মাত্র ছয় হাজার দর্শকের সামনে খেললেও বার্সেলোনা করল গোল উৎসব। ভ্যালেন্সিয়াকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে মৌসুমের প্রথম হোম ম্যাচকে রূপ দিল উৎসবে। হ্যাটট্রিক নয়, কিন্তু ব্রেসের হ্যাটট্রিক — লোপেজ, রাফিনিয়া আর লেভানডভস্কি— তিনজনই করলেন জোড়া গোল।
এই জয়ে লা লিগার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠল কাতালানরা (১০ পয়েন্ট)। চার ম্যাচে শতভাগ জয় ধরে রেখে শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে কাতালানরা।
ক্যাম্প ন্যু সংস্কারের কাজ প্রায় নয় মাস পিছিয়ে গেছে। এর মধ্যে লুইস কোম্পানিস স্টেডিয়ামের মাঠও পোস্ট ম্যালোন কনসার্টের কারণে খেলার উপযোগী ছিল না। ফলে বার্সাকে বাধ্য হয়ে নামতে হলো ট্রেনিং গ্রাউন্ডের ছোট্ট এস্তাদি ইয়োহান ক্রুইফে, যেখানে আসন সংখ্যা মাত্র ৬ হাজার। লা লিগার নিয়ম ভেঙে বিশেষ ছাড়ে এই ম্যাচ খেলার অনুমতি দেয়া হয়।
কোচ হ্যান্সি ফ্লিক আন্তর্জাতিক বিরতির পর দলের প্রথম একাদশে অনেক পরিবর্তন এনেছিলেন। বৃহস্পতিবার নিউক্যাসেলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেকের কথা মাথায় রেখেও বার্সেলোনা শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলে।
২৯ মিনিটে ফেরান টোরেসের অ্যাসিস্ট থেকে বক্সের ভেতর থেকে গোল করে বার্সাকে এগিয়ে দেন ফারমিন লোপেজ। বিরতির পর বার্সেলোনা যেন আরো বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। ৫৮ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই দারুণ প্রভাব ফেলেন রাফিনিয়া। মার্কাস রাশফোর্ডের ক্রস থেকে ডান পায়ের ভলিতে তিনি গোল করেন। মাত্র তিন মিনিট পর লোপেজ দূরপাল্লার শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন, এবং ৬৬ মিনিটে রাফিনিয়াও পূর্ণ করেন নিজের জোড়া গোল।
৬৮ মিনিটে মাঠে নামা লেভানডফস্কি গোল করতে বেশি সময় নেননি। কাছে থেকে দুটি গোল করে তিনি বার্সেলোনার ৬-০ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ শেষে কোচ ফ্লিক বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা কী করতে চেয়েছিলাম, তা মাঠে প্রমাণ করেছি। শুধু ফারমিন লোপেজই নয়, সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং মাঠে খেলাটা উপভোগ করেছে। দল প্রতিটি পজিশনেই অসাধারণ ছিল। এই তিন পয়েন্ট আমাদের জন্য নিখুঁত, এবং এত দুর্দান্ত খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে বেছে নেয়া আমার জন্য দারুণ।‘
এই হারের পর ভ্যালেন্সিয়া ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ১৫তম স্থানে নেমে গেছে।