বিশ্বকাপের মুকুট কবে উঠবে এশিয়া, আফ্রিকা বা উত্তর আমেরিকার মাথায়?

আফ্রিকার খেলোয়াড়দের প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে বারবার আটকে যাচ্ছে রাজনীতি, অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতির জালে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৩২ দলের মধ্যে ১৫টি এসেছিল উয়েফা ও কনমেবলের বাইরে থেকে। ২০২৬ সালে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ২৫ বা ২৬-এ। সংখ্যার দিক থেকে এটা অন্য অঞ্চলের জন্য বড় সুযোগ। একটি অনুপ্রেরণাদায়ক পারফরম্যান্স, একটি জ্বলে ওঠা প্রজন্ম—এমন কিছু হলে হয়তো বড় বিস্ময়ের জন্ম দিতেও পারে কেউ।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ এগিয়ে আসছে দ্রুতই। কিন্তু প্রশ্নটা একই রয়ে গেছে—কবে শেষ হবে ইউরোপ-লাতিন আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্য? কবে সেই স্বপ্নের সোনালী ট্রফিটি যাবে এশিয়া, আফ্রিকা বা উত্তর আমেরিকার কোনো দেশের হাতে?

২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে প্রতিযোগিতার পরিসর বাড়ছে—৩২ থেকে ৪৮ দল। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে এবার খেলতে হবে আটটি ম্যাচ। বিশ্বকাপের নতুন এই কাঠামোয় বাড়ছে সুযোগ, বাড়ছে চ্যালেঞ্জ। নতুন ফরম্যাটে একটি দলকে জিততে হবে পাঁচটি নকআউট ম্যাচ—সম্ভবত কখনোই সবগুলো ম্যাচ ৯০ মিনিটে শেষ করা যাবে না। পেনাল্টি, অতিরিক্ত সময়—সবকিছু মিলিয়ে ধাপে ধাপে বাড়ছে মানসিক চাপ। তা সত্ত্বেও, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের তালিকায় সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে আছে পরিচিত নামগুলোই— আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৩২ দলের মধ্যে ১৫টি এসেছিল উয়েফা ও কনমেবলের বাইরে থেকে। ২০২৬ সালে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ২৫ বা ২৬-এ। সংখ্যার দিক থেকে এটা অন্য অঞ্চলের জন্য বড় সুযোগ। একটি অনুপ্রেরণাদায়ক পারফরম্যান্স, একটি জ্বলে ওঠা প্রজন্ম—এমন কিছু হলে হয়তো বড় বিস্ময়ের জন্ম দিতেও পারে কেউ।

আফ্রিকার খেলোয়াড়দের প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে বারবার আটকে যাচ্ছে রাজনীতি, অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতির জালে। মরক্কো ২০২২-এ আধুনিক কোচিং ও সংগঠনের সুফল তুলে এনেছিল। তাদের সাফল্য ছিল পুরো মহাদেশের জন্যই অনুপ্রেরণা।

নাইজেরিয়া, সেনেগাল, আইভরি কোস্টের মতো দেশগুলোর হাতে প্রয়োজন শুধু একটি যুগান্তকারী প্রজন্ম আর একজন বাস্তববাদী, বিচক্ষণ কোচ। কিন্তু সত্যি বলতে, আফ্রিকার পক্ষে বিশ্বকাপ জেতা এখনই খুব সম্ভব বলে মনে হয় না। তাদের অনেক সেরা খেলোয়াড়ই এখন প্রতিনিধিত্ব করছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে। ক্লাব ফুটবলে ঘরোয়া বিনিয়োগ বাড়ছে। খেলোয়াড়রাও ইউরোপে খেলছেন নিয়মিতই। তাদের পারফরম্যান্স আগের চেয়ে ধারাবাহিক। অন্যদিকে, সৌদি আরব ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপে অংশ নেয়া, বিপুল আর্থিক বিনিয়োগ, রাজনৈতিক ইচ্ছা ও ফুটবলে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্য—সবকিছু মিলে সৌদি আরবকেও একটি সম্ভাব্য শক্তি হিসেবে ভাবা যেতেই পারে। তবে, তাদের পারফরম্যান্স কতটা টেকসই হবে, তা সময়ই বলবে।

উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর অর্থ আছে। তিনটি দেশই ২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক। তাই হোম অ্যাডভান্টেজ থাকবে নিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকা লিওনেল মেসি আমেরিকা যাওয়ার পর এমএলএস লিগ উন্নত হচ্ছে, অর্থও প্রচুর। মেক্সিকোর আছে ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা। কানাডার রয়েছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। কিন্তু তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—উচ্চ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতার অভাব।

যদি প্রশ্ন হয়, ইউরোপ–দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী কোন অঞ্চল থেকে আসবে, তাহলে সবচেয়ে সম্ভাব্য জবাব হতে পারে— এশিয়া। টেকসই উন্নয়ন, বিনিয়োগ, এবং বিশ্বমানে প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এশিয়ার কোনো দেশের মাথায় বিশ্বসেরার মুকুট উঠতেও পারে।

তবে ফুটবল শেষমেশ এক বিস্ময়কর খেলা। মরক্কোর মতো দল যখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়, তখন প্রশ্ন জাগেই—পরবর্তী বিস্ময়টা কে সৃষ্টি করবে?

আরও