২০৩০ বিশ্বকাপের ভেন্যু: মরক্কোর পতন, বার্নাব্যুর উত্থান?

ফাইনাল ম্যাচে সেনেগালিজ সমর্থকদের মাঠ দখলের চেষ্টা এবং খেলোয়াড়দের মাঠ ত্যাগের হুমকি মরক্কোকে নেতিবাচকভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। ভাইরাল হওয়া কিছু চিত্র আয়োজক দেশ হিসেবে মরক্কোর সক্ষমতা ও খেলোয়াড়ি মানসিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে সেনেগালের জয়ের উল্লাসের সঙ্গে এখন আলোচনায় মাঠের বাইরের বিতর্ক। ফাইনাল ম্যাচে সেনেগালিজ সমর্থকদের মাঠ দখলের চেষ্টা এবং খেলোয়াড়দের মাঠ ত্যাগের হুমকি মরক্কোকে নেতিবাচকভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। যদিও মরক্কো দাবি করছে নিরাপত্তার অভাবের জন্য সেনেগাল দায়ী, তবে ভাইরাল হওয়া কিছু চিত্র আয়োজক দেশ হিসেবে মরক্কোর সক্ষমতা ও খেলোয়াড়ি মানসিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। খবর এএস।

তোয়ালে কাড়াকাড়ি ও 'নোংরা' কৌশল

ম্যাচ চলাকালীন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্ড মেন্দির হাতের তোয়ালে নিয়ে মরক্কোর বল বয়, এমনকি কিছু খেলোয়াড়ের টানাটানির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে গ্লাভস শুকনা রাখার জন্য মেন্দি যে তোয়ালে ব্যবহার করছিলেন, তা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে স্বাগতিকরা, যাতে তিনি বল গ্রিপ করতে সমস্যায় পড়েন। সেমিফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষেও মরক্কো এই একই কৌশল অবলম্বন করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিষক্রিয়া ও অব্যবস্থাপনার গুরুতর অভিযোগ

ম্যাচ শেষে সেনেগাল দল আরো ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছে। তাদের তিন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় দিয়াতা, নিয়াং এবং পাপে মাতার সার— ম্যাচের আগে হোটেল থেকে দেয়া খাবারে বিষক্রিয়ার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এছাড়া রাবাত স্টেশনে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তা না পাওয়া, ৬৭ হাজার আসনের স্টেডিয়ামে মাত্র ৩ হাজার টিকিট বরাদ্দ এবং মরক্কোর স্পোর্টস কমপ্লেক্সেই অনুশীলন করতে বাধ্য করার মতো বিষয়গুলো সেনেগালকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। তাদের দাবি, একই কমপ্লেক্সে অনুশীলনের সুযোগ নিয়ে মরক্কো তাদের কৌশল চুরি করেছে।

রেফারির সিদ্ধান্ত ও ‘রাজকীয়’ অনীহা

ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি দেয়া নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মাঠ। ভিএআর-এর মাধ্যমে ইব্রাহিমের ওপর ফাউলের দায়ে মরক্কোকে পেনাল্টি দেয়ার ঠিক আগেই সেনেগালের একটি গোল বাতিল করা হয়। এই পক্ষপাতদুষ্ট রেফারিংয়ের অভিযোগেই সেনেগাল দল প্রায় ১৫ মিনিট মাঠের বাইরে ছিল। টুর্নামেন্ট শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও মরক্কোর রাজার ভাই প্রিন্স মৌলে রাশিদ সেনেগালিজ খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দিতে অনীহা প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে, যা কূটনৈতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনালে কি এর প্রভাব পড়বে?

২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক স্পেন, মরক্কো এবং পর্তুগাল। তবে ফাইনাল ম্যাচটি কোথায় হবে— স্পেনের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু নাকি মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছে।

মরক্কো কাসাব্লাঙ্কায় বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফিফাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু আফকন ফাইনালে অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ত্রুটি এবং খেলোয়াড়দের সাথে অসদাচরণের যে চিত্র বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে, তা মরক্কোর দাবিকে দুর্বল করে দিয়েছে। বিপরীতে, রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ বার্নাব্যু তার দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং সফল ইভেন্ট আয়োজনের রেকর্ডের কারণে ফিফার কাছে অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য মনে হচ্ছে।

মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন অবশ্য পিছু হটছে না। তারা সেনেগালের বিরুদ্ধে ফিফা ও ক্যাফ-এর কাছে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ‘মরক্কোর পতন আর বার্নাব্যুর উত্থান’ এখন কেবল সময়ের ব্যাপার হতে পারে।

আরও