অস্ট্রেলিয়ায় টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। এটা নিয়ে কম সমালোচনাও হয়নি। লিটন নিজেও যে চাপে ছিলেন সেটা বোঝা গেলো আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রথম ইনিংসে। ১ রান করেই ড্রেসিংরুমের দিকে ব্যাট উঁচু করে ধরেন তিনি। সেই যে শুরু এই টেস্টটা স্বপ্নের মতো যাচ্ছে লিটনের। প্রথম ইনিংসে ফিফটির পর দ্বিতীয় ইনিংস সেঞ্চুরি আর উইকেটের পেছনে একের পর এক ক্যাচ। ব্যাটিংয়ে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়েও রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে এ উইকেটরক্ষক।
এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের জাতীয় রেকর্ডে সাবেক উইকেটকিপার খালেদ মাসুদ পাইলটের পাশে বসেছেন লিটন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে পাইলটকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন তিনি। আবুধাবিতে প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৫৩ রান করার পর উইকেটের পেছনে নিয়েছেন চারটি ক্যাচ, করেছেন একটি স্ট্যাম্পিং। দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম দুই ব্যাটারের ক্যাচও জমা পড়েছে তার গ্লাভসে। তাতেই ম্যাচে তার ডিসমিসাল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে।
এছাড়া প্রথম ইনিংসে ১১৭ বলে ১৪টি বাউন্ডারিতে ১০২ রান করেন লিটন। এ সেঞ্চুরির মধ্য দিয়ে টেস্টে উইকেটকিপার হিসেবে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়টিতে। একই সংখ্যক সেঞ্চুরি আছে বাংলাদেশের আরেক উইকেটকিপার-ব্যাটার মুশফিকুর রহিমেরও।
টেস্টে উইকেটকিপার হিসেবে ছয়টি সেঞ্চুরি আছে মহেন্দ্র সিং ধোনিরও। এ তালিকায় তাদের সঙ্গে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক, পাকিস্তানের কামরান আকমল ও ইংল্যান্ডের অ্যালেক স্টুয়ার্ট। তবে কিপিংয়ের দায়িত্ব পালন করা ম্যাচে সেঞ্চুরির সংখ্যায় আরো এগিয়ে আছেন কয়েকজন। কুমার সাঙ্গাকারা ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের এমন সেঞ্চুরি সাতটি করে। রিশাভ পান্তের আটটি, আর অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের ১২টি।
এ তালিকার শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটকিপার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। টেস্টে উইকেটকিপার হিসেবে তার সেঞ্চুরি ১৭টি। এর মধ্যে ১৪টিই করেছেন সাত নম্বর কিংবা তারও নিচে ব্যাট করতে নেমে। তাই ব্যাটিং ও কিপিং- দুই ভূমিকাতেই লিটনের সামনে যেমন বড় অর্জনের সুযোগ, তেমনি বিশ্বসেরাদের সেই তালিকায় আরও ওপরে ওঠার পথও দীর্ঘ।