সাম্প্রতিক কাজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
বর্তমানে কী কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন?
‘পথহারা মন’ নামে একটি একক (সিঙ্গেল) নাটকে কাজ করছি। এছাড়া ‘সিনেমাওয়ালা’র সাত পর্বের দুটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করছি; যার একটির নাম ‘মায়ার সংসার’, অন্যটি ‘কর্মফল’। কিছুদিন পর একটি প্রজেক্টের কাজে থাইল্যান্ড যাচ্ছি, সেখানে প্রায় ১০-১২টি নাটকে অভিনয় করব।
মোস্তফা কামাল রাজের নতুন সিরিয়াল ‘ফিরে আসার গল্প’-তেও আপনি যুক্ত হয়েছেন।
হ্যাঁ, শিগগিরই নাটকটির শুটিং শুরু হবে। আমি রাজের এর আগের সিরিজেও ছিলাম। তবে মজার বিষয় নতুন কোনো কাজের শুটিং শুরু হওয়ার আগে আমার ভেতর এক ধরনের চেনা ভয় বা নার্ভাসনেস কাজ করে। নিজের সঙ্গেই নিজের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়াটা আসলে বেশ কষ্টের কাজ। একটি চরিত্র শেষ করার পর সম্পূর্ণ নতুন আরেকটি চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরাটা আমার কাছে সবসময় নতুন এক পরীক্ষা। এ চ্যালেঞ্জটুকুই একজন অভিনয়শিল্পীর আসল আনন্দ।
এখনকার তরুণ নির্মাতা ও সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
দুর্দান্ত! তাদের সঙ্গে কাজ করতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। তরুণদের কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। আমি প্রতিনিয়ত শিখছি। এখনকার নির্মাতারা প্রচুর মেধাবী। শুটিংয়ে অনেক সময় দেখা যায় ক্যামেরার চমৎকার কোনো ফ্রেম আমার নজরে পড়ে গেল এবং আমি মুগ্ধ হয়ে ভাবি—কি সুন্দর ফ্রেম! একেকজন নির্মাতার কাজের ধরন একেক রকম, সেটাও আমি খুব আগ্রহ নিয়ে দেখি।
সহশিল্পীদের ক্ষেত্রে বলব, ‘নতুন’ মানেই আমার কাছে ভীষণ আনন্দের। কারণ আমি নিজেও একদিন নতুন ছিলাম। তাই নতুনদের আমি খুব সহজেই আপন করে নিতে পারি।
আপনি দীর্ঘদিন ধরে এ ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন। আগের তুলনায় এখনকার নাটক নির্মাণের ধরন ও গল্প বলার ভাষায় কী ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করছেন?
যুগের সঙ্গে সবকিছুই পাল্টায়—মিডিয়ায়ও পরিবর্তন এসেছে। যুগের প্রয়োজনেই এ বিবর্তন ঘটেছে। এখনকার নির্মাণ আগের চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক। যেমন আগে ‘ওটিটি’ প্লাটফর্ম ছিল না, এখন ওটিটির জন্য আলাদা গল্প তৈরি হচ্ছে। আগে এত টিভি চ্যানেল বা ইউটিউব চ্যানেল ছিল না, এখন সিনেমাওয়ালার মতো প্রডাকশন হাউজ থেকে চমৎকার সব ইউটিউব ফিল্ম বানানো হচ্ছে। এ ইউটিউব ফিল্মগুলো যখন আমরা ঘরের বড় টিভিতে দেখি, তখন মনে হয় যেন আস্ত একটা সিনেমাই দেখছি।
এখনকার অনেক নির্মাতা বেশ বড় বাজেটের কাজ করছেন এবং একটি গল্পের পেছনে অনেক দিন ধরে সময় দিচ্ছেন। বাজেট যত ভালো হবে, নাটকের মানও তত উন্নত হবে।
ওটিটির এ জোয়ারের মাঝেও সাম্প্রতিক কিছু ধারাবাহিক নাটক দর্শকের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলছে। প্রবণতাটিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
আমার খুব ভালো লাগে, কারণ ওটিটি প্লাটফর্মগুলোয় আমাদের মতো জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের তেমন একটা ডাক পড়ে না, সেখানে আমাদের উপযোগী চরিত্রও খুব একটা থাকে না। তবে নাটকে কাজ শেষ করে যখন বাড়ি ফিরি, মনে এক অদ্ভুত তৃপ্তি কাজ করে। কাজ নিয়ে আমার মনে কখনো এ অতৃপ্তি থাকে না যে—‘ইশ, এটা ফিল্ম হলো না কেন!’ বা ‘এটা ওটিটি হলো না কেন!’ এ ধরনের কোনো আফসোস আমার ভেতর কাজ করে না।
আপনার ক্যারিয়ারের শুরুর দিককার কাজ আর বর্তমানের কাজের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য কি চোখে পড়ে?
হ্যাঁ, খুব স্বাভাবিকভাবেই তফাতটা বুঝতে পারি। যেমন আমি যখন ১২ বছরের ছিলাম, তখন আমার চেহারা কেমন ছিল? আবার যখন ৩০ বছর বয়স ছিল, তখনকার চেহারা আর এখনকার চেহারার মধ্যে তফাত আছেই। আয়নায় দাঁড়ালে কিংবা নিজের পুরনো ছবি সামনে এলে শারীরিক পরিবর্তনটা যেমন স্পষ্ট বোঝা যায়, কাজের ক্ষেত্রেও তাই।
অতীতে আমরা যখন যে কাজটি করেছি, তখনকার বিবেচনায় সেটাই ছিল সর্বোচ্চ হিট কাজ, সবচেয়ে সুন্দর চরিত্র আর সেটাই ছিল আমার তখনকার সেরা অভিনয়। আগের দিনে এখনকার মতো এত ইউটিউব চ্যানেল ছিল না, এমনকি প্যাকেজ নাটকের যুগও তার পরে এসেছে। শুরুতে স্রেফ একটি বা দুটি চ্যানেল ছিল—যেমন বিটিভি, পরবর্তী সময়ে চ্যানেল আই বা এনটিভি এল। আমি সবসময় যুগের এ পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি।
দেখা যায় কিছু মানহীন নাটকও তৈরি হচ্ছে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?
এটি আমি সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখি। কারণ সবার সে সামর্থ্য বা সুযোগ নেই যে পাঁচ-ছয়দিন সময় নিয়ে একটি নাটক বানাবে, কিংবা প্রতিটি নাটকের বাজেট ২৫ লাখ টাকা রাখবে। সবার অর্থনৈতিক অবস্থা এক নয়। যার যেমন সামর্থ্য, সে সে অনুযায়ী নাটক বানাচ্ছে। যে টাকা বাজেটে সে একজন অভিনেতাকে পারিশ্রমিক দিতে পারছে, সে লেভেলের অভিনেতা নিয়েই সে কাজ করছে।