চলতি বছরে হলিউডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রিলিজগুলোর একটি জেমস গান পরিচালিত ‘সুপারম্যান’। জনপ্রিয় সুপারহিরো চরিত্রের রিবুট ছাড়াও এটি ডিসি ইউনিভার্সের নতুন পর্যায়ের প্রথম সিনেমা। এ হিসেবে এর সাফল্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে আয়ের বিচারের বক্স অফিস সফল বলেছেন কেউ কেউ, আসলেই কী তাই? কারণ ফোর্বসের এক প্রতিবেদন দিচ্ছে ভিন্ন তথ্য।
দর্শক ও সমালোচক উভয়ের কাছ থেকে ইতিবাচক রিভিউ পেয়েছে সিনেমাটি। শুরুটাও ছিল ভালো। ‘সুপারম্যান’ ওপেনিং উইকএন্ডে বক্স অফিস পূর্বাভাস অতিক্রম করে এবং বছরের সর্বোচ্চ আয়ের কমিক-বুক সিনেমাও এটি।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী ৬১ কোটি ৫৭ লাখ ডলার আয় করেছে এ সুপারহিরো সিনেমা। প্রথম দৃষ্টিতে সফল মনে হলেও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন চিত্র দেখা যেতে পারে।
‘সুপারম্যান’ নির্মাণে মোট ব্যয় ৩৫ কোটি ডলারের মতো। এর মধ্যে ২২ কোটি ৫০ কোটি ডলার নির্মাণ বাজেট এবং ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ছিল মার্কেটিং খরচ। ফোর্বসের বিশ্লেষণ অনুসারে স্টুডিওগুলো সাধারণত টিকেট বিক্রির আয় থিয়েটার মালিকদের সঙ্গে আধাআধি ভাগ করে নেয়। এর ফলে থিয়েটার থেকে ডিসি স্টুডিওস ও ওয়ার্নার ব্রস পাচ্ছে ৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ অংক মোট বাজেট ৩৫ কোটি ডলারের তুলনায় কম। ফলে শুধু বক্স অফিস আয় বিবেচনায় নিলে ‘সুপারম্যান’ প্রকৃতপক্ষে লাভজনক হয়নি। তবে ডিসি ইউনিভার্সের জন্য পুরো খবরই খারাপ নয়।
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বক্স অফিসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। স্বভাবতই স্টুডিও চায় না তাদের জনপ্রিয় কোনো রিলিজ ব্যর্থ হোক। আবার বক্স অফিস একমাত্র আয়ের উৎস নয়; বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার আরো উপায় রয়েছে। সুপারম্যানের মতো বড় ব্লকবাস্টার সিনেমার ক্ষেত্রে লাইসেন্সিং ও মার্চেন্ডাইজ পণ্য থেকে ভালো আয় আসতে পারে। এছাড়া ডব্লিউবি হোম মিডিয়া থেকেও আয়ের একটি উৎস। সুপারম্যানের মতো সিনেমা এইচবিও ম্যাক্সের সাবস্ক্রিপশন বাড়াচ্ছে নিঃসন্দেহে; যা স্টুডিওর জন্য লাভজনক।
মনে রাখতে হবে, কভিড-মহামারীর পর সিনেমা দেখার অভ্যাস উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। তাই বক্স অফিস বিবেচনার ক্ষেত্রে ব্যবসার সামগ্রিক পরিস্থিতিও মনে রাখার কথা বলা হচ্ছে প্রতিবেদনে। এখন প্রেক্ষাগৃহে নতুন রিলিজের স্থায়ীত্ব সীমিত। মানুষ সহজেই নতুন সিনেমা বাড়িতে দেখার জন্য অপেক্ষা করতে পারে। সুপারম্যান মুক্তির প্রায় এক মাসের মধ্যে ডিজিটাল প্লাটফর্মে চলে এসেছে। এর অন্যতম কারণ হলো ‘পিসমেকার’ দ্বিতীয় সিজনের প্রিমিয়ারের আগে ছোট পর্দায় আনতে চেয়েছে স্টুডিও। যাই হোক, হোম মিডিয়ায়ও ‘সুপারম্যান’ সফল হয়েছে এবং এখন এইচবিও ম্যাক্স চার্টে শীর্ষে রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ডব্লিউবি সম্ভবত সুপারম্যান থেকে লাভ করবে।
‘সুপারম্যান’ এখনো পুরোপুরি মুনাফা না দিলেও স্টুডিও নির্বাহীরা সন্তুষ্ট। জেমস গান পরবর্তী সিনেমা ‘ম্যান অব টুমরো’ নিয়ে এরই মধ্যে কাজ করছেন। সেখানে সুপারম্যান ও লেক্স লুথার একত্রিত হয়ে একটি বড় হুমকির বিরুদ্ধে লড়াই করবে। সিনেমাটি মুক্তি পাবে ২০২৭ সালে।