়গুলো যেন না থাকে। শিল্পীকে তার কাজ ও যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগ দেয়া উচিত। নাটকের জায়গাটা আরো উন্মুক্ত হলে সবাই আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারবে।

আরও