মিস ইউনিভার্স ২০২৬ থেকে ফ্রান্স কেন সরে দাঁড়াল?

বিশ্বমঞ্চে নারীর সৌন্দর্য, মেধা, নেতৃত্ব ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের অন্যতম বড় আকর্ষণ ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতা।

তবে গত কয়েক বছর নানা অব্যবস্থাপনা আর অভ্যন্তরীণ বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না এ বৈশ্বিক আসরের। এবার সে বিতর্ককে আরো জোরালো করল ফ্রান্স। ২০২৬ সালের আসর থেকে নিজেদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রভাবশালী পরাশক্তি দেশটি। গত ২৮ মে এক জরুরি বিবৃতিতে মিস ফ্রান্স অর্গানাইজেশন নিশ্চিত করেছে যে আগামী নভেম্বরে পুয়ের্তো রিকোয় অনুষ্ঠিতব্য মিস ইউনিভার্সের আসন্ন আসরে তাদের দেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবে না।

আদর্শ ও নীতিগত সংঘাতের জেরে এ সিদ্ধান্ত

অফিশিয়াল বিবৃতিতে মিস ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতার বর্তমান গতিপ্রকৃতি, নতুন ব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রতিক রূপান্তর তাদের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক আদর্শের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিস ফ্রান্স প্রতিযোগিতার নিজস্ব পরিচিতি, সামাজিক অঙ্গীকার ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী যে মূল্যবোধ রয়েছে, তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতেই এ কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ‘আমরা মনে করি, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাটির সাম্প্রতিক বিবর্তন ও দিকনির্দেশনা আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত আদর্শের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’"যদিও তারা সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনার কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেনি, তবে বিগত ২০২৫ সালের আসরকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া অসংখ্য অব্যবস্থাপনা ও বিতর্ককে" এ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে স্পষ্টভাবে দায়ী করেছে।

ফ্রান্সের এ সিদ্ধান্ত কি স্থায়ী?

মিস ইউনিভার্সের সামগ্রিক ইতিহাসে ফ্রান্সের এ সিদ্ধান্তকে একটি বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র ও পেজেন্ট বিশেষজ্ঞরা। ১৯৫২ সালে এ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত ফ্রান্স প্রতিটি আসরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে নিয়মিত অংশ নিয়েছে। ফলে সাড়ে সাত দশকের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম এমন এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে, যেখানে ফ্রান্সের কোনো সুন্দরীকে মিস ইউনিভার্সের মূল মঞ্চে দেখা যাবে না। তবে মিস ফ্রান্স অর্গানাইজেশন বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করে স্পষ্ট করেছে, এ বর্জন কেবল ২০২৬ সালের সুনির্দিষ্ট আসরের জন্যই প্রযোজ্য। এটি কোনো স্থায়ী বিদায় বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়। ভবিষ্যতে যদি মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ তাদের সাংগঠনিক নীতি, স্বচ্ছতা এবং ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ও সম্মানজনক পরিবর্তন আনে, তবে ফ্রান্স আবারো এ আন্তর্জাতিক মঞ্চে গৌরবোজ্জ্বল প্রত্যাবর্তন করতে পারে।

নেট দুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ফ্রান্সের এ সাহসী ও নজিরবিহীন পদক্ষেপের পর বিশ্বজুড়ে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা অনুসারীদের (পেজেন্ট লাভার্স) মাঝে তুমুল আলোচনার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ মানুষ মিস ফ্রান্সের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘মর্যাদাপূর্ণ ও বলিষ্ঠ অবস্থান’ বলে অভিহিত করেছেন। অনেক নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি তুলেছেন, মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষের এখন উচিত তাদের ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতিতে আমূল পরিবর্তন এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা আনা। অন্যথায় ভেনিজুয়েলা, কলম্বিয়া বা ফিলিপাইনের মতো শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোও ফ্রান্সের পথ অনুসরণ করে ভবিষ্যতে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সব মিলিয়ে মিস ফ্রান্সের এ ঐতিহাসিক প্রত্যাখ্যান মিস ইউনিভার্সের দীর্ঘদিনের গৌরব, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বস্ততার ওপর বড় এক প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল। এ ঘটনা প্রতিযোগিতার বর্তমান মালিক, নীতিনির্ধারক ও বিশ্ব আয়োজকদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ ত্রুটিগুলো নিয়ে নতুন করে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করবে, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

আরও