শুক্রবার মিরপুর টেস্টে আয়ারল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। ২০০০ সালে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৩৭টি টেস্ট খেলে টাইগাররা ১৭টিতে জয়ের স্বাদ পেল। এ সময় তারা হেরেছে ১০২টিতে, আর ড্র করার কৃতিত্ব দেখায় ১৮টিতে।
সর্বশেষ নয় টেস্টের মধ্যে আটটিতেই হেরে যাওয়া বাংলাদেশ অবশেষে পেল জয়ের স্বাদ। গত বছর জানুয়ারিতে মাউন্ট মঙ্গানুইতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর এ প্রথম টেস্ট জিতল টাইগাররা। মাঝে অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ও মিরপুরে ভারতের সঙ্গে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল টাইগাররা।
জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ১৮ ম্যাচ খেলে আটটি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ২০ ম্যাচ খেলে চারটি, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ছয় ম্যাচ খেলে একটি, ইংল্যান্ডের সঙ্গে ১০ ম্যাচ খেলে একটি, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ১৭ ম্যাচ খেলে একটি, শ্রীলংকার সঙ্গে ২৪ ম্যাচ খেলে একটি ও আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে এক ম্যাচ খেলে জিতেছে বাংলাদেশ।
যাদের বিপক্ষে এখনো টেস্ট জেতা হয়নি—ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তান। ভারতের সঙ্গে ১৩ ম্যাচে ১১টি হার, পাকিস্তানের সঙ্গে ১৩ ম্যাচে ১২ হার, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ১৪ ম্যাচে ১২টি হার ও আফগানিস্তানের সঙ্গে এক ম্যাচ খেলে হেরেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ সর্বোচ্চ আটটি টেস্ট জিতেছে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চারটি টেস্টে হারায় টাইগাররা। একটি করে জয় এসেছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা ও আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে।
উল্লেখ্য, আয়ারল্যান্ড ছাড়া আগে প্রতিটি দলের বিপক্ষেই প্রথম দেখায় হেরেছে বাংলাদেশ। এবারই ব্যতিক্রম ঘটল!
বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট খেলে ২০০০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে। ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারের স্বাদ দেয় পরাক্রমশালী ভারত।
৩৫তম ম্যাচে প্রথম জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ২২৬ রানে হারায় বাংলাদেশ।
এছাড়া নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪ উইকেটে, শ্রীলংকাকে ৪ উইকেটে ও জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। রানের হিসাবে জিম্বাবুয়েকে ২২০ রানে, ২১৮ রানে, ১৮৬ রানে, ১৬২ রানে ও ১৪৩ রানে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডকে ১০৮ রানে, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯৫ ও ৬৪ রানে এবং অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছে টাইগাররা।
২৩ বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রতিপক্ষকে ইনিংস ব্যবধানে দুবার হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইনিংস ও ১৮৪ রানে এবং একই মাঠে ২০২০ সালে জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ১০৬ রানে হারায় টাইগাররা।
টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ৬৩৮। গলে ২০১৩ সালে এ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে মুশফিকুর রহিম ২০০, মোহাম্মদ আশরাফুল ১৯০ ও নাসির হোসেন ১০০ রান করেছিলেন। ম্যাচটি ড্র করার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল টাইগাররা। সব মিলিয়ে ১৩৭ টেস্টের ইতিহাসে ১১ বার পাঁচশোর্ধ্ব সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ।
টেস্টে বাংলাদেশী ব্যাটারদের রয়েছে পাঁচটি ডাবল সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ২১৯ রানের ইনিংস খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। ২০১৮ সালে মিরপুর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ডাবলের কীর্তি গড়েন তিনি। এছাড়া শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও দুটি ডাবল রয়েছে মুশফিকের। সব মিলিয়ে তিনটি ডাবল করেছেন তিনি। ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান (২১৭) ও তামিম ইকবালেরও (২০৬)।
মুমিনুল হক দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১১টি সেঞ্চুরি করেছেন। এছাড়া তামিম ইকবাল ১০টি ও মুশফিকুর রহিম ১০টি সেঞ্চুরি করেছেন।
টেস্টে সর্বোচ্চ ২৩৩ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। এছাড়া তাইজুল ইসলাম ১৭৫ উইকেট ও মেহেদী হাসান মিরাজ ১৪৮ উইকেট। ইনিংসে সেরা বোলিং করেছেন তাইজুল ইসলাম (৮/৩৯)। এছাড়া একবার ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সাত উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব আছে সাকিব, মিরাজ ও এনামুল হক জুনিয়রের।