এআই থেকে কণ্ঠ ও চেহারা সুরক্ষিত রাখতে ট্রেডমার্ক আবেদন টেইলর সুইফটের

এ পদক্ষেপ বিনোদন শিল্পে এআইর চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে এআই টুল ব্যবহার করে সহজেই জনপ্রিয় শিল্পীদের মতো দেখতে বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরি করা যাচ্ছে। এমনকি ডিজিটাল গান দিয়ে স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম ভরিয়ে ফেলা হচ্ছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ঝুঁকি থেকে নিজের কণ্ঠস্বর ও চেহারা সুরক্ষিত রাখতে নতুন ট্রেডমার্ক আবেদন করেছেন পপ তারকা টেইলর সুইফট। এ গায়িকা দুটি ভয়েস ক্লিপ ও একটি ছবি এ আবেদনের সঙ্গে জমা দিয়েছেন। এক ট্রেডমার্ক আইনজীবীর ভাষায়, ভয়েস ও ছবি এমনভাবে বাছাই করা হয়েছে, যেন ভবিষ্যতে কেউ এআই দিয়ে কণ্ঠ বা চেহারা নকল করলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। খবর সিএনএন।

এ পদক্ষেপ বিনোদন শিল্পে এআইর চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে এআই টুল ব্যবহার করে সহজেই জনপ্রিয় শিল্পীদের মতো দেখতে বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরি করা যাচ্ছে। এমনকি ডিজিটাল গান দিয়ে স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম ভরিয়ে ফেলা হচ্ছে।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিসে আবেদন জমা দেন টেইলর সুইফট। যা শিল্পীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান টিএএস রাইটস ম্যানেজমেন্টের অধীনে থাকা শত শত ট্রেডমার্ক আবেদনের সঙ্গে যুক্ত হলো।

নতুন আবেদনের বিশেষ দিক হলো ‘সাউন্ড মার্ক’ অন্তর্ভুক্ত করা, যা ট্রেডমার্ক সুরক্ষার একটি তুলনামূলক কম পরিচিত ধরন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ট্রেডমার্ক আইনজীবী জশ গারবেন বলেন, ‘কোনো সেলিব্রিটি যেভাবে কথা বলেন সেই কণ্ঠস্বরকে ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধনের চেষ্টা একেবারেই নতুন প্রয়োগ, যা এখনো আদালতে পরীক্ষিত হয়নি।’

আবেদনে জমা দেয়া অডিও ক্লিপ দুটিতে টেইলর সুইফটকে তার ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’ অ্যালবাম নিয়ে বলতে শোনা যায়। আর ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মঞ্চে গোলাপি গিটার হাতে ও ঝলমলে পোশাক পরে পারফর্ম করছেন গায়িকা। ছবিটি তার সাম্প্রতিক ইরাস ট্যুরের একটি আইকনিক লুক।

জশ গারবেন আরো জানান, অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহেও সম্প্রতি নিজের কণ্ঠ ও চেহারা সুরক্ষায় অনুরূপ আবেদন করেছেন। এর মাধ্যমে এআই যুগে ট্রেডমার্ক আইন কীভাবে কাজ করবে—তা নতুনভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এ আবেদনগুলো এমন এক সময়ে এসেছে, যখন প্রচলিত কপিরাইট আইন এআই-তৈরি কনটেন্টের ক্ষেত্রে শিল্পীদের যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে পারছে না। জশ গারবেন বলেন, ‘এখন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন নতুন কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব, যা কোনো শিল্পীর কণ্ঠস্বরের মতো শোনালেও সেটি কোনো বিদ্যমান রেকর্ডিং কপি করে না। এতে একটি ফাঁক তৈরি হয়েছে, যা ট্রেডমার্ক দিয়ে পূরণ করা যেতে পারে।’

তাত্ত্বিকভাবে, যদি কণ্ঠস্বর ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধিত হয়, তাহলে সেই কণ্ঠের মতো শোনায় এমন কোনো ব্যবহার বা এআই-তৈরি ছবিকে আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন টেইলর সুফইট।

আরও