জয়া ও জীবনানন্দেও ‘ঝরা পালক’ ঢাকায় মুক্তির প্রত্যাশা

বাংলা সাহিত্যের তুমুল জনপ্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে কলকাতায় নির্মিত হয়েছে সিনেমা। কবির প্রথম বই ‘ঝরা পালক’-এর নামানুসারে সিনেমার নাম রাখা হয়েছে। কবির দাম্পত্য জীবনের ধূসর অংশের গল্প নিয়েই ‘ঝরা পালক’।

বাংলা সাহিত্যের তুমুল জনপ্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে কলকাতায় নির্মিত হয়েছে সিনেমা। কবির প্রথম বই ঝরা পালক-এর নামানুসারে সিনেমার নাম রাখা হয়েছে। কবির দাম্পত্য জীবনের ধূসর অংশের গল্প নিয়েই ঝরা পালক এতে কবির স্ত্রী লাবণ্য দাশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঢাকা কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। জীবনানন্দ জয়ার জনপ্রিয়তার কথা চিন্তা করে সিনেমাটি কলকাতার পাশাপাশি ঢাকায়ও মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানালেন ছবির পরিচালক সায়ন্তন মুখোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি গণমাধ্যমকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাত্কারে নির্মাতা জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতার সিনেমা হলে ঝরা পালক মুক্তি পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তির চেষ্টা করছেন তিনি।

বাংলা সাহিত্যের নির্জনতম কবি জীবনানন্দ দাশের দুই বয়সের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে সিনেমায়। তরুণ জীবনানন্দ দাশের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিণত বয়সের কবির চরিত্রে থাকছেন ব্রাত্য বসু। সিনেমাটি বাংলাদেশে মুক্তির পরিকল্পনা নিয়ে টালিগঞ্জের নির্মাতা সায়ন্তন বলেন, জীবনানন্দ দাশের জীবনের অনেকটা অংশজুড়ে বরিশাল, বাংলাদেশ জড়িয়ে আছে। ফলে কাজটা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। জীবনানন্দ দাশের পাশাপাশি জয়া আহসানও সিনেমার আরেকটি ফ্যাক্টর।

বড়দিন উপলক্ষে আজ সিনেমার প্রোমো প্রকাশ করা হবে। কলকাতায় সেই আয়োজনে যোগ দেবেন ব্রাত্য বসু, জয়া আহসানসহ সিনেমার কলাকুশলীরা। সেই আয়োজনের আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানান পরিচালক। সিনেমা হলে মুক্তির আগে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে বলে জানান সায়ন্তন। সিনেমাটিতে কবি শনিবারের চিঠি পত্রিকার সম্পাদক সজনীকান্ত দাসের চরিত্রে দেবশঙ্কর হালদার, কবি বুদ্ধদেব বসুর চরিত্রে কৌশিক সেন কাজী নজরুল ইসলামের চরিত্রে সুপ্রিয় দত্ত অভিনয় করেছেন।

ঝরা পালক কবি জীবনানন্দ দাশের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ। ১৯২৭ সালে ভারতের কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। তখন তিনি কলকাতা সিটি কলেজে শিক্ষকতা করতেন। বইয়ের প্রচ্ছদে পাখির আটটি পালকের ছবি দেয়া ছিল। বইয়ের দাম ছিল এক টাকা। বইয়ের উৎসর্গে কারো নাম না লিখে কবি শুধু কল্যাণীয়াসু শব্দটা লেখেন। পরে জানা যায় চাচাতো বোন শোভনাকে বইটি উৎসর্গ করেন। বই প্রকাশের তিন বছর পর ১৯৩০ সালে ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী লাবণ্য দাশের সঙ্গে বিয়ে হয় জীবনানন্দ দাশের। লাবণ্য দাশ মানুষ জীবনানন্দ নামে একটি বই লিখেছেন। বইয়ে কবির স্ত্রী, সন্তান সর্বোপরি সংসারের প্রতি অনীহার কথা ফুটে উঠেছে। জীবনানন্দ লাবণ্য দাশের পারস্পরিক স্বভাব ছিল পুরোপুরি বিপরীত। কবি ছিলেন ধীর, শান্ত। তার স্ত্রী ছিলেন ধৈর্য সহিষ্ণুতা থেকে অনেক দূরে। জীবনানন্দের মৃত্যুর পর লাবণ্য দাশ লেখক ভুমেন্দ্র দাশকে ডেকে বলেছিলেন, বাংলা সাহিত্যের জন্য তিনি অনেক কিছু রেখে গেলেন হয়তো, আমার জন্য কী রেখে গেলেন বলো তো? কবির জীবন নিয়ে বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গে আগ্রহের কমতি নেই। স্বভাবত ঢাকা কলকাতার দর্শকরা সিনেমাটির জন্য অপেক্ষা করছে।

আরও