নতুন পরিচয়ে ফিরলেন শারমিন আঁখি

অভিনেত্রী শারমিন আঁখি, একজন প্রতিভাধর অভিনেত্রী। যিনি মঞ্চ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ডাবিং—সবক্ষেত্রেই নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

অভিনেত্রী শারমিন আঁখি, একজন প্রতিভাধর অভিনেত্রী। যিনি মঞ্চ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ডাবিং—সবক্ষেত্রেই নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। চট্টগ্রামের মঞ্চ থেকেই অভিনয় জীবনের শুরু তার। অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায়ের হয়ে মঞ্চে প্রথম অভিনয়। এরপর টেলিভিশন নাটক, বিজ্ঞাপন ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজের মাধ্যমে নিজেকে আরো দৃঢ় করেন। ২০১০ সালে ‘ভালোবাসা কি করে ভালো হয়’ নাটক দিয়ে আলোচনায় আসেন, ২০১৮ সালে প্রথম সিনেমা ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ করেন। পরে ‘জাস্ট আ জোক ডার্লিং’ ও ‘বলিতে’ সিরিজে কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি মিরপুরের একটি শুটিং বাড়িতে ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে আগুনে দগ্ধ হন শারমিন আঁখি। দেহের প্রায় ৩৫ শতাংশ পুড়ে যায়। হাত, পা, চুল সব জায়গায় আগুনের দাগ থেকে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় চিকিৎসা নিতে হয়। কাজের বাইরে কাটানো সে সময়েও তিনি ফিরে এসেছেন নতুন শক্তি ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের সময়গুলো ছিল আমার জন্য একটি যুদ্ধক্ষেত্র। এরপর ধীরে ধীরে ফিরে এলাম। সময়টা জীবনকে নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছে। নিজেকে ভালোবাসতে শিখেছি।’

অগ্নিদুর্ঘটনার পর মানসিকভাবে খুব কষ্ট পেয়েছেন তিনি। ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ার মুহূর্তও এসেছে। কাজের জন্য অনেক প্রযোজক, এজেন্সি ও নির্মাতারা যখন ভেবেই নিয়েছিল আঁখির ক্যারিয়ার শেষ, ঠিক তখনই পুরনো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন মনের জোরে, নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছেন এবং দ্বিগুণ উৎসাহে আবার কাজ শুরু করেছেন। যখন অভিনয় করতে পারছিলেন না, তখন বসে না থেকে কণ্ঠ দিয়ে অভিনয় চালিয়ে গেছেন নিজের শিল্পীসত্তাকে জাগ্রত রেখে।

শারমিন বলেন, ‘শিল্পী একা কিছু করতে পারে না। ইন্ডাস্ট্রির সহযোগিতা দরকার। কারো সহযোগিতা না থাকলেও বসে থাকা ঠিক নয়।’

অভিনয়ে ফিরে আসার জন্য পরিচিত বড় ভাই শিপলুর সহায়তা পেয়েছেন। শিপলু বোঝান যে কণ্ঠ ব্যবহার করেও অভিনয় করা সম্ভব। শারমিন বলেন, ‘আমি আগে কখনো ভাবিনি, কণ্ঠ দিয়েও অভিনয় করা যায়। এটা আমাকে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ দিল।’ এরপর শুরু হয় তার কণ্ঠযাত্রা।

শারমিন ‘হারকিউলিস’, ‘ম্যাকগাইভার’, ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’, ‘কুরুলুস ওসমান’, ‘বড় ভাই’সহ একাধিক ধারাবাহিকের বাংলা ডাবিং করেছেন। ডাবিংয়ের কাজ তার মানসিক স্বস্তি দিয়েছে। ‘আগুনের পর এক বছর কাজ থেকে দূরে ছিলাম। কণ্ঠ দিয়ে কাজ করতে পারাটা আমাকে আবার শিল্পী হিসেবে জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।’

অভিনয়েও ধীরে ধীরে ফিরে এসেছেন তিনি। আগস্টে মুক্তি পেয়েছে রাহাত কবিরের ফিকশন ‘ফাইভ গো ওয়াইল্ড’, যেখানে তিনি কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। প্রথমবারের মতো এখানে আইটেম গানেও নাচের চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে ভয় ছিল, আত্মবিশ্বাস কম ছিল। ধীরে ধীরে মনে হলো, চেষ্টা করলে সব সম্ভব। দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। অনেকেই গানটা দেখার জন্যই ফিকশনটা দেখেছেন, এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।’

আগুনে দগ্ধ হওয়ার পরও হার মানেননি শারমিন আঁখি। আজ তিনি কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেত্রী দুই পরিচয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস এসেছে, চেষ্টা করলে সবকিছু সম্ভব। শিল্পী হিসেবে আমার পথ এখানেই থেমে থাকবে না।’ শারমিন আঁখির গল্প শুধু একজন অভিনেত্রীর প্রত্যাবর্তন নয়, আগুন থেকে উঠে দাঁড়ানো এক নারীর সাহসী পুনর্জন্মও।

আরও