পাকিস্তান সরকার আসন্ন টি–২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের বৈশ্বিক ইকোসিস্টেমে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আইসিসি বলেছে, তারা আশা করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এমন একটি সমাধান খুঁজবে, যা সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে। খবর ক্রিকইনফো।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের। বাণিজ্যিকভাবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ ম্যাচ হিসেবে ধরা হয় এ মহারণকে। পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণার তিন ঘণ্টা পর আইসিসি বিবৃতি দিয়ে জানায়, তারা এখনো পিসিবির আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একটি বৈশ্বিক আসরে সব দলের সমান শর্তে অংশগ্রহণের মৌলিক নীতির সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত খাপ খায় না। আইসিসি টুর্নামেন্টগুলো অখণ্ডতা, প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা এমন সিলেক্টিভ অংশগ্রহণের ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।‘
আইসিসি পিসিবিকে এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল নিয়ে ভাবার পরামর্শ দিয়েছে এবং অবিলম্বে ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য’ সমাধানের পথ খুঁজতে বলেছে।
বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে ২৪ জানুয়ারি তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয়া হয়। পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যারা বিকল্প ভেন্যুর পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করেছিল। এরপর পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি আইসিসির বিরুদ্ধে ভারতকে প্রাধান্য দেয়ার ‘দ্বিমুখী নীতি’র অভিযোগ তুলেছিল। এর প্রতিবাদেই পাকিস্তান সরকার এখন ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে মাঠে না নামলে ভারত সরাসরি দুই পয়েন্ট পাবে এবং ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য ‘ওয়াকওভার’ হিসেবে গণ্য হবে। আইসিসির ধারা ১৬.১০.৭ অনুযায়ী, ম্যাচ বয়কট করলে ডিফোল্টিং দল (পাকিস্তান) পুরো ২০ ওভার খেলেছে ধরে নিয়ে তাদের রানরেট হিসাব করা হবে, যা পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থানকে তলানিতে নামিয়ে দিতে পারে। তবে ভারতের রানরেটে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।