মডেলিং দিয়ে শোবিজে পথচলা শুরু করেন প্রিয়ন্তী উর্বী। ২০২১ সালে নাটক দিয়ে শুরু হয় তার অভিনয়ের যাত্রা। এরপর ধীরে ধীরে নাটকের পাশাপাশি ওটিটি ও সিনেমাতেও কাজ করেছেন তিনি। ‘কোথায় পালাবে বলো রূপবান’, ‘জুন’, ‘নীলচক্র’র মতো কাজ দিয়ে দর্শকের নজরে আসেন তিনি। সময়ের সঙ্গে নিজের অভিনয়ের পরিসরও বাড়িয়েছেন উর্বী। তবে কাজের সংখ্যা কিংবা জনপ্রিয়তার হিসাবের চেয়ে গল্প ও চরিত্রই তার কাছে বরাবর বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে অনলাইন নাটকে ভিউকে সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়। দর্শক টানতে অনেক নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পী ভিউনির্ভর গল্প ও উপস্থাপনার দিকে ঝুঁকছেন। এমন বাস্তবতায় গল্পনির্ভর নাটকে কাজ করাকে চ্যালেঞ্জিং মনে করেন প্রিয়ন্তী উর্বী। তবে ভিউর হিসাবকে গুরুত্ব দিয়ে নিজের কাজের ধরন বদলাতে চান না তিনি। বরং দর্শক কতবার একটি কাজ দেখছেন, তার চেয়ে কাজটি করার পর নিজের কাছে কতটা তৃপ্তি পাচ্ছেন, সেটিই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এ প্রসঙ্গে প্রিয়ন্তী উর্বী বলেন, ‘ভিউনির্ভর নাটকের ভিড়ে গল্পনির্ভর নাটকে কাজ করা আসলে খুব চ্যালেঞ্জিং। কারণ এখন একটা কাজের সাফল্য অনেক সময় ভিউ দিয়ে বিচার করা হয়। কিন্তু আমি নিজে যে কাজ দেখে শান্তি পাব না, সেটা করব না। শুধু ভিউ হবে বা অনেক মানুষ দেখবে—এটা ভেবে আমি কোনো গল্প বেছে নিই না। আমি গল্পের পেছনে ছুটি বলেই হয়তো আমার কাজের ভিউ কম হয়। কিন্তু আমি যে গল্পটা করছি, যে চরিত্রটা করছি, সেখানে অভিনয়টা ভালোভাবে করতে চাই। কাজটা করার পর যেন নিজের কাছেই মনে হয়, আমি ভালো কিছু করার চেষ্টা করেছি।’
ভিউর পেছনে ছুটলে আরো অনেক নাটকে কাজ করা সম্ভব হতো বলে জানান উর্বী। তার মতে, নিয়মিত অনেক কাজ করার সুযোগ থাকলেও সব গল্পে নিজেকে যুক্ত করতে চাইনি। কারণ আমার কাছে কাজের পরিমাণের চেয়ে কাজের ধরন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
উর্বী বলেন, ‘আমি কখনই ভিউর পেছনে ছুটিনি। তাহলে অনেক নাটকে কাজ করতে পারতাম। হয়তো নিয়মিত আরো অনেক কাজ করা সম্ভব হতো। কিন্তু আমি একটা কাজ করছি, সেটার গল্পটা আমার ভালো লাগছে কিনা, চরিত্রটায় অভিনয়ের সুযোগ আছে কিনা—এসবই আগে দেখি। ভিউ আমাকে টানে না, আমাকে গল্পই টানে। একটা গল্প যদি আমাকে টানে, চরিত্রটা যদি আমাকে ভাবায়, তখনই আমি কাজটি করতে আগ্রহী হই।’
বর্তমান সময়ের নাটক নির্মাণের ধরন নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণের কথা জানান এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘অনেকে এখন মুঠোফোনে নাটক শুট করেন। ফানি, কমেডি উপাদান থাকলে প্রচুর ভিউ হয়। দর্শক কী দেখতে চাইছেন, সেটারও একটা বিষয় আছে। অনেক সময় সহজে বিনোদন দেয় এমন কনটেন্ট দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। কিন্তু আমি সব সময় সেই জায়গাটাকে অনুসরণ করতে চাই না। কারণ আমার কাছে অভিনয়টা গুরুত্বপূর্ণ। আমি এমন কাজ করতে চাই, যেখানে গল্পের একটা ব্যাপার থাকবে, চরিত্রের একটা জায়গা থাকবে এবং অভিনয় করার সুযোগ থাকবে।’
বেশি ভিউ পাওয়ার জন্য নিজের পছন্দের গল্প ও চরিত্রের সঙ্গে আপস করতে চান না উর্বী। তার কাছে অভিনয়ের সুযোগ এবং ভালো একটি গল্পের অংশ হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই বেছে বেছে কাজ করেন তিনি। জনপ্রিয়তার তাড়নায় নিজের পছন্দের জায়গা থেকে সরে যাওয়ার চেয়ে ধীরে হলেও নিজের মতো করে এগিয়ে যাওয়াতেই বিশ্বাসী এ অভিনেত্রী।
প্রিয়ন্তী উর্বীর কাজের তালিকাতেও গল্প ও চরিত্রের প্রতি তার এ আগ্রহের প্রতিফলন রয়েছে। ‘বুক পকেটের গল্প’ নাটকে মীর রাব্বীর সঙ্গে অভিনয় করে দর্শকের নজরে আসেন তিনি। পরে ‘জুন’ সিনেমাতেও মীর রাব্বীর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন। শাহরিয়ার পলক পরিচালিত ‘বকুলের বুকে রক্তকরবী’ নামে সিনেমায়ও তাদের একসঙ্গে দেখা যাবে। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন উর্বী। এছাড়া সামাজিক সচেতনতার গল্পের একটি সিনেমার শুটিং এরই মধ্যে শেষ করেছেন তিনি।
সামনে আরো ভালো গল্প ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করতে চান। ভিউ কিংবা কাজের সংখ্যার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে অভিনয়ের মান ধরে রাখাই তার লক্ষ্য। অভিনেত্রীর কাছে অভিনয়ের পথটা শুধু জনপ্রিয়তা কিংবা সংখ্যার হিসাব নয়; বরং পছন্দের গল্প, চরিত্র এবং নিজের অভিনয়কে আরো ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাই মুখ্য। এ প্রসঙ্গে উর্বী বলেন, ‘আমি চাই অভিনয়টা ভালোভাবে করতে। এমন কিছু চরিত্রে কাজ করতে চাই, যেগুলো আমাকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে চ্যালেঞ্জ করবে। কাজের সংখ্যা কত হলো বা ভিউ কত হলো, সেটা আমার কাছে বড় বিষয় নয়। একটা ভালো গল্পের অংশ হতে পারা এবং চরিত্রটা ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’