এরপর ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমার জন্য প্রশংসা পেয়েছেন। সম্প্রতি স্ট্রিম হয়েছে তার পরিচালনায় ওয়েব ফিল্ম ‘চা গরম’। প্রশংসা পাচ্ছে ফিল্মটি। পরপর কাজে সাফল্য পেয়েও এটাকে চূড়ান্ত সাফল্য মনে করেন না শঙ্খ। তিনি বলেন, ‘সবাই ভালো বলছে এটা নিশ্চয়ই ভালো লাগার। কিন্তু এটাকে চূড়ান্ত সাফল্য বলব না। আমার কাছে সাফল্য তখনই, যখন সিনেমাটা সময় পেরিয়েও থেকে যাবে। বা কেউ আবার ফিরে এসে দেখবে। সবচেয়ে বড় কথা পরের কাজে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারলে সেটাই আসল সাফল্য।’
‘গুটি’, ‘প্রিয় মালতী’ ও ‘চা গরম’—তিনটি কনটেন্টেই নির্মাতা প্রাধান্য দিয়েছেন নারী চরিত্রকে। গল্পগুলো এগিয়ে নিয়ে গেছেন কোনো নারী চরিত্র কেন্দ্র করে বা নারী চরিত্রকে সামনে রেখে সমস্যা ও সম্ভাবনা দেখানোর চেষ্টা আছে। এ নিয়ে শঙ্খ বলেন, ‘নারী চরিত্রকে সামনে আনা কোনো স্টেটমেন্ট দেয়ার চেষ্টা নয়। বাস্তবে অনেক সময় নারীরাই নীরবে সবচেয়ে বড় চাপ, দ্বন্দ্ব আর পরিবর্তনের জায়গাগুলো বহন করে। গুটি, প্রিয় মালতী বা চা গরমেও সে বাস্তবতাটাই ধরতে চেয়েছি! সমস্যা যেমন আছে, সম্ভাবনাও আছে। নারীকেন্দ্রিক গল্প বলতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু যদি গল্প নিজে থেকেই সেদিকে নিয়ে যায়, আমি থামাই না।’
শঙ্খর তিন কাজেই রাজনীতি ও ধর্মীয় কিছু দৃষ্টিভঙ্গি আছে। এটাও একটা প্যাটার্ন হয়ে যাচ্ছে কিনা তার কাজে? শঙ্খ মনে করেন, ‘রাজনীতি বা ধর্ম এগুলো আলাদা করে ঢোকানোর কিছু নেই, এগুলো আমাদের জীবনের অংশ। তাই গল্পে এলে সেটাকে এড়িয়ে যাওয়া কৃত্রিম লাগে। তবে প্যাটার্ন হয়ে যাচ্ছে কিনা প্রশ্নটা আমার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে বারবার ভাঙার চেষ্টা করছি।’
তবে তার সিনেমা ও সিরিজে একটা বিষয়ে মিল পাওয়া যায়। মূল চরিত্রের পাশাপাশি আরেকটি চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দর্শক তাদের অনুভূতির বহিঃপ্রকাশে অনেক সময় প্রোটাগনিস্টের চেয়ে ’সাইড ক্যারেক্টার’-এর প্রতি রাগ বা ভালোবাসা বেশি দেখিয়েছেন। শঙ্খ জানালেন, তিনি আসলে ‘হিরো’ অর্থাৎ ‘নায়ক’ বানাতে আগ্রহী নন। তিনি মানুষ চরিত্র বানাতে আগ্রহী।
শঙ্খ দাশগুপ্তের কাজে বিষয়বস্তু, চিত্রায়ণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংলাপ। ছোট ছোট সংলাপে খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন তিনি। মনোযোগী দর্শক না হলে সেগুলো বের করা কঠিনই বটে। কিন্তু এ কঠিন কাজটা করতে গিয়ে পুরো বিষয়টাই গুরুগম্ভীর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শঙ্খ এ নিয়ে বলেন, ‘সংলাপ নিয়ে আমি সচেতন। কারণ আমার কাছে সংলাপ শুধু তথ্য দেয় না, একটা ইমেজ তৈরি করে। তবে গুরুগম্ভীর হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এটা ঠিক। সে ব্যালান্সটাই খোঁজার চেষ্টা করি সবসময়।’
তার সাম্প্রতিক কাজে ফেরা যাক। চা বাগানের শ্রমিকদের নানা বিষয় জাতীয় ইস্যু হতেও দেখা গেছে। তেমন একটি বিষয় নিয়ে নির্মাণ করতে গিয়ে শঙ্খ যে পরিসরে সিনেমাটি নির্মাণ করলেন বা যে পরিমিতি তিনি দেখালেন সেটা কি পর্যাপ্ত বা ঠিক মনে হলো? শঙ্খ দাশগুপ্ত বলেন, ‘জাতীয় ইস্যু বলেই আমি এটাকে বড় করে বলার চেষ্টা করিনি। বরং ছোট পরিসর, নির্দিষ্ট মানুষ আর তাদের দৈনন্দিনতার ভেতর দিয়ে বলেছি। আমার বিশ্বাস যখন গল্পটা ব্যক্তিগত হয়, তখনই সেটা আসলে বড় হয়ে ওঠে। তাই টোনটা ইচ্ছাকৃতভাবেই সংযত।’