১৯৯৫ সালে মঞ্চনাটকে অভিনয় করতে গিয়ে তানভীন সুইটি নাট্যজন আবদুল্লাহ আল মামুনের চোখে পড়েন। এরপর নাট্যজন আবদুল্লাহ আল মামুন তার পরিচালিত ‘স্পর্ধা’
নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে মনোনীত করেন সুইটিকে। এ নাটকের মাধ্যমে মঞ্চে নতুনরূপে আবির্ভূত হন এ অভিনেত্রী। এরপর একে একে মঞ্চে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেন তিনি। একসময় মঞ্চ থেকে টিভি নাটকের পথে হাঁটতে শুরু করেন। অগণিত নাটকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়, মডেলিংয়ের পাশাপাশি সুইটি উপস্থাপনা কিংবা বিজ্ঞাপনেও দেখিয়েছেন তার পারদর্শিতা। গুণী এ অভিনেত্রী তার বর্তমান ব্যস্ততা, ব্যক্তিজীবন ও ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক দিক নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। আলাপ করেছেন কুদরত উল্লাহ
অভিনয়ের মানুষ অভিনয়ে নিয়মিত নেই কেন?
অভিনয়ে তেমন একটা নিয়মিত হতে পারছি না। চারদিকে সবাই একটু আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। ভয়ে কাটছে সময়, কখন জানি কী হয়, এ পরিস্থিতিতে অভিনয়ে নিয়মিত হই কীভাবে? আসলে অনেক কারণেই কাজ থেকে দূরে আছি। নাটকের আর ওই সময়টা নেই। ভালো চিত্রনাট্যের অভাব থেকে শুরু করে মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের যন্ত্রণা তো আছেই। এসব কারণে অভিনয় করা হয় না। তবে আমি খুবই আশাবাদী আমাদের টিভি নাটক নিয়ে। আমার মনে হয় আমাদের নাটকে পরিবর্তন আসবে। কারণ এখানে অনেক মেধাবী এগিয়ে আসছে। তার পরও এখন যে পরিস্থিতিতে পৌঁছেছি তাতে আর বোধহয় নিয়মিত হওয়া হবে না। তবে একেবারেই যে অভিনয় বাদ দিয়ে দিয়েছি সেটাও নয়। অনেক ভেবেচিন্তে শুটিং সেটে যাচ্ছি। কিছুদিন আগে একটা বিজ্ঞাপনের শুটিং করেছি। পিছুটান ও গুলশান এভিনিউ দুটো ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছি। আর কয়েক দিন আগে একটি ১ ঘণ্টার নাটকে অভিনয় করেছি। এই তো অভিনয়ের ব্যস্ততা।
শুটিং সেটে গিয়ে কি মনে হয়েছে ইউনিটের সবাই স্বাস্থ্যসচেতন?
ওই যে বললাম না কয়েক দিন আগে ১ ঘণ্টার একটি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছি। সেই নাটকের সেটে যাওয়ার আগেই আমি বলে দিয়েছি পুরো টিম যদি স্বাস্থ্যবিধি মানে তবেই আমি শুটিংয়ে যাব, নয়তো শুটিং করব না। তারপর পরিচালক আমাকে নিশ্চিত করেছিলেন সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শুটিং সেটে থাকবে। তার কথায় আমি ভরসা নিয়ে পরদিন শুটিং সেটে গিয়ে দেখি আসলেই আমার কথা রেখেছেন। সবাই মাস্ক পরে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার মেখে, পুরো লোকেশন জীবাণুমুক্ত করে শুটিং করেছে। এটা দেখে খুবই আনন্দ পেয়েছি আমি। তাই এখন নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি আমাদের শুটিং ইউনিটের প্রায় সবাই মানছে।
তাহলে বলতে চাচ্ছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শুটিং চলছে?
একদম ঠিক। না মেনে তো আসলে আমাদের আর কোনো উপায় নেই। শুটিং যেহেতু চলবে, সেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনেই করতে হবে। আসলে সচেতন হয়েই আমাদের জীবন ও জীবিকা চলবে। এটা মেনে নিতেই হবে। এর চেয়ে বড় কথা হচ্ছে কে কী করল, কার কী হলো এসব না ভেবে আসলে নিজেকে আগে সচেতন হতে হবে। পরে অন্যদের কথা বলতে হবে।
কভিড কিন্তু বাংলাদেশে ভয়াবহ রূপ অলরেডি ধারণ করে ফেলেছে। যার জন্য আপনি এবং আমরা কিন্তু দেখতেই পাচ্ছি কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছি আমরা। এর দায় আসলে কার? আমি তো প্রথম দিকেই সচেতন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে শুরু করে দিয়েছি। এখন কেউ যদি মানতে না চায়, তাহলে কীভাবে তাকে মানানো যাবে। সব দিকেই প্রবলেম। অথচ খুব সিম্পল একটি কাজ ছিল। হাত ধুয়ে, মাস্ক পরিধান করে, খুব জরুরি কাজ না থাকলে ঘরের বাইরে না যাওয়া।
আপনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে জানতে চাই। আগে থেকেই কোনো পরিকল্পনা ছিল নাকি সময় আপনাকে রাজনীতিতে নিয়ে গেছে?
আপনার প্রশ্নটা খুব সুন্দর। দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু রাজনীতিতে সরাসরি আসার আগে থেকেই কোনো পরিকল্পনা ছিল না। এমনকি আমি যে অভিনয় করব সেটাও কিন্তু আগে থেকে ঠিক ছিল না। সময় যখন যেভাবে যেদিকে নিয়ে যাচ্ছে আমি বয়ে যাচ্ছি শুধু। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হয়ে কাজ করছি। এখানে একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ কমিটিতে স্থান পাওয়ার মধ্য দিয়ে নারীদের জন্য আরো বেশি কাজ করতে পারব বলে আশা করি। এটি আমার জন্য খুশির বিষয়। আর পারিবারিকভাবেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। ধীরে ধীরে কখন যে এ রাজনীতির স্রোতে ঢুকে গেছি তা আমি নিজেই জানি না। উপকমিটিতে স্থান পাওয়ার মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক কাজের পরিধি আরো বেড়ে যাবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি বেশ অ্যাক্টিভ। আপনার পোস্টগুলো সচেতনতার বার্তা বহন করে। এটার কি কোনো উদ্দেশ্য আছে?
প্রশ্নটাও দারুণ করেছেন। অবশ্যই উদ্দেশ্য আছে। আর সেটা হচ্ছে সবাইকে সচেতন করে গড়ে তোলা। যেহেতু এখন আমরা সবাই সামাজিক মাধ্যমে অ্যাক্টিভ থাকি, সেজন্যই আমিও নিয়মিত অ্যাক্টিভ থাকি। তাই পোস্ট দেয়ার ক্ষেত্রে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করি, যেন আমার পোস্টের মাধ্যমে কোনো ভুল তথ্য না ছড়ায়। একদিকে আমি মানুষের কাছে একজন পরিচিত মুখ। আমার ভক্তরা আছে, তাছাড়া এখন তো দলের পদও বহন করতে হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে বলতে গেলে আমার আগে নিজের সচেতন হওয়াটা জরুরি। এর বাইরেও নিজের কাজ কিংবা অন্যদের ভালো কাজের প্রশংসাও কিন্তু আমি করি। আমার পোস্ট দেখে যদি আরেকজন মানুষ সচেতন হয় তাহলে সেটা কিন্তু আনন্দের ব্যাপার। অন্যরাও যদি এভাবে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে সঠিক তথ্য কিংবা সচেতনমূলক পোস্ট দেয় তাহলে অনেকের উপকার হবে।
অভিনয় কিংবা রাজনীতি এর বাইরে ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে আপনার কোনো চিন্তাভাবনা আছে?
নিজের সংসার, পারিবারিক কাজে এতটাই ব্যস্ত থাকতে হয় যে আর কোনো ব্যবসায়িক চিন্তা করতে পারি না বা করতেও চাই না। আমার একটা বুটিক হাউজ ছিল, এখনো আছে তবে সময় দিতে পারি না। মাঝে মাঝে অভিনয় আর দলের কাজ নিয়েই আছি। এভাবেই থাকতে চাই। নতুন কোনো পরিকল্পনা নেই। এমনিতেই বৈশ্বিক মহামারীর এ সময়টাতে ভিন্ন কোনো চিন্তা করেও কোনো লাভ নেই। চেষ্টা করছি সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে যে দায়িত্বটুকু দেয়া হয়েছে তা সঠিকভাবে পালন করার। উন্নয়নের কাজগুলো হয়তো আমরা ভোগ নাও করতে পারি, কিন্তু আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হচ্ছে এখন প্রধান লক্ষ্য।