ঘড়িতে সময় ঠিক বিকাল ৪টা। গরমে অতিষ্ঠ অবস্থা। মনে নেই যে আজ
পুবাইলে যাওয়ার কথা। তাও নাটকের শুটিং স্পটে। ফোনে নির্মাতা শামীম জামানের গাড়িচালক ফোন দিয়েই যাচ্ছেন আমাকে। এটা বুঝতে পারলাম ফোনটা ধরে। তাকে জানালাম আর মাত্র ৫ মিনিট। রেডি হয়ে দীর্ঘ এক মাস পর ঘরের বাইরের বেরোলাম, গন্তব্য পুবাইলের নতুন শুটিং স্পট শামীম জামানের সেটে।
শহর ছেড়ে বের হতেই খেয়াল হলো আকাশে মেঘের ভেলাগুলো ভেসে বেড়াচ্ছে দল বেঁধে। আচমকা বাতাসে একটু এলোমেলো হয়ে আবারো একই পথে যাচ্ছে মেঘের দল। আহা যদি একটু বৃষ্টি আসত? কথাটি সত্য হলো না, হলে হয়তো ঝরে পড়ত অনবরত তার বিন্দু বিন্দু জল। তবে কিছু স্বস্তি এল, ততক্ষণ শহড় ছেড়ে আমরা গ্রামের মেঠো পথে। গাড়ির জানালা খুলে দিলাম। আকাশে কিছুটা মেঘ জমেছে, বাতাসও বইছে। সত্যিই দারুণ বাতাস বইছে। একটু গরম তবে এসির চেয়ে ভালো। দূর থেকেই দেখতে পাচ্ছিলাম শুটিং চলছে। আমাদের গাড়ি থামতেই আস্তে ধীরে গাড়ি থেকে নামলাম। যিনি আমাকে এতদূর থেকে তার গাড়িতে করে নিয়ে এলেন তিনি বললেন, এক্সকিউজ মি প্লিজ, একটু সাইট দেবেন প্লিজ। আমি কিছুটা মুচকি মুচকি হাসছি তার ইংরেজি বলার ধরন দেখে। আমাকে দেখে নির্মাতা শামীম জামান হাসিমুখে এগিয়ে এলেন। আমি এগিয়ে গিয়ে কথা বলা শুরু করলাম। অনেক দিন পর দেখা। শুটিং ১৫ মিনিটের জন্য ব্রেক দিলেন। আমি শুরু করলাম আমাদের কথোপকথন। হঠাৎ শুনি হাসির আওয়াজ।
দক্ষিণা বারান্দায় হাসির শব্দ শুনে আলাপে ছেদ পড়ে। মুখ পেছনে ফিরিয়ে দেখি দুজন হাসছেন। তাদের বন্ধুত্ব অনেক বছর আগে থেকে। শুধু যে বন্ধু এমনটা নয় তারা বাংলাদেশের স্বনামধন্য তারকা। তারা শাহনাজ খুশি ও চঞ্চল চৌধুরী। তাদের তো আর পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। এরই মধ্যে তারা অভিনয়গুণে পরিচিত। দেখা হতেই হাসি মুখ সবার। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যে শুটিং চলছে তা বোঝা গেল।
কথা হলো আড্ডা হলো ১৫ মিনিটের। উঠে এল পুবাইলের নানা ইতিহাস। সেই সঙ্গে নির্মাতা জানালেন এটিএন বাংলার জন্য নির্মিত ১০ পর্বের নাটকটির নাম ‘পিলিয়ার’। আসন্ন ঈদুল ফিতরের জন্য নির্মিত হচ্ছে নাটকটি। ২৫ এপ্রিল নাটকটির দৃশ্যধারণ শুরু হয়েছে, চলবে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এটি রচনা করেছেন জনপ্রিয় নাট্যকার বৃন্দাবন দাস। নিমার্তা শামীম জামানের কাছে জানতে চাওয়া হলো গল্পের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে। তিনি জানালেন, গ্রামের বেশির ভাগ তরুণই জুয়া খেলে এবং তারা নিজেদের পিলিয়ার হিসেবে দাবি করে। এ জুয়াড়িদের মধ্যে তিনজন খুব মারাত্মক নেশায় জর্জরিত। তাদের বউ আছে, সন্তান আছে, কিন্তু কোনো খবরই রাখতে চায় না কেউ। জুয়ার নেশাতেই পড়ে থাকে সারাদিন। এর মধ্যে একদিন একজন খুব লাভবান হয় জুয়া খেলে। কিন্তু বাড়িতে ফিরে সে দেখতে পায় তার ছোট্ট মেয়েটি মারা গেছে। জুয়ার নেশায় এমনই মত্ত ছিল সে যে ভুলেই গিয়েছিল তার মেয়েকে বড় ডাক্তার দেখাতে হবে, ভালো চিকিৎসা করাতে হবে। গল্পটা শুনে একটু অন্যমনস্ক হয়ে উঠলাম আমি নিজেই। কিছুক্ষণ আমাদের আপ্যায়ন শেষে এবার বিদায় নেয়ার পালা। নাটকটিতে অভিনয় করছেন চঞ্চল চৌধুরী, শাহনাজ খুশি, আরফান, বড়ুন, মায়া, শিরিন আলম, স্বর্ণা, তিন্নিসহ আরো অনেকে। মোহনা অডিও ভিজুয়াল প্রডাকশন হাউজের ব্যানারে নির্মিত নাটকটি প্রচার হবে ঈদের ১০ দিন।
এসব জানতে কথায় কথায় সময় গড়িয়ে যায় আমাদের। ওদিকে আকশে মেঘের কোনো চিহ্ন নেই। সূর্য তাপ বিতরণ করে চলছে ধরণীর বুকে। কিন্তু এদিকে থেমে নেই চঞ্চল ও খুশির শুটিং। চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত। চঞ্চল চৌধুরী আর শাহনাজ খুশি মেতে আছেন তাদের চিত্রনাট্যে। এবার আমার গন্তব্যে ফেরার পালা।