শিল্পী সমিতি নির্বাচন

জায়েদ নয়, নিপুণ সাধারণ সম্পাদক

নাটক-সিনেমাকেও হার মানাচ্ছে যেন এবারের শিল্পী সমিতি নির্বাচন। গতকাল সন্ধ্যায় আপিল বোর্ডের বিশেষ জরুরি সভা শেষে সোহানুর রহমান সোহান জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে নিপুণ আকতারকে ২০২২-২৪ দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নাটক-সিনেমাকেও হার মানাচ্ছে যেন এবারের শিল্পী সমিতি নির্বাচন। গতকাল সন্ধ্যায় আপিল বোর্ডের বিশেষ জরুরি সভা শেষে সোহানুর রহমান সোহান জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে নিপুণ আকতারকে ২০২২-২৪ দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করেন।

গতকাল বিকাল ৪টায় আপিল বোর্ডের জরুরি সভা বসে বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি কার্যালয়ে। সভা শেষে সন্ধ্যায় শিল্পী সমিতি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এসব জানান আপিল বোর্ডের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান। তিনি বলেন, ‘জায়েদ খান টাকার বিনিময়ে ভোট কিনেছেন, সেটা প্রমাণ হয়েছে। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রভাবিত হয়ে জায়েদ খানের পক্ষে রায় দিয়েছেন। যেহেতু আজকের জরুরি সভায় জায়েদ খান উপস্থিত হয়ে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেননি, সেহেতু নিপুণের অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণ হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করছে আপিল বিভাগ। এ অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী নিপুণ আকতার।’

এ সময় নিপুণ আকতার ও তার প্যানেলের সায়মন সাদিক, নিরবসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। নিপুণের পক্ষে রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তার সমর্থকরা স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলে এফডিসি প্রাঙ্গণ। ‘এইমাত্র খবর এল, নিপুণ আপা জিতে গেল। জয় জয় হবে জয়, সত্যের হবে জয়’ স্লোগান দিতে থাকেন তারা।

উপস্থিত সাংবাদিকদের কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিপুণ আকতার বলেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে।’ এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য জায়েদ খানের সেলফোনে কল দেয়া হলে তাকে ওয়েটিংয়ে পাওয়া যায়।

গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। নির্বাচনের দিন সকালেই জায়েদ খানের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ আনেন নিপুণ। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, নিপুণ জায়েদের কাছে ১৩ ভোটে হেরে গেছেন। এরপর শিল্পী সমিতির নির্বাচনী গঠনতন্ত্রবহির্ভূত ভোট কেনাবেচার অভিযোগ এনে জায়েদ খান ও চুন্নুর প্রার্থিতার ফল বাতিল চেয়ে আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহানের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান নিপুণ। নিপুণের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের একটি আবেদন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় হয়ে পুনরায় আপিল বিভাগের কাছে দিকনির্দেশনার জন্য আসে। চিঠিতে বিজয়ী সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান ও কার্যকরী পরিষদের সদস্যপদে চুন্নুর প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে আপিল বিভাগের চেয়ারম্যানকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে এফডিসিতে গিয়ে দেখা যায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আপিল বিভাগের কাছে আসা চিঠি নিয়ে উত্তেজনার হাওয়া বইছে। বৃহস্পতিবার দিনভর কাঞ্চন ও মিশা দুই প্যানেলের প্রার্থীরা ছোটাছুটি করেছেন।

তবে আপিল বোর্ডকে পাত্তা না দিয়ে জায়েদ খান জানান, এর কোনো কার্যকারিতা নেই। আলোচনায় বসতে রাজি হননি। টানা তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী এ চিত্রনায়ক বলেন, ‘আমি কেন আপিল বোর্ডের সঙ্গে বসব! কারণ আপিল বোর্ড তো এখন বিলুপ্ত। কার্যকারিতা ২৯ জানুয়ারিই শেষ হয়ে গেছে। সামনে কমিটির শপথ। সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। ফলাফল পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। এর পরও বাদীর কিছু বলার থাকলে কোর্টে গিয়ে বলতে পারেন।’

জায়েদ খানের এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে সোহানুর রহমান সোহান জানান, শনিবার আলোচনায় বসা হবে এবং সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। তিনি বলেন, ‘ জায়েদ বসতে না চাইলে আমরা আমাদের মতো সিদ্ধান্ত দিয়ে দেব। তার পক্ষেও তো ফল যেতে পারে। যদি না আসেন, অভিযোগগুলোর যুক্তিতর্কে অংশগ্রহণ না-ই করেন, তাহলে তার পক্ষে রায় যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেটা আর থাকছে না।’

এর আগে সোহানুর রহমান সোহান জানিয়েছিলেন, বিষয়টির সুরাহা করতে মন্ত্রণালয় তার ওপর সর্বময় ক্ষমতা দিয়েছে। শনিবার দুই পক্ষের সঙ্গে বসবেন তিনি। অভিযোগগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করে একটি সামারি তৈরি করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেবেন। জায়েদ খান আলোচনায় বসতে না চাইলেও নিপুণ অংশ নেবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বিষয়ে আপিল বোর্ডের একটি চিঠি বৃহস্পতিবার হাতে পেয়েছি। শনিবার বিকালে অভিযোগের প্রমাণাদি নিয়ে বিএফডিসিতে আমাকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। আমি থাকব।’

তবে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে বেশ খুশি ও আশাবাদী চিত্রনায়িকা নিপুণ। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাদের অভিযোগগুলো আমলেই নেয়নি। বাধ্য হয়ে মন্ত্রণালয়ে গিয়েছি। ডকুমেন্টসহ যে অভিযোগগুলো আমরা দিয়েছিলাম, তাতে পুরো নির্বাচনের ফলই বাতিল হওয়ার কথা বলেছিল মন্ত্রণালয়। কিন্তু আমরা বলেছি, যে দুই পদ নিয়ে অভিযোগ, ওই দুই পদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হোক। পরে অভিযোগের ডকুমেন্টগুলো দেখে ওই দুজনের ব্যাপারে আপিল বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।’

আরও