বাংলা ভাষার কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার-১৪২৭’
পেয়েছেন লেখক ঝর্না রহমান। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, গল্পকার, কবি, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক ও সাহিত্য সংগঠক। গতকাল বিকালে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন লেখক-নির্মাতা ফরিদুর রহমান।
পুরস্কার বিতরণী শেষে অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ব্যান্ড এফ মাইনর ও আবৃত্তি করেন লায়লা আফরোজ।
কথাসাহিত্যিক ঝর্না রহমানের জন্ম ১৯৫৯ সালে। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, নাটক, কবিতা, ছড়া, ভ্রমণ, শিশু সাহিত্য, সংগীত—সব ক্ষেত্রেই তার কমবেশি বিচরণ। তবে গল্পকার হিসেবে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। নারী-পুরুষের সম্পর্ক, নারীজীবনের অন্তর্গত বেদনা তার সাহিত্যের প্রিয় বিষয় হলেও তিনি দেশজ এবং সামাজিক প্রায় প্রতিটি অনুষঙ্গকে তার সাহিত্যের বিষয় করে তুলেছেন। ঝর্না রহমানের উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থগুলো হচ্ছে ঘুম-মাছ ও একটুকরো নারী, অগ্নিতা, স্বর্ণতরবারি, কৃষ্ণপক্ষের ঊষা, পেরেক প্রভৃতি। অনূদিত গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ডাউন অব দি ওয়ানিং মুন’। উপন্যাস: পিতলের চাঁদ, ভাঙতে থাকা ভূগোল; কাব্যগ্রন্থ: জল ও গোলাপের ছোবল, হরিৎ রেহেলে হূদয়, চন্দ্রদহন; নাট্যকাব্য: উড়ন্ত ভায়োলিন; কিশোর উপন্যাস: আদৃতার পতাকা, হাতিমা ও টুনটুনি; নাটক: বৃদ্ধ ও রাজকুমারী, ভ্রমণ: আমরা যখন নেপালে।
১৯৮০ সালে বাংলাদেশ পরিষদ আয়োজিত একুশে সাহিত্য পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ছোটগল্পে জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্যে আত্মপ্রকাশ তার। এ পর্যন্ত ঝর্না রহমানের ৬০টির মতো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ঝর্না বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে সম্প্রতি অবসরে গেছেন। তিনি সাহিত্য সংগঠন ‘পরণকথা’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া তিনি ছোট কাগজ ‘পরণকথা’
ও ‘ত্রৈমাসিক অগ্রসর বিক্রমপুর’-এর সম্পাদক।
উল্লেখ্য, বাংলা ১৪০১ সন (১৯৯৩ সাল) থেকে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। প্রতি বছর একজন নারী সাহিত্যিককে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেয়া হয়। এ পর্যন্ত সেলিনা হোসেন, রিজিয়া রহমান, ড. নীলিমা ইব্রাহিম, দিলারা হাশেম, রাবেয়া খাতুন, ড. সন্জীদা খাতুন, শহিদ জননী জাহানারা ইমামসহ (মরণোত্তর) অনেকে এ পুরস্কার পেয়েছেন।