ক্রিস্টোফার নোলানের অতিপ্রতীক্ষিত ‘দ্য ওডিসি’র ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই কিছু বিষয় আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে, যাকে কেউ কেউ ‘ভুল’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন। বিশেষ করে একটি সংলাপ নিয়ে ইন্টারনেটে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ট্রেলারের এক দৃশ্যে টম হল্যান্ড অভিনীত টেলেম্যাকাস চরিত্রকে অ্যান্টোরিওস-রূপী রবার্ট প্যাটিনসন বলছে, ‘ইউ আর পিনিং ফর আ ড্যাডি ইউ নেভার নিউ।’ অর্থাৎ যে বাবাকে তুমি কোনোদিন দেখইনি, তার জন্যই এত হাহাকার তোমার।
টম হল্যান্ডের মুখে ম্যাট ডেমন অভিনীত ওডিসিউসকে ‘ড্যাড’ উল্লেখ করাও অনেক দর্শকের কাছে বেমানান মনে হয়েছে। কারণ গল্পটির পটভূমি খ্রিস্টপূর্ব দ্বাদশ শতকের ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল।
অনেক নেটিজেন নোলানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, গ্রিক পৌরাণিক মহাকাব্যকে ‘জেন-জি স্ল্যাং’ দিয়ে আধুনিক আমেরিকান গ্যাং-ওয়ার ধরনের সিনেমায় পরিণত করেছেন তিনি। বিশেষ করে যুদ্ধের সময় ‘লেটস গো!’ ধরনের সংলাপ নিয়েও বিদ্রূপ হয়েছে।
ইউটিউবে একজন মন্তব্য করেন, “স্পাইডার-ম্যান: মাই ড্যাড’স কামিং”— এ বিদ্রূপ ওডিসিউসের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তনকে স্পাইডার-ম্যান ইউনিভার্সের সঙ্গে তুলনা করে
তবে নোলানের সমর্থকরা বলছেন, সমালোচকরা পৌরণিক কাহিনি আর ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে গুলিয়ে ফেলছেন। তাদের মতে, এটি কোনো তথ্যচিত্র নয়; বরং আধুনিক দর্শকের জন্য নির্মিত সমসাময়িক রূপান্তর। অনেকেই যুক্তি দেন, ‘ফাদার’–এর বদলে ‘ড্যাডি’ ব্যবহার না করলেও সিনেমাটি ঐতিহাসিকভাবে পুরোপুরি নির্ভুল হতো না। কারণ অধিকাংশ ঐতিহাসিক মহাকাব্যেই আধুনিক ইংরেজি শব্দ ও উচ্চারণ ব্যবহৃত হয়।
সমালোচনা শুধু সংলাপেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ট্রেলারে টম হল্যান্ডের অভিনয়ভঙ্গি অনেকের কাছে স্পাইডার-ম্যান চরিত্রের মতোই লেগেছে। ইউটিউবে একজন মন্তব্য করেন, “স্পাইডার-ম্যান: মাই ড্যাড’স কামিং”— এ বিদ্রূপ ওডিসিউসের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তনকে স্পাইডার-ম্যান ইউনিভার্সের সঙ্গে তুলনা করে।
‘দ্য ওডিসি’ ট্রেলার ইন্টারনেটে প্রতিক্রিয়াকে কার্যত দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে। কেউ এর ঐতিহাসিক নির্ভুলতা, কাস্টিং ও সংলাপের সমালোচনা করছেন, আবার ভিজ্যুয়াল ও নোলানের উচ্চাভিলাষী নির্মাণশৈলীর প্রশংসা করছেন। সমর্থকদের ভাষায়, এটি প্রমাণ করে বড় পরিসরের সিনেমা এখনো ‘জাদুকরী’ অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
বিতর্কটি আবারো দেখিয়েছে, একটি অস্বাভাবিক সংলাপ বা ছোট কোনো মুহূর্ত কীভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো ট্রেলারকে ছাপিয়ে যেতে পারে। ঐতিহাসিক নির্ভুলতা নিয়ে বিতর্ক চললেও ‘ড্যাডি’ সংলাপটি সিনেমাটিকে অনলাইনে ট্রেন্ডিংয়ে রেখেছে
‘দ্য ওডিসি’ চলচ্চিত্রের দৃশ্য। ছবি: ইউনিভার্সাল
একজন এক্স ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ট্রেলার দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে নোলানের মতো নির্মাতাও সমালোচনা থেকে রেহাই পান না। আরেকজন লিখেছেন, ‘অবশেষে দেখলাম ‘দ্য ওডিসি’ ট্রেলার এবং মনে হলো... কিছুই হয়নি।’
তবে অনেকে ছবিটির দৃষ্টিনন্দন ভিজ্যুয়ালেই সন্তুষ্ট এবং ‘হাস্যকর’ সংলাপগুলো উপেক্ষা করতেও রাজি। আবার সমর্থকদের একজন উল্লেখ করেন, রবার্ট প্যাটিনসনের বিশ্বাস অনুযায়ী, ‘দ্য ওডিসি’ এবং ‘ডৃন: পার্ট থ্রি’র মতো সিনেমাগুলো প্রমাণ করে যে সিনেমা শিল্প এখনো মারা যায়নি; বরং চলচ্চিত্র নির্মাণের জাদু এখনো জীবন্ত।
আরেকটি মন্তব্যে পুরো বিতর্কটিকেই সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়, ‘দশমিক ১ শতাংশ মানুষ সিনেমা কত ভালো সেটা নিয়ে কথা বলছে, আর ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ শুধু “ড্যাড” নিয়ে ব্যস্ত।’
বিতর্কটি আবারো দেখিয়েছে, একটি অস্বাভাবিক সংলাপ বা ছোট কোনো মুহূর্ত কীভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো ট্রেলারকে ছাপিয়ে যেতে পারে। ঐতিহাসিক নির্ভুলতা নিয়ে বিতর্ক চললেও ‘ড্যাডি’ সংলাপটি সিনেমাটিকে অনলাইনে ট্রেন্ডিংয়ে রেখেছে। ফলে বলা যায়, নোলানের জাদু কাজ করছে— যদিও তা সব সিনেমাপ্রেমীর পছন্দের সঙ্গে মিলছে না।
প্রায় ২৫ কোটি ডলার বাজেটের চলচ্চিত্রটি আগামী ১৭ জুলাই মুক্তি পাবে। এতে অভিনয় আরো করেছেন অ্যানা হাথাওয়ে, জেনডায়া ও চার্লিস থেরন।
দ্য প্রিন্ট অবলম্বনে