২০২৬: বলিউড ও প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমার নতুন মহাযজ্ঞ

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে ২০২৬ সাল আলাদা করে চিহ্নিত হয়ে থাকতে চলেছে।

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে ২০২৬ সাল আলাদা করে চিহ্নিত হয়ে থাকতে চলেছে। প্রতীক্ষিত তারকাদের প্রত্যাবর্তন, বড় বাজেটের পুরাণনির্ভর সিনেমা, দেশপ্রেম ও বাস্তব ঘটনার ওপর নির্মিত সিনেমা; আবার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির বহুল প্রতীক্ষিত সিকুয়াল, সব মিলিয়ে বছরটি যেন বড় পর্দায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। গত মাসেই আইএমডিবি প্রকাশ করেছে ২০২৬ সালের বহুল প্রতীক্ষিত ভারতীয় সিনেমার তালিকা। বিশ্বজুড়ে দর্শকের আগ্রহের শীর্ষে থাকা ১০টি সিনেমার নাম এরই মধ্যে প্রমাণ করে দিয়েছে, ২০২৬ কেবল আরেকটা সিনেমার বছর নয়, এটি একটি ইভেন্ট।

এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে শাহরুখ খান অভিনীত ‘কিং’। দুই বছরের বিরতির পর বড় পর্দায় তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা বলিউডে বিরল। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত এ অ্যাকশন-থ্রিলার শুধু শাহরুখের স্টারডম নয়, বরং একটি নতুন প্রজন্মের সূচনাকেও চিহ্নিত করছে। কারণ এ সিনেমার মাধ্যমেই বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন সুহানা খান। দীপিকা পাডুকোন ও অভিষেক বচ্চনের উপস্থিতি সিনেমার আকর্ষণ আরো বাড়িয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত অফিশিয়াল ট্রেলার মুক্তি পায়নি, পোস্টার ও প্রজেক্ট ঘিরে গোপনীয়তা দর্শকের কৌতূহল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’-এর পর এটি হতে পারে শাহরুখ খানের আরেকটি ক্যারিয়ার ডিফাইনিং সিনেমা।

প্রত্যাশার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’। সাম্প্রতিক সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী ভারতীয় চলচ্চিত্র এটি। নিতেশ তিওয়ারির পরিচালনায় রণবীর কাপুর রামের চরিত্রে, সাই পল্লবী সীতার ভূমিকায় এবং যশ রাবণের চরিত্রে। এ কাস্টিংই সিনেমাটিকে আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে। আধুনিক ভিজুয়াল ইফেক্ট, আন্তর্জাতিক মানের প্রডাকশন ডিজাইন ও বহুভাষায় মুক্তির পরিকল্পনা, সব মিলিয়ে রামায়ণ কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং ভারতীয় পুরাণকে বিশ্ব দরবারে নতুনভাবে উপস্থাপনের এক প্রয়াস। দীপাবলি ২০২৬-এ মুক্তির লক্ষ্যে তৈরি এ সিনেমা ভারতীয় সিনেমার পরিসর বদলে দিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দক্ষিণ ভারতের সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের ভক্তদের কাছে ‘জননায়ক’ আলাদা আবেগের সিনেমা। রাজনৈতিক-অ্যাকশন ঘরানার এ সিনেমাকে বিজয়ের সম্ভাব্য শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণেই মুক্তির আগে সিনেমাটি আবেগ, উত্তেজনা ও প্রত্যাশার এক অনন্য স্তরে পৌঁছে গেছে। জানুয়ারিতে মুক্তির কথা থাকলেও নানা জটিলতায় সিনেমাটির মুক্তি পিছিয়ে যাচ্ছে।

প্যান-ইন্ডিয়া বাজারে আরেকটি বড় নাম প্রভাস। তার পরবর্তী সিনেমা ‘স্পিরিট’ নিয়ে এরই মধ্যে বিপুল আগ্রহ তৈরি করেছে। সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার পরিচালনায় এ সিনেমায় প্রভাসকে একেবারে আলাদা, আরো গাঢ় ও বাস্তবধর্মী অ্যাকশন অবতারে দেখা যাবে বলে জানা যাচ্ছে। ‘বাহুবলী’ ও ‘সালার’-এর পর প্রভাসের এ সিনেমাকে ঘিরে প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি, বিশেষ করে পরিচালকের আগের কাজের জন্য।

এ তালিকায় শক্তভাবে জায়গা করে নিয়েছে যশ অভিনীত ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন আপস’। ডার্ক, স্টাইলিশ এবং মনস্তাত্ত্বিক ক্রাইম-থ্রিলার ঘরানার এ সিনেমায় যশকে একেবারে নতুন রূপে দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দর্শক। গীতু মোহনদাস পরিচালিত এ সিনেমা ২০২৬-এর মার্চে মুক্তি পাওয়ার কথা এবং এটি যে বছর সবচেয়ে আলোচিত সিনেমাগুলোর একটি হবে, তা বলাই বাহুল্য।

বাস্তব ইতিহাসকে বড় পর্দায় তুলে ধরতে চলেছে ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’। ২০২০ সালে গ্যালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষ অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমায় সালমান খানকে এক সেনা কর্মকর্তার ভূমিকায় দেখা যাবে। যুদ্ধের বাস্তবতা, দেশপ্রেম ও মানবিক আবেগ, সব মিলিয়ে সিনেমাটি বলিউডের যুদ্ধচিত্র ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে চলেছে। এরই মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত টিজার দর্শকের মধ্যে প্রবল সাড়া ফেলেছে।

যশরাজ স্পাই ইউনিভার্সে নতুন মাত্রা যোগ করতে আসছে ‘আলফা’। আলিয়া ভাট অভিনীত এ সিনেমা ইউনিভার্সে নারী নেতৃত্বাধীন প্রথম স্পাই থ্রিলার। অ্যাকশন, কৌশল ও আবেগের মিশেলে আলফা প্রমাণ করতে পারে যে স্পাই-জনরায় নারী চরিত্রও সমানভাবে শক্তিশালী হতে পারে।

সিকুয়াল-প্রেমীদের জন্য বড় চমক ‘ধুরন্ধর টু’। প্রথম সিনেমার সাফল্যের পর রণবীর সিং আবার ফিরছেন আরো বড় স্কেল ও তীব্র অ্যাকশন নিয়ে। ঈদ ২০২৬-এ মুক্তির লক্ষ্যে তৈরি এ সিনেমা বক্স অফিসে ঝড় তুলবে বলেই ইন্ডাস্ট্রির ধারণা।

দেশপ্রেম ও নস্টালজিয়ার মেলবন্ধন ঘটাতে আসছে ‘বর্ডার টু’। ১৯৯৭ সালের আইকনিক বর্ডারের এ সিকুয়ালে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পুরনো আবেগকে জুড়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বরুণ ধাওয়ান, দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও সানি দেওলের উপস্থিতি সিনেমাটিকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। বছরের শুরুতে মুক্তি পেয়ে সিনেমাটি বক্স অফিসে ভালো আয় করেছে।

তালিকার শেষ, কিন্তু গুরুত্বে কম নয় ‘জেলার টু’ রজনীকান্তের সুপারহিট ‘জেলার’ -এর সিকুয়াল হিসেবে এই সিনেমা দক্ষিণ ও উত্তর দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই প্রবল উত্তেজনা তৈরি করেছে। শোনা যাচ্ছে, বিশেষ একটি চরিত্রে শাহরুখ খানের উপস্থিতি সিনেমার আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সাল ভারতীয় সিনেমার জন্য শুধু বড় বাজেট বা বড় তারকার বছর নয়, এটি গল্প বলার ধরন, প্রযুক্তি ও দর্শক অভিজ্ঞতার এক নতুন অধ্যায়। বড় পর্দায় এ সিনেমাগুলো মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বোঝা যাবে, কেন এ বছরকে আগেভাগেই বলা হচ্ছে ২০২৬ সাল আসলে ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য প্রত্যাশার বছর।

আরও