ঢাকাই সিনেমার ব্যস্ত নায়ক সাইমন সাদিক। অভিনয় ক্যারিয়ারে এক দশকের বেশি সময় পার করেছেন এ অভিনেতা। তিনি উপহার দিয়েছেন একাধিক জনপ্রিয় সিনেমা। আগামীকাল মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ শেষ বাজি’। নতুন বছরের প্রথম সিনেমা মুক্তি নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন সাইমন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী
নতুন
বছরে নতুন সিনেমা আসছে আপনার...
হ্যাঁ, এটা খুব সুন্দর একটা অনুভূতি আমার জন্য। তবে চিন্তাও আছে। চিন্তার মূল কারণ হচ্ছে দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করার একটা বিষয় থাকে। দর্শকের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়টা আমাকে এ মুহূর্তে ভাবাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করেছি এমনভাবে শেষ বাজির কাজ করতে, যাতে দর্শকের ভালো লাগে। সিনেমাটায় সবাই খুব ভালো কাজ করেছে। তবে আমার মনে হচ্ছে, প্রচার-প্রচারণাটা আর একটু বেশি জোরদার হলে ভালো হতো। আমার মনে হয়েছে, যেমন প্রচার হওয়া উচিত ছিল সেটা এখনো হয়নি। সব মিলিয়েই চিন্তা কাজ করছে, তবে আমি সিনেমাটা নিয়ে বেশ আশাবাদী, কারণ গল্পটা খুব ভালো।
শেষ বাজি সিনেমায় লুকের জন্য প্রশংসা পাচ্ছেন। আপনার চরিত্রটা কেমন এ সিনেমায়?
এ সিনেমায় যে লুক দেখা যাচ্ছে, এটা রানিং শুটিং থেকে নেয়া। আমরা যখন শুটিং করছিলাম, তখন ফটোগ্রাফার ছবিটা তুলেছেন। আমরা সবাই মিলেই এ ছবি বাছাই করেছি পোস্টারের জন্য। গল্পের বেশির ভাগ অংশে আমাকে পোস্টারের এ লুকে দেখা যাবে। তবে গল্পের প্রয়োজনে আমাকে ভিন্নভাবে দেখা যাবে শেষ বাজিতে। সিনেমার ট্রেলার আসতেই অনেকে বলেছেন, ‘গল্প দেখে ফেললাম’, আসলে ট্রেলারের সঙ্গে গল্পের কোনো মিল খুঁজে পাবে না দর্শক। ট্রেলারে মূলত সিনেমার কিছু আকর্ষণীয় অংশ দেয়া হয়েছে। গল্পটা পুরোটাই সাসপেন্স। আর আমার চরিত্রটাও গল্পের মতো। চরিত্রটা পুরোটাই রহস্যে ঘেরা, একদম শেষ দৃশ্যের আগ পর্যন্ত বোঝা যাবে না।
চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী বিবেচনা করেন?
সবার আগে অবশ্যই আমি চিত্রনাট্য দেখি। আর আমি সবসময় চেষ্টা করি এমন একটা চরিত্র নির্বাচন করতে, যেটা আগে কখনো করিনি। ভিন্নধর্মী চরিত্র সবার আগে গুরুত্ব পায় আমার কাছে। আর এখনকার সময়ে দর্শক কী পছন্দ করেন, সেটা মাথায় রাখতে হয়।
বর্তমান সময়ে দর্শক কোন ধরনের সিনেমায় আগ্রহী বলে আপনার মনে হয়?
আমার মনে হয়, দর্শকের পছন্দ বোঝা অনেক কঠিন। অনেক সিনেমা কিন্তু হাইপের কারণে উতরে যায়। এমন হয় যে প্রচারণার কারণে অনেক সিনেমা হিট করে যায়। এমনকি একটা গান দিয়ে একটা সিনেমা হিট হয়ে যায়। কিন্তু দেখা গেল, সিনেমার মধ্যে কিছু নেই। তাই আমার মনে হয়, দিন শেষে একটা ভালো মানের সিনেমা নির্মাণ করতে হবে, যেটা হুজুগে হবে না। ভালো গল্প, ভালো সংলাপ, উপযোগী লোকেশন ও মিউজিক—সব মিলিয়েই সিনেমাটা ভালো হতে হবে। আর দর্শকের কাছে পৌঁছাতে প্রযোজক ও শিল্পীদের সাপোর্ট লাগবে। অনেক ভালো সিনেমা কেবল প্রচারণার অভাবে দর্শক পর্যন্ত যায় না। সিনেমা মুক্তি পেলেও দর্শক না জানলে কে এসে সিনেমা দেখবে।
ক্যারিয়ারের প্রায় এক যুগের অভিজ্ঞতার আলোকে গত বছরের সিনেমাগুলো আপনি কীভাবে বিবেচনা করবেন? আর চলতি বছর নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
আমার মনে হয়, গত বছর অনেক ভালো সিনেমা মুক্তি পেয়েছে আমাদের দেশে। এ সিনেমাগুলো দর্শকের চাহিদা পূরণে সক্ষম ছিল বলে আমি মনে করি। সেই সঙ্গে ভালো লাগার ব্যাপার ছিল যে গত বছরও দর্শক হলমুখী হয়ে সিনেমা দেখেছে। আমি বিশ্বাস করি যে ২০২৪ সালেও দর্শক হলে গিয়ে সিনেমা দেখবে। গতবার কয়েকটা সিনেমা হিট করেছিল। তবে আমি মনে করি, এ বছর অনেকগুলো সিনেমা দর্শকের মন জয় করবে।
আপনার আসন্ন কাজ নিয়ে বলা যাবে?
এ বছর আমার অনেকগুলো সিনেমা মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এর মধ্যে ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘দায় মুক্তি’, ‘গ্যাংস্টার’, ‘নরসুন্দরী’ সিনেমা আসবে। সব মিলিয়ে আটটা সিনেমা সেন্সর পেয়েছে। তাই নির্মাতা ভালো বলতে পারবে কোন সিনেমাগুলো এ বছর মুক্তি পাবে।