বলিউড সিনেমায় ‘অন্ধ জাতীয়তাবাদ’, ‘একপক্ষীয় রাজনীতি’ ও ‘ধর্মের ব্যবহার’ আজকাল খুবই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে তেমন কিছু সিনেমা শত শত কোটি রুপি আয় করে নিচ্ছে। যেমন রণবীর সিং অভিনীত দুই পর্বের ‘ধুরন্ধর’। এমন পরিপ্রেক্ষিতেও ‘অন্ধ জাতীয়তাবাদী’ কনটেন্টে নিজেকে তুলে ধরতে রাজি নন সালমান খান, যদিও তার সর্বশেষ কয়েকটি সিনেমার বক্স অফিস আয় প্রত্যাশার তুলনায় খুবই কম।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, এ সুপারস্টারের আসন্ন ছবি ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল সম্প্রতি, বিশেষ করে নাম পরিবর্তনের পর। নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘মাতৃভূমি’, আর এ পরিবর্তনের কারণ নিয়েই তৈরি হয় নানা জল্পনা।
অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ছবির গল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুদ্ধভিত্তিক কাহিনি থেকে সরিয়ে দেশপ্রেমমূলক ড্রামা বানানো হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, বাস্তবতা একটু ভিন্ন। অপূর্ব লাখিয়া পরিচালিত ছবিটি শুধু যুদ্ধের গল্প বলার জন্য তৈরি হয়নি। ২০২০ সালের ভারত-চীন সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট থাকলেও, ছবির মূল লক্ষ্য শান্তির বার্তা তুলে ধরা।
ছবিটি নিয়ে সালমান খানের অবস্থানও বেশ স্পষ্ট। তিনি শর্ত দিয়েছিলেন, কোনোভাবেই যেন সিনেমাটি অন্ধ জাতীয়তাবাদকে উসকে না দেয়। তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘বাজরঙ্গি ভাইজান’-এর মতোই এমন গল্পে তিনি বিশ্বাস করেন, যা মানুষকে একত্রিত করে। যুদ্ধকে বিনোদনের জন্য অতিরঞ্জিত করা বা মহিমান্বিত করা—এ ধরনের চিত্রনাট্য তিনি সচেতনভাবেই এড়িয়ে চলেন।
ভারত-চীনের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এর আগে ‘টিউবলাইট’ নামের সিনেমায়ও অভিনয় করেছিলেন বলিউডের ভাইজান। সেই ছবিও ছিল শান্তির বার্তানির্ভর।
তবে পুরনো নাম ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছিল। অনেকেই ভাবছিলেন এটি শুধুই একটি অ্যাকশনধর্মী যুদ্ধের সিনেমা। টিজারেও সালমান খানকে যুদ্ধক্ষেত্রে দেখানো হয়েছিল, যা সেই ধারণাকে আরো জোরদার করে। এ ভুল ধারণা দূর করতেই ছবির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন সালমান।
নতুন নাম ‘মাতৃভূমি’ এবং স্লোগান ‘মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’-এর মাধ্যমে নির্মাতারা স্পষ্ট করতে চাইছেন, সিনেমাটি যুদ্ধকে মহিমান্বিত করবে না; বরং শান্তি, সহানুভূতি ও মানবতার পক্ষে অবস্থান নেবে।
ছবিটি আগে ১০ এপ্রিল মুক্তির কথা থাকলেও কিছু অংশ পুনরায় ধারণের কারণে পিছিয়ে গেছে। নতুন তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি।