বিশেষ করে পাঞ্জাবি সংগীত জগতে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ব্যতিক্রমী কণ্ঠশৈলী, সুফি ও ফোক ঘরানার মেলবন্ধন ও গায়কীর এক অদ্ভুত জাদুতে তিনি শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ‘তিতলিয়াঁ’র মতো ব্লকবাস্টার গান দিয়ে রাতারাতি তুমুল জনপ্রিয়তা পান আফসানা। তবে তিনি কেবল আঞ্চলিক গানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং বলিউডের মূল ধারায়ও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ধুরন্ধর সিনেমায় তার গাওয়া ‘রং দে লাল ওয়ে ওয়ে’ চমৎকার গানটি নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা ভারতীয় সংগীতের আকাশে তার অবস্থানকে আরো সুসংহত করেছে। এ ক্রমবর্ধমান ব্যস্ততা ও বলিউডের কাজের পরিধি আরো বাড়াতেই এবার বড় এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এ গায়িকা। পাঞ্জাব ছেড়ে স্বামী সাজ শর্মাকে নিয়ে পাকাপাকিভাবে মুম্বাইয়ে থাকছেন তিনি।
কাজের তাগিদেই মায়ানগরীতে স্থায়ী হওয়া
পাঞ্জাবি ও হিন্দি উভয় ইন্ডাস্ট্রিতে সমানতালে কাজ করা ৩১ বছর বয়সী আফসানা জানান, এ স্থানান্তরের পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল তার পেশাগত ব্যস্ততা। মুম্বাইয়ে যেভাবে বিনোদন জগতের কাজ চলে, তার জন্য সেখানে সার্বক্ষণিক উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানের বেশির ভাগ বড় প্রজেক্টের শুটিং, রেকর্ডিং ও গুরুত্বপূর্ণ মিটিংগুলো মুম্বাইকেন্দ্রিক হওয়ায় তিনি মনে করেছেন, কাজ যেখানে—তার অবস্থানও সেখানেই হওয়া উচিত।
তবে এ স্থানান্তর কেবল ক্যারিয়ারের একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তই নয়, বরং আফসানার দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণও বটে। মুম্বাইয়ে নিজের একটি বাড়ি কেনার স্বপ্ন নিয়ে অনেক শিল্পীই এ শহরে পাড়ি জমান। আফসানাও তার সে স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আন্ধেরি ওয়েস্ট-লোখান্ডওয়ালায় একটি ২-বিএইচকে ফ্ল্যাট কিনেছেন তারা। বর্তমানে বাড়িটির ইন্টেরিয়রের কাজ চলছে বিধায় তারা সাময়িকভাবে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে গৃহপ্রবেশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নতুন বাড়িতে উঠবেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
আঞ্চলিক ও বলিউড গানের চমৎকার ভারসাম্য
মুম্বাইয়ে চলে আসার কারণে পাঞ্জাবি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি বা উত্তর ভারতের প্রজেক্ট থেকে তিনি দূরে সরে যাবেন কিনা, এমন আশঙ্কা অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন আফসানা। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে দূরত্ব এখন কোনো বাধা নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, আগে যখন চণ্ডীগড়ে থাকতেন, তখনো বলিউডের মানুষ সেখানে কাজ পাঠিয়ে দিতেন। তাই দুই ইন্ডাস্ট্রির কাজের মধ্যেই চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখার ব্যাপারে তিনি শতভাগ আত্মবিশ্বাসী।
সংগীতের ক্ষেত্রে আফসানা বরাবরই সংখ্যার চেয়ে মানের ওপর জোর দিয়ে এসেছেন। ধুরন্ধর সিনেমার গানের বিপুল সাফল্যের পরও তিনি পরবর্তী কাজের ক্ষেত্রে বেশ ধীরস্থির ও বাছাই করে কাজ করছেন। অন্ধের মতো প্রচুর গান করার চেয়ে যে কাজ তার মন ছুঁয়ে যায়, কেবল সেটাই করতে ভালোবাসেন এ গায়িকা।
আফসানা খানের মুম্বাইয়ে স্থায়ী হওয়ার এ সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, নিজের প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে একজন আঞ্চলিক শিল্পীও অনায়াসে জাতীয় স্তরে রাজত্ব করতে পারেন। ধুরন্ধর সিনেমার সাফল্যের পর তার এ নতুন পথচলা বলিউডে শিল্পীর অবস্থানকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করবে। কাজের প্রতি তার এ সততা এবং বেছে বেছে ভালো গান উপহার দেয়ার মানসিকতা আগামী দিনেও শ্রোতাদের আরো দুর্দান্ত কিছু গান উপহার দেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সংগীতপ্রেমীদের।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস