একটা সময় প্রতিটি ঋতুকেই বোঝা যেত আলাদাভাবে, আলাদা আলাদা রূপে। গত শতকের ষাট, সত্তর কিংবা আশির দশকেও সবুজের সমারোহ ছিল শহরগুলোয়। গাছপালা ভর্তি এসব শহরের নানা প্রান্তে কত শত খুনসুটিতে মেতে উঠত বিহঙ্গযুগল। প্রকৃতিকে গভীরভাবে অনুভবের এ মন্ত্র ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে শ্যামল বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য। রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দের বাংলায় এখন আলাদা করে একেকটা ঋতুকে চেনাই দায়।
আকাশ ছুঁয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় আমাদের শহরগুলোয়ও এখন গড়ে উঠছে উঁচু দালান, সুরম্য অট্টালিকা। তার ফাঁক গলে চারদিক থেকে ছুটে আসা কৃত্রিম আলো, অজস্র শব্দ আর চিৎকার ভরা ইট-পাথরের মোড়কে বন্দি জীবনে তবু বসন্ত আসে। এখনো আবির রঙের রোদ মেখে আমরা বসন্তকে বরণ করি। আরো একবার আমাদের মনে আশা জাগে পলাশ ও শালিকের এ খুনসুটি দেখে। মনের ভেতর জুড়ে বসে থাকা অন্য এক মনের মর্মরধ্বনির উচ্ছ্বাসে বসন্ত এসে হাজির হয় আমাদের দোরগোড়ায়। বুঝি, বসন্ত এসে গেছে...