১৩৭৫ দিন পর টেনিসে ফিরেই জয়ী সেরেনা উইলিয়ামস

নিজের পারফরম্যান্স সম্পর্কে সেরেনা উইলিয়ামস ছিলেন বিনয়ী। রিপোর্ট কার্ডে নিজেকে কত নম্বর দেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা কী মনে করেন? সি-মাইনাস?

সময়কে যেন উল্টো ঘুরিয়ে দিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। টেনিস থেকে ১ হাজার ৩৭৫ দিন দূরে থাকার পর লন্ডনের কুইন্স ক্লাবে দুর্দান্ত জয়ে ফিরলেন কোর্টে ।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, অ্যান্ডি মারে অ্যারেনায় গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্বের অন্যতম সেরা এ টেনিস কিংবদন্তির প্রত্যাবর্তন দেখতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।

কানাডার কিশোরী ভিক্টোরিয়া এমবোকোর সঙ্গে ডাবলসে খেলতে নেমে ৪৪ বছর বয়সী মার্কিন তারকাকে মোটেও ছন্দহীন মনে হয়নি। তারা ৭-৬ (৭-২), ৬-২ ব্যবধানে তৃতীয় বাছাই জুটি এরিন রাউটলিফ ও নিকোল মেলিখার-মার্টিনেজকে হারিয়ে চমক দেখান।

ম্যাচ শেষে সেরেনা উইলিয়ামস বলেন, ‘দারুণ মজা হয়েছে। ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে খেলতে সত্যিই অনেক ভালো লেগেছে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোয় সে অসাধারণ খেলেছে এবং দলকে এগিয়ে নিয়েছে। আমি তার ওপর নির্ভর করতে পেরেছি। আমরা আগে কখনো একসঙ্গে খেলিনি, কিন্তু সবকিছু খুব স্বাভাবিক মনে হয়েছে।’

ফিরে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি মজা করে বলেন, ‘আমার আর কিছু করার ছিল না। বাড়িতে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আমার সন্তানদেরও গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে, তাই ভাবলাম কেন নয়?’

কুইন্স ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে পুরুষদের টুর্নামেন্ট আয়োজন করত—বিষয়টি সামনে রেখে সেরেনা বলেন, ‘আমি কখনো এখানে খেলতে পারিনি, কারণ আগে শুধু পুরুষদের প্রতিযোগিতাই হতো। এত ঐতিহাসিক একটি ভেন্যুতে খেলতে পারা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি।’

২০২২ সালে সেরেনা উইলিয়ামস বলেছিলেন, তিনি টেনিস থেকে ‘ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছেন’। ২৭ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম একক শিরোপা জিতেছেন।

গত বছর তার নাম ডোপ-পরীক্ষার তালিকাভুক্ত খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা যাওয়ার পর থেকেই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ফেব্রুয়ারিতে ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ইন্টেগ্রিটি এজেন্সি (আইটিআইএ)-এর পুনর্বহাল তালিকায় তার নাম ওঠার পর সেই জল্পনা আরো বাড়ে।

তবে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হয় মাত্র গত সপ্তাহে। ওই সময় ঘোষণা আসে, কুইন্স ক্লাবের ডাবলস প্রতিযোগিতায় ১৯ বছর বয়সী এমবোকোর সঙ্গে খেলবেন সেরেনা উইলিয়ামস। এরপরের নয় দিন ছিল ঘটনাবহুল।

সেরেনা বলেন, তার ‘কিছুই প্রমাণ করার নেই’ এবং মূল অনুপ্রেরণা ছিল মেয়েদের সামনে খেলার সুযোগ পাওয়া।

আট বছর বয়সী অলিম্পিয়া এবং ২০২৩ সালে জন্ম নেয়া আদিরা দর্শকসারিতে তাদের বাবার সঙ্গে বসে খেলা দেখেছে। তারা মায়ের সেইসব শটও দেখেছে, যেগুলো তাকে টেনিস ইতিহাসের কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে।

অবশ্য সেরেনা জানান, মেয়েরা হয়তো তার খেলায় ততটা মুগ্ধ হয়নি। হাসতে হাসতে বলেন, ‘আদিরা খেলনার দোকানে যেতে চেয়েছিল আর অলিম্পিয়া জানতে চেয়েছিল রাতের খাবারে কী আছে।’

এর আগে রোববার তিনি বলেছিলেন, ফিরে এসে জয়-পরাজয় গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু তার মতো একজন চ্যাম্পিয়নের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব যে জেগে উঠবে, তা ছিল অবশ্যম্ভাবী। সাতবারের উইম্বলডন একক চ্যাম্পিয়নের শক্তিশালী গ্রাউন্ডস্ট্রোকগুলো এখনো আগের মতোই ধারালো মনে হয়েছে। তার সার্ভেও ছিল পুরোনো সেই তেজ। একটি সার্ভের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২০ মাইল, যা দর্শকদের মধ্যে আলোড়ন তোলে।

তবে নিজের পারফরম্যান্স সম্পর্কে সেরেনা উইলিয়ামস ছিলেন বিনয়ী। রিপোর্ট কার্ডে নিজেকে কত নম্বর দেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা কী মনে করেন? সি-মাইনাস?’

আরও