ঢাবিতে পাঁচ দিনব্যাপী ‘লাইলি-মজনু’ নাটকের বিশেষ প্রদর্শনী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রযোজনায় মঞ্চে আসছে সুফি সাহিত্যের চিরায়ত প্রণয়োপাখ্যান ‘লাইলি-মজনু’।

আজ থেকে ২১ মে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় এবং ২২ মে বিকাল ৫টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমণ্ডল মিলনায়তনে নাটকটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

মধ্যযুগীয় বরেণ্য কবি দৌলত উজির বাহরাম খানের অমর কাব্য অবলম্বনে নির্মিত এ নাটকের নাট্যরূপ, পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর নাহিদ খান। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের স্নাতক তৃতীয় বর্ষ ষষ্ঠ সেমিস্টারের একঝাঁক প্রতিভাবান শিক্ষার্থী।

নাটকের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে আরবের নজদ অঞ্চলের যুবক কয়েস ও রূপসী লাইলির গভীর প্রেমকে ঘিরে। শৈশব থেকেই তাদের মধ্যে জন্ম নেয় অকৃত্রিম ভালোবাসা। কিন্তু সামাজিক কঠোর বাধা, পারিবারিক তথাকথিত মর্যাদা ও লোকলজ্জার কারণে দুই পরিবারের তীব্র বিরোধিতায় তাদের মিলন অসম্ভব হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে লাইলিকে গৃহবন্দি করা হলে বিরহের তীব্রতায় উন্মাদ হয়ে পড়ে কয়েস। তার এ রাজপথের উন্মাদনার কারণেই মানুষ তাকে ‘মজনু’ বা পাগল নামে ডাকতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও অন্যত্র লাইলির বিয়ে হয়ে গেলেও হৃদয়ে সে আজীবন মজনুর প্রেমকেই ধারণ করে। দীর্ঘ বিরহ, বেদনা ও মানসিক যন্ত্রণার শেষে লাইলির মৃত্যু হলে, প্রিয়তমার বিয়োগ সইতে না পেরে মজনুও তার কবরের পাশে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে।

নাটকটির সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নির্দেশক তানভীর নাহিদ খান বলেন, ‘লাইলি-মজনু শুধু একটি প্রাচীন প্রেমকাহিনী নয়, এটি মূলত সামাজিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের হৃদয়ের আর্তি ও আত্মত্যাগের এক শাশ্বত উপাখ্যান।’

তিনি আরো জানান, কাব্যের ধ্রুপদি ভাষা, সুর ও নান্দনিক শরীরী প্রকাশের পরিমিত মেলবন্ধনের মাধ্যমে সমকালীন দর্শকের কাছে মধ্যযুগীয় সুফি ভাবধারাকে একদম নতুন আঙ্গিকে এ নাটকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সংস্কৃতিপ্রেমী ও সাধারণ দর্শকের জন্য নাটকটির প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে।

আরও