২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ইতিহাসের অন্যতম খারাপ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে তো দূরের কথা, কোনো শটই নিতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে তৃতীয় দল হিসেবে লজ্জার রেকর্ড গড়ল আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপটার তথ্য বলছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি। ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের ৯০০টি ম্যাচের তথ্য বিশ্লেষণে এটি মাত্র তৃতীয় ঘটনা, যেখানে কোনো দল পুরো ম্যাচে একবারের জন্যও শট নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এর আগে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল কোস্টারিকা। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে এবং ২০২২ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেনি মধ্য আমেরিকার দলটি। এবার সেই অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকায় যুক্ত হলো আর্জেন্টিনার নাম।
ফাইনালজুড়ে স্পেনের হাই-প্রেসিং কৌশল, বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সংগঠিত রক্ষণভাগ আর্জেন্টিনাকে কার্যত আক্রমণের সুযোগই দেয়নি। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের চাপ সামলাতে হিমশিম খেয়েছে লিওনেল মেসির দল। ফলে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা বারবার থেমে গেছে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের আগ্রাসী প্রেসিংয়ে।
বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার মতো দলের জন্য এমন পরিসংখ্যান বিরলই বলা যায়। বিশেষ করে লিওনেল মেসির মতো আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থাকা দলের কাছ থেকে গোলমুখে একটি শটও না আসা বিশ্বকাপের ফাইনালে অন্যতম বিস্ময়কর পরিসংখ্যান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবল এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ আর্জেন্টিনাকে পুরো ম্যাচে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১৯৬৬ সালের পর মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো শট নিতে না পারার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের অংশ হয়ে যায় আর্জেন্টিনা।