নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনে বিপর্যস্ত শিল্পাঙ্গন। ঢাকা, কলকাতা থেকে মুম্বাই চলচ্চিত্রের শিল্পী ও কলাকুশলীরা একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছেন প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে। গত ২৬ ডিসেম্বর তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ২৯ ডিসেম্বর থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। সোহেল রানার করোনা আক্রান্তের খবর জানিয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। তবে গতকাল তার অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট থেকে আইসিইউতে নেয়া হয়। নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর বসবাস করেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। সেখান থেকেই এসেছে করোনায় আক্রান্তের খবর। ২৯ ডিসেম্বর তার করোনা আক্রান্তের খবর জানান পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। গণমাধ্যমকে মানিক বলেন, ‘শাবনূর করোনা পজিটিভ, এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তিনি ভালো আছেন এবং মনিটরিংয়ের জন্য হাসপাতালে আছেন।’ পরদিন শাবনূরের ছেলে আইজান নেহানের শরীরেও ধরা পড়ে করোনাভাইরাস। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম হামিদ এবং সাংবাদিক নেতা ও শিল্পী-নির্মাতা ফাল্গুনী হামিদ করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এ দম্পতির করোনা আক্রান্তের খবর জানিয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবু।
বিলডাকিনী নামের একটি চলচ্চিত্রে শুটিংয়ের জন্য বাংলাদেশে আসার কথা ছিল কলকাতার অভিনেত্রী পার্নো মিত্রর। তার আগে তৃতীয়বারের মতো এ অভিনেত্রীর শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ফলে বাংলাদেশে আসা পিছিয়ে যায় ডুব সিনেমায় অভিনয় করা পার্নো মিত্রর।
এদিকে ৪ জানুয়ারি ২৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এর একদিন পরেই তিনি করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর জানান। একই সঙ্গে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষও। ৫ জানুয়ারি টুইট করে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন ভুবন মাঝি সিনেমার এ নায়ক। তিনি জানান, গত ২৭ ডিসেম্বর মুম্বাই থাকাকালীন কিছু মৃদু উপসর্গ ছিল তার। কিন্তু সে সময় করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এরপর ৩০ ডিসেম্বর কলকাতায় ফেরেন। একটা রুটিন টেস্ট করতে গিয়ে তার কভিড পজিটিভ রিপোর্ট আসে। একই দিন রুদ্রনীল ঘোষও সামাজিক মাধ্যমে জানান, তিনি করোনা পজিটিভ। বর্তমানে রয়েছেন হোম আইসোলেশনে। সবাইকে সাবধানে ও সুস্থ থাকতে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। গত কয়েক দিনে বাড়ির বাইরে না গিয়েও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন টালিগঞ্জ অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। মিমি জানান, এ ভাইরাস ভীষণভাবে কাবু করে ফেলেছে তাকে। বর্তমানে বাড়িতেই আইসোলেশনে রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলছেন।
বছরের প্রথম দিনেই করোনা আক্রান্তের খবর আসে টালিউড নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির। সামাজিক মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সৃজিত নিজেই জানান। এ সময় তার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তার সঙ্গে থাকা স্ত্রী বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও তার কন্যা আইরা তেহরীম খান। এবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মিথিলার কন্যা আইরাও। মিথিলা বলেন, ‘সৃজিতের পর আমার মেয়ে আইরারও করোনা পজিটিভ এসেছে। তিনদিন ধরে তার জ্বর ছিল। এখন বেশ ভালো আছে মাশাআল্লাহ।’
একই দিনে করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর দিয়েছেন কলকাতার সংগীত পরিচালক জিৎ গাঙ্গুলি। এবার নিয়ে দ্ব্বিতীয়বার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কলকাতার নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী ও অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি। ৪ জানুয়ারি রাতে আক্রান্ত হওয়ার খবর দেন টালিউডের এ তারকা দম্পতি। কলকাতার জনপ্রিয় নায়ক দেব ও তার প্রেমিকা রুক্মিণী একসঙ্গে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার বিকালে করোনা পরীক্ষা করার খবর জানান দেব। দেবের আগে এ ভাইরাস শনাক্ত হয় ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও পশ্চিমবঙ্গের টিভি উপস্থাপক সৌরভ গাঙ্গুলির শরীরেও। এ প্রতিবেদন লিখতে লিখতে কলকাতার আরেক চিত্রনায়ক সোহমের সপরিবারে করোনা আক্রান্তের খবর আসে।
বলিউডের নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী নোরা ফতেহি করোনায় আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এখনো আছেন কোয়ারেন্টিনে। মেনে চলছেন চিকিৎসকদের বিধিনিষেধ। গত ২৮ ডিসেম্বর নোরার কভিড পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। বলিউড অভিনেতা জন আব্রাহামও সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত। আরেক বর্ষীয়ান অভিনেতা প্রেম চোপড়া করোনা পজিটিভ বলে জানিয়েছে ভারতের গণমাধ্যম। বলিউড অভিনেতা জিতেন্দ্রকন্যা ও পরিচালক-প্রযোজক একতা কাপুরও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
এছাড়া বলিউডের অর্জুন কাপুর, দিলানাজ ইরানি, দ্রাষ্টি ধামি, সুমনা চক্রবর্তী, শিল্পী সনু নিগাম, অভিনেত্রী অমৃতা আরোরাসহ করোনা আক্রান্তের তালিকা বেশ দীর্ঘ। সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসান, কারিনা কাপুর, তানিশা মুখোপাধ্যায়, সানায়া কাপুর, নকুল মেহতাসহ অনেকেই।